লন্ডন: সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে বিদেশের মাটিতে ইতিহাস গড়ল এক সাধারণ ভারতীয় পরিবার। কোনো রূপকথার গল্প নয়, একেবারে বাস্তবেই মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ব্রিটেনের দুটি আলাদা কাউন্সিলের মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন মা এবং ছেলে! ২০১৩ সালে হরিয়ানার রোহতক থেকে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া এই পরিবারের সাফল্য আজ আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে নিজেদের শিকড়কে না ভুলে, কঠোর পরিশ্রম আর সমাজসেবার ওপর ভর করে তাঁরা যে নজির গড়েছেন, তা দেখে আজ গর্বিত প্রতিটি ভারতবাসী।
হরিয়ানার রোহতক থেকে যখন এই পরিবারটি ব্রিটেনে আসে, তখন বড় ছেলে তুষার কুমারের বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। নতুন দেশে এসে মানিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ের মাঝেই তুষারের মনে দানা বেঁধেছিল সমাজসেবার মন্ত্র। মাত্র ২০ বছর বয়সে লন্ডনে কলেজে পড়ার সময়ই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে চমক দিয়েছিলেন তিনি। আর এবার মাত্র ২৩ বছর বয়সে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস লিখলেন তুষার। তিনিই এখন ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তুষার মনে করেন, মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে বয়স কোনোদিনই বাধা হতে পারে না, আর নিজের কাজের মাধ্যমে সেই কথাই প্রমাণ করে দেখালেন এই তরুণ তুর্কি।
তুষারের এই সাফল্যের ঠিক সাত দিন পরেই এলো আরও এক যুগান্তকারী খবর। ২০ মে হার্টস্মিয়ার বরো কাউন্সিলের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন তুষারের মা পরভীন রানি। তিনিই প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী, যিনি এই সম্মানীয় পদের দায়িত্বভার সামলাবেন। অবশ্য মেয়র হওয়ার আগেও তিনি এই কাউন্সিলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট সদস্য, ডেপুটি মেয়র এবং ফিল্ম-টেলিভিশনের গ্লোবাল এনভয় হিসেবে দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। ২০২৩ সালে প্রথমবার মা ও ছেলে দুজনেই কাউন্সিলর নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন, আর এবার দুজনেই পৌঁছে গেলেন মেয়রের আসনে।
তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া অত্যন্ত গর্বের সাথে জানিয়েছেন যে, ব্রিটেনে আসার পর থেকেই মা ও ছেলে দুজনেই স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। তুষার বর্তমানে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে মাস্টার্স করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর তাঁর ছোট ভাইও একই কলেজের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ট্রাস্টি। তবে বিদেশের মাটিতে এই আকাশছোঁয়া সাফল্য পেলেও নিজেদের মাটিকে কোনোদিন ভোলেননি তাঁরা। সুনীলবাবু জানান, প্রতি বছরই নিয়ম করে তাঁরা হরিয়ানার রোহতকে নিজেদের দেশের বাড়িতে আসেন এবং সন্তানদেরও ভারতীয় মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছেন। এই ভারতীয় পরিবারের জোড়া সাফল্যে আজ গোটা বিশ্বে ভারতের নাম আরও উজ্জ্বল হলো।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন