Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

অনুপ্রবেশ রুখতে অ্যাকশন মোডে রাজ্য, নির্দেশিকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই ৩ বাংলাদেশির

অনুপ্রবেশ রুখতে অ্যাকশন মোডে রাজ্য, নির্দেশিকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই ৩ বাংলাদেশির
ছবি সংগৃহীত

লালগোলা: রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যা মোকাবিলায় ক্ষমতা দখলের পরই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নীতি নিল নয়া সরকার। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণের লক্ষ্যে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিন দুয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার লালগোলার হোল্ডিং সেন্টার 'পদ্মাভবন'-এ তিনজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে এনে রাখা হলো। জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে দ্রুতই তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে।


রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার এই বড়সড় পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বাংলায় অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এত দিন লাগাতার সরব ছিল কেন্দ্র। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ — বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নির্বাচনী প্রচারে এসে এই সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাতেন। সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও এই অনুপ্রবেশ অত্যন্ত বড় এবং নির্ণায়ক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতেই কেন্দ্রের অনুসৃত কড়া নীতি মেনে মাঠে নেমে পড়ল শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। গত ২৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়, যেখানে প্রতিটি জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই লালগোলার পদ্মাভবনের তিনতলায় তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে প্রথম দফায় তিনজন বাংলাদেশিকে এনে রাখা হল।


সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী হোল্ডিং সেন্টারে মূলত তিন ধরনের ব্যক্তিদের রাখা হবে:

প্রথমত: সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশ সরাসরি এখানে পাঠাবে।

দ্বিতীয়ত: যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী বর্তমানে জেলবন্দি, তাঁদের আর নতুন করে আদালতে পেশ না করে সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হবে।

তৃতীয়ত: সাজার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও যাঁদের প্রত্যর্পণ আইনি জটিলতার কারণে আটকে রয়েছে, সেইসব বাংলাদেশিদেরও ঠাঁই হবে এই সেন্টারে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, লালগোলার ওই অস্থায়ী শিবিরে আপতত যে তিনজনকে রাখা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের নাম-পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য এখনও পর্যন্ত খোলসা করেনি পুলিশ।


এদিকে সরকারের এই চরম পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেছে। কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র সন্দেহের বশে কেন এভাবে সাধারণ মানুষকে তুলে এনে আটকে রাখা হচ্ছে? একইসঙ্গে সীমান্ত পাহারার গলদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের পাল্টা তোপ, বিএসএফ তাহলে সীমান্তে পাহারার নামে এত দিন কী করছিল? সব মিলিয়ে হোল্ডিং সেন্টার চালুর প্রথম দিন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে।

বিষয় : BengalPolitics SuvenduAdhikari BorderSecurity lalgolaholdingcenter

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


অনুপ্রবেশ রুখতে অ্যাকশন মোডে রাজ্য, নির্দেশিকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে ঠাঁই ৩ বাংলাদেশির

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image
লালগোলা: রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যা মোকাবিলায় ক্ষমতা দখলের পরই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নীতি নিল নয়া সরকার। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণের লক্ষ্যে ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিন দুয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা জারির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার লালগোলার হোল্ডিং সেন্টার 'পদ্মাভবন'-এ তিনজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে এনে রাখা হলো। জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে দ্রুতই তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হবে।রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার এই বড়সড় পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। বাংলায় অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এত দিন লাগাতার সরব ছিল কেন্দ্র। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ — বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার নির্বাচনী প্রচারে এসে এই সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাতেন। সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও এই অনুপ্রবেশ অত্যন্ত বড় এবং নির্ণায়ক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। এবার রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতেই কেন্দ্রের অনুসৃত কড়া নীতি মেনে মাঠে নেমে পড়ল শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। গত ২৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়, যেখানে প্রতিটি জেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হোল্ডিং সেন্টার গড়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই লালগোলার পদ্মাভবনের তিনতলায় তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে প্রথম দফায় তিনজন বাংলাদেশিকে এনে রাখা হল।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী হোল্ডিং সেন্টারে মূলত তিন ধরনের ব্যক্তিদের রাখা হবে:প্রথমত: সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের পুলিশ সরাসরি এখানে পাঠাবে।দ্বিতীয়ত: যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী বর্তমানে জেলবন্দি, তাঁদের আর নতুন করে আদালতে পেশ না করে সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হবে।তৃতীয়ত: সাজার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরেও যাঁদের প্রত্যর্পণ আইনি জটিলতার কারণে আটকে রয়েছে, সেইসব বাংলাদেশিদেরও ঠাঁই হবে এই সেন্টারে।প্রশাসন সূত্রের খবর, লালগোলার ওই অস্থায়ী শিবিরে আপতত যে তিনজনকে রাখা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই পুরুষ এবং তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের নাম-পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য এখনও পর্যন্ত খোলসা করেনি পুলিশ।এদিকে সরকারের এই চরম পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেছে। কড়া সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র সন্দেহের বশে কেন এভাবে সাধারণ মানুষকে তুলে এনে আটকে রাখা হচ্ছে? একইসঙ্গে সীমান্ত পাহারার গলদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের পাল্টা তোপ, বিএসএফ তাহলে সীমান্তে পাহারার নামে এত দিন কী করছিল? সব মিলিয়ে হোল্ডিং সেন্টার চালুর প্রথম দিন থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার