Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

এবার খাঁড়া নামল বরানগরে! মহিলার শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশের জালে ‘তোলাবাজ’ তৃণমূল নেতা শংকর রাউত

এবার খাঁড়া নামল বরানগরে! মহিলার শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশের জালে ‘তোলাবাজ’ তৃণমূল নেতা শংকর রাউত
প্রতীকী ছবি

বরানগর:  এলাকায় ‘তোলাবাজ’ হিসেবে দীর্ঘদিনের কুখ্যাতি ছিলেনই, এবার এক মহিলার শ্লীলতাহানি, মারধর ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বরানগরের দাপুটে আইএনটিটিইউসি নেতা শঙ্কর রাউত। তাঁর সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত আরও তিন তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে বরানগর থানার পুলিশ। ধৃতদের শনিবারই বারাকপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনকয়েক আগে বরানগর পুরসভার লেবুবাগান এলাকার এক মহিলার ওপর চড়াও হয়ে তাঁক মারধর, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুগামীর বিরুদ্ধে। মহিলার চিৎকার শুনে পাড়ার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অর্পণ দত্ত ও দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনি নামে দুই তৃণমূল কর্মীকে ধরে গণপিটুনি দিতে শুরু করেন। নিজের অনুগামীরা আক্রান্ত হয়েছেন খবর পেয়েই দলবল নিয়ে সেখানে স্করপিও ছুটিয়ে হাজির হন কুখ্যাত শ্রমিক নেতা শঙ্কর। তিনি জনরোষের হাত থেকে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিজের গাড়িতে তুলে চম্পাট দেন এবং তাঁদের বরানগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। পরবর্তীতে ওই নির্যাতিতা মহিলা বরানগর থানায় শঙ্কর ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শুক্রবার গভীর রাতে বরানগর হাসপাতালে অতর্কিত অভিযান চালায় পুলিশ। হাসপাতাল চত্বর ঘেরাও করে মূল অভিযুক্ত শঙ্কর রাউ-তসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ চার অনুগামী — অর্পণ দত্ত, দেবজ্যোতি বণিক, দেবাশিস দাস ও সুবল দেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে অর্পণ দাসের অপরাধের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগেও এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে রড দিয়ে মারধরের ঘটনায় বেশ কিছুদিন জেল খেটেছিল সে। সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরে এসে ফের নতুন করে তাণ্ডব শুরু করেছিল অর্পণ।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইএনটিটিইউসি নেতার তকমা গায়ে সেঁটে বরানগর চত্বরে একচেটিয়া দাপট ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চালাতেন শঙ্ককর। এলাকার যে কোনও অটো, টোটো স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বাড়ি তৈরি বা প্রোমোটিংয়ের কাজ — সর্বত্রই মোটা অঙ্কের তোলা আদায় করা তাঁর রোজকার দস্তুর ছিল।


রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বাংলায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং নারী নিগ্রহের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। প্রশাসনের সেই কড়া বার্তার পরই বরানগরের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শঙ্করের হাজতবাসের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন লেবুবাগান এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা।

বিষয় : SuvenduAdhikari RXTORTIONZEROTOLENANCE BARRACKPORECOURT SHANKARRAUT INTTUCBENGAL

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


এবার খাঁড়া নামল বরানগরে! মহিলার শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশের জালে ‘তোলাবাজ’ তৃণমূল নেতা শংকর রাউত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image
বরানগর:  এলাকায় ‘তোলাবাজ’ হিসেবে দীর্ঘদিনের কুখ্যাতি ছিলেনই, এবার এক মহিলার শ্লীলতাহানি, মারধর ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বরানগরের দাপুটে আইএনটিটিইউসি নেতা শঙ্কর রাউত। তাঁর সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত আরও তিন তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে বরানগর থানার পুলিশ। ধৃতদের শনিবারই বারাকপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনকয়েক আগে বরানগর পুরসভার লেবুবাগান এলাকার এক মহিলার ওপর চড়াও হয়ে তাঁক মারধর, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুগামীর বিরুদ্ধে। মহিলার চিৎকার শুনে পাড়ার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অর্পণ দত্ত ও দেবজ্যোতি বণিক ওরফে বনি নামে দুই তৃণমূল কর্মীকে ধরে গণপিটুনি দিতে শুরু করেন। নিজের অনুগামীরা আক্রান্ত হয়েছেন খবর পেয়েই দলবল নিয়ে সেখানে স্করপিও ছুটিয়ে হাজির হন কুখ্যাত শ্রমিক নেতা শঙ্কর। তিনি জনরোষের হাত থেকে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিজের গাড়িতে তুলে চম্পাট দেন এবং তাঁদের বরানগর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। পরবর্তীতে ওই নির্যাতিতা মহিলা বরানগর থানায় শঙ্কর ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শুক্রবার গভীর রাতে বরানগর হাসপাতালে অতর্কিত অভিযান চালায় পুলিশ। হাসপাতাল চত্বর ঘেরাও করে মূল অভিযুক্ত শঙ্কর রাউ-তসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ চার অনুগামী — অর্পণ দত্ত, দেবজ্যোতি বণিক, দেবাশিস দাস ও সুবল দেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে অর্পণ দাসের অপরাধের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগেও এক ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে রড দিয়ে মারধরের ঘটনায় বেশ কিছুদিন জেল খেটেছিল সে। সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরে এসে ফের নতুন করে তাণ্ডব শুরু করেছিল অর্পণ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইএনটিটিইউসি নেতার তকমা গায়ে সেঁটে বরানগর চত্বরে একচেটিয়া দাপট ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চালাতেন শঙ্ককর। এলাকার যে কোনও অটো, টোটো স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বাড়ি তৈরি বা প্রোমোটিংয়ের কাজ — সর্বত্রই মোটা অঙ্কের তোলা আদায় করা তাঁর রোজকার দস্তুর ছিল।রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বাংলায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং নারী নিগ্রহের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। প্রশাসনের সেই কড়া বার্তার পরই বরানগরের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শঙ্করের হাজতবাসের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন লেবুবাগান এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার