Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তৃণমূলের ১৪ কাউন্সিলারের গণইস্তফা, ভাঙল কাঁথি পুরবোর্ড! রাশ হাতে নিলেন মহকুমাশাসক

তৃণমূলের ১৪ কাউন্সিলারের গণইস্তফা, ভাঙল কাঁথি পুরবোর্ড! রাশ হাতে নিলেন মহকুমাশাসক
ছবি সংগৃহীত

কাঁথি: নজিরবিহীন রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে ভেঙে পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁথি পুরসভার বোর্ড। ভাইস চেয়ারম্যান-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন কাউন্সিলার একসঙ্গে পদত্যাগ করায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর আইনি ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনে সোমবার থেকেই কাঁথির মহকুমাশাসক (SDO) ধুমল প্রতীক অশোক পুরসভার নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী পুরনির্বাচন বা নতুন বোর্ড গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বেই পুরসভার যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ায় মহকুমাশাসককে সহযোগিতা করবেন বর্তমান কাউন্সিলাররা।


উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পুরভোটে কাঁথি পুরসভার ২১টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে বিপুল জয় পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি আসনগুলির মধ্যে তিনটিতে বিজেপি এবং একটিতে নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক সমীকরণের বদলে তৃণমূলের একজন কাউন্সিলার পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ায় বিজেপির আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারে। তবে এবার একলপ্তে তৃণমূলের ১৪ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দেওয়ায় শাসকদলের বোর্ড গরিষ্ঠতা হারিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়ল।


সোমবার মহকুমাশাসক যখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসকের দায়িত্বভার বুঝে নেন, তখন পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির তিন কাউন্সিলার অরূপকুমার দাস, সুশীল দাস ও তাপস দোলুই। এছাড়া হাজির ছিলেন এক সময়ের পুরপ্রধান সুবল মান্না-সহ পুরসভার অন্যান্য পদস্থ আধিকারিক ও কর্মী।


রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পতনের সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে থেকেই হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ জমছিল। জল, আলো বা শংসাপত্র পাওয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্য পুরসভায় এসে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। 


পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি-সহ তৃণমূলের কাউন্সিলাররা কার্যত পুরসভায় আসা বন্ধ করে দেন। জনপরিষেবা থমকে যাওয়ায় কেন তাঁরা পুরসভায় অনুপস্থিত থাকছেন, তা জানতে চেয়ে প্রত্যেক কাউন্সিলারকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছিলেন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার। মনে করা হচ্ছে, সেই চিঠির চাপ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরেই শেষ পর্যন্ত গণইস্তফার পথ বেছে নেন ঘাসফুল শিবিরের ১৪ জন কাউন্সিলার।

বিষয় : tmcresignation contaimunicipality purbamedinipurnews municipalcrisis suprokasgiri

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


তৃণমূলের ১৪ কাউন্সিলারের গণইস্তফা, ভাঙল কাঁথি পুরবোর্ড! রাশ হাতে নিলেন মহকুমাশাসক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image
কাঁথি: নজিরবিহীন রাজনৈতিক ডামাডোলের জেরে ভেঙে পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁথি পুরসভার বোর্ড। ভাইস চেয়ারম্যান-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪ জন কাউন্সিলার একসঙ্গে পদত্যাগ করায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর আইনি ও প্রশাসনিক নিয়ম মেনে সোমবার থেকেই কাঁথির মহকুমাশাসক (SDO) ধুমল প্রতীক অশোক পুরসভার নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী পুরনির্বাচন বা নতুন বোর্ড গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বেই পুরসভার যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ায় মহকুমাশাসককে সহযোগিতা করবেন বর্তমান কাউন্সিলাররা।উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পুরভোটে কাঁথি পুরসভার ২১টি আসনের মধ্যে ১৭টিতে বিপুল জয় পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি আসনগুলির মধ্যে তিনটিতে বিজেপি এবং একটিতে নির্দল প্রার্থী জয়ী হন। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক সমীকরণের বদলে তৃণমূলের একজন কাউন্সিলার পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ায় বিজেপির আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চারে। তবে এবার একলপ্তে তৃণমূলের ১৪ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দেওয়ায় শাসকদলের বোর্ড গরিষ্ঠতা হারিয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়ল।সোমবার মহকুমাশাসক যখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসকের দায়িত্বভার বুঝে নেন, তখন পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির তিন কাউন্সিলার অরূপকুমার দাস, সুশীল দাস ও তাপস দোলুই। এছাড়া হাজির ছিলেন এক সময়ের পুরপ্রধান সুবল মান্না-সহ পুরসভার অন্যান্য পদস্থ আধিকারিক ও কর্মী।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পতনের সূত্রপাত বেশ কিছুদিন আগে থেকেই হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ জমছিল। জল, আলো বা শংসাপত্র পাওয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্য পুরসভায় এসে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ ওঠে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। পুরপ্রধান সুপ্রকাশ গিরি-সহ তৃণমূলের কাউন্সিলাররা কার্যত পুরসভায় আসা বন্ধ করে দেন। জনপরিষেবা থমকে যাওয়ায় কেন তাঁরা পুরসভায় অনুপস্থিত থাকছেন, তা জানতে চেয়ে প্রত্যেক কাউন্সিলারকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছিলেন পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার। মনে করা হচ্ছে, সেই চিঠির চাপ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরেই শেষ পর্যন্ত গণইস্তফার পথ বেছে নেন ঘাসফুল শিবিরের ১৪ জন কাউন্সিলার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার