Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘যুদ্ধের জেরে অকল্পনীয় মূল্যবৃদ্ধি…’, ৩টি ‘এফ’-এ নজর রাখার বার্তা দিয়ে আর্থিক চাপ স্বীকার নির্মলার!

‘যুদ্ধের জেরে অকল্পনীয় মূল্যবৃদ্ধি…’, ৩টি ‘এফ’-এ নজর রাখার বার্তা দিয়ে আর্থিক চাপ স্বীকার নির্মলার!
FILE IMAGE

মুম্বই: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও ইরান সঙ্কটের ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে কেবল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামই বাড়ছে না। একইসঙ্গে নজিরবিহীন হারে বাড়ছে চাষের সারের দামও। আর এই আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের ভাতের থালায়। 


বর্তমান এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। দেশের ওপর তৈরি হওয়া চরম আর্থিক চাপের কথা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, সারের দাম এই মুহূর্তে অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে ভারতকে প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখতে হচ্ছে। সেগুলি হলো — জ্বালানি, সার এবং বিদেশি মুদ্রা।


সম্প্রতি দেশজুড়ে তিন ধাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭ টাকা ৩৮ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেটে যখন টান পড়ছে, ঠিক সেই আবহেই মুম্বইয়ে ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (SIDBI) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিশ্ব তথা দেশের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই অস্থিরতা এখন আর কেবল কোনও কূটনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও আমজনতার জন্য এর বাস্তব মানে হল — আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণে চরম বিলম্ব, জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি, কাঁচামালের তীব্র ঘাটতি, মূলধনের ওপর বাড়তি চাপ এবং সর্বোপরি রফতানির ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চয়তা।


এর পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে সোনার আকাশছোঁয়া দাম ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক “নতুন চ্যালেঞ্জ” তৈরি করেছে। এই বিপুল আর্থিক চাপ সামলাতে এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (Forex Reserve) সুরক্ষিত রাখতে কয়েক দিন আগেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সাধারণ নাগরিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে আহ্বান জানান — অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন বিদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণ কমানো হয়, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা হয় এবং আগামী অন্তত একবছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা হয়।


এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সেই কড়া আর্থিক দাওয়াইকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণও। তিনি দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শ মেনে চলার বার্তা দেন। তবে এই ইস্যুতে যথারীতি কেন্দ্রকে বিঁধতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বিশ্বযুদ্ধের দোহাই দিয়ে দেশের বর্তমান আর্থিক চাপের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হলেও, নোটবন্দি বা ভুল নীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যে ভেঙে পড়েছে, সেই সত্যটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিষয় : indianeconomy MiddleEastCrisis nirmalasitaraman INFLATIONCRISIS FOREXRESERVE'

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘যুদ্ধের জেরে অকল্পনীয় মূল্যবৃদ্ধি…’, ৩টি ‘এফ’-এ নজর রাখার বার্তা দিয়ে আর্থিক চাপ স্বীকার নির্মলার!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image
মুম্বই: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও ইরান সঙ্কটের ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে কেবল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামই বাড়ছে না। একইসঙ্গে নজিরবিহীন হারে বাড়ছে চাষের সারের দামও। আর এই আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের ভাতের থালায়। বর্তমান এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। দেশের ওপর তৈরি হওয়া চরম আর্থিক চাপের কথা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, সারের দাম এই মুহূর্তে অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে ভারতকে প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখতে হচ্ছে। সেগুলি হলো — জ্বালানি, সার এবং বিদেশি মুদ্রা।সম্প্রতি দেশজুড়ে তিন ধাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭ টাকা ৩৮ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের পকেটে যখন টান পড়ছে, ঠিক সেই আবহেই মুম্বইয়ে ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (SIDBI) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিশ্ব তথা দেশের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই অস্থিরতা এখন আর কেবল কোনও কূটনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও আমজনতার জন্য এর বাস্তব মানে হল — আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণে চরম বিলম্ব, জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি, কাঁচামালের তীব্র ঘাটতি, মূলধনের ওপর বাড়তি চাপ এবং সর্বোপরি রফতানির ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চয়তা।এর পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে সোনার আকাশছোঁয়া দাম ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক “নতুন চ্যালেঞ্জ” তৈরি করেছে। এই বিপুল আর্থিক চাপ সামলাতে এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (Forex Reserve) সুরক্ষিত রাখতে কয়েক দিন আগেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সাধারণ নাগরিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে আহ্বান জানান — অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন বিদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণ কমানো হয়, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখা হয় এবং আগামী অন্তত একবছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা হয়।এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সেই কড়া আর্থিক দাওয়াইকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণও। তিনি দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শ মেনে চলার বার্তা দেন। তবে এই ইস্যুতে যথারীতি কেন্দ্রকে বিঁধতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বিশ্বযুদ্ধের দোহাই দিয়ে দেশের বর্তমান আর্থিক চাপের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হলেও, নোটবন্দি বা ভুল নীতির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যে ভেঙে পড়েছে, সেই সত্যটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার