আরামবাগ: দলীয় কার্যালয় মানেই সেখানে কর্মীরা আসবেন, বৈঠক হবে, সাংগঠনিক আলোচনা হবে— এটাই তো স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পরই আরামবাগের এক দলীয় কার্যালয়ে মিলল এক হাড়হিম করা ছবি। অফিস ঘর যেন আস্ত এক সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর! আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃণমূলের সেই হাইপ্রোফাইল পার্টি অফিসে হানা দিয়ে খোদ পুলিশ আধিকারিকদেরই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। অফিস ঘরের ভেতরে থরে থরে সাজানো একাধিক ধারালো অস্ত্র, আর ছাদে পা রাখতেই দেখা গেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কাঁড়ি কাঁড়ি তাজা বোমা। এই মারাত্মক কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পলাতক দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা জেলা সাধারণ সম্পাদক রাকেশ আলিকে অবশেষে রবিবার গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক পরই আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওই তৃণমূল কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বারুদ মজুতের খবর আসে পুলিশের কাছে। তড়িঘড়ি বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে অভিযান চালাতেই উদ্ধার হয় মারাত্মক সব অস্ত্রশস্ত্র। পার্টি অফিসে কেন এই যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি? সেই তদন্ত শুরু হতেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন আরামবাগ শহরের ত্রাস বলে পরিচিত তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক রাকেশ আলি। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার ওত পেতে বসে থাকা আরামবাগ থানার পুলিশ তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পাকড়াও করে।
রাকেশ আলির এই গ্রেপ্তারি নিয়ে ইতিমধ্যেই আরামবাগের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “আরামবাগকে যাঁরা এতদিন ধরে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর করে তুলেছিল, রাকেশ আলি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ও আসলে তৃণমূলের একজন বড় ক্রিমিনাল। যাঁর নেতৃত্বে ওই পার্টি অফিস চলত, সেখান থেকেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার হয়েছে।” তবে শুধু এই একটি অফিসই নয়, ভোটের ফলাফল আসতেই আরামবাগে তৃণমূলের আরও একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বাক্স ভর্তি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাসকদলের স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জয় ঘড়ুইয়ের প্রত্যক্ষ মদতেই এলাকায় বড়সড় হিংসা ছড়ানোর এই ভয়ঙ্কর ছক কষা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর এই দাপুটে নেতা পুলিশের জালে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ। আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাকেশ আলির একচ্ছত্র দাপট ও ভয়ের সাম্রাজ্য তৈরি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নেতার বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক মজুত রাখার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী নেতার হাত রয়েছে এবং এই বিপুল পরিমাণ বারুদ কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে আরামবাগ থানার পুলিশ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন