Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

-নিটের পর এবার সিবিএসই-তেও ‘দুর্নীতি’! অন্যের খাতায় নম্বর পেল দ্বাদশের পড়ুয়ারা, বড়সড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস?

-নিটের পর এবার সিবিএসই-তেও ‘দুর্নীতি’! অন্যের খাতায় নম্বর পেল দ্বাদশের পড়ুয়ারা, বড়সড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস?
ছবি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাঠগড়ায় সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই (CBSE)। খোদ দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় এক ছাত্রের নামের পাশে অন্যের খাতা জুড়ে দিয়ে নম্বর দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। ভালো পরীক্ষা দিয়েও আশানুরূপ নম্বর না মেলায় এক পড়ুয়া নিজের উত্তরপত্র দেখতে চাওয়ার পর বোর্ডের এহেন চরম গাফিলতি ও ‘দুর্নীতি’ প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমাজেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, যার জেরে এবার খোদ সর্বভারতীয় এই শিক্ষা বোর্ডকে ঘিরে সুর চড়াতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলও।


ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন বেদান্ত নামের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র সমাজমাধ্যমে একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট করেন। তিনি জানান, দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা বা ফিজিক্সে তাঁর নম্বর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম এসেছিল। পরীক্ষা অত্যন্ত ভালো হওয়ায় বোর্ডের এই মূল্যায়ন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। এরপরই নিয়ম মেনে বোর্ডের কাছে নিজের পুনর্মূল্যায়িত উত্তরপত্রটি দেখার আবেদন জানান বেদান্ত। কিন্তু সিবিএসই-র তরফ থেকে পাঠানো উত্তরপত্রটি হাতে আসতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়! খাতার ভেতরের হাতের লেখা দেখেই বেদান্ত স্পষ্ট বুঝতে পারেন, ওটা আদতে তাঁর নিজের পরীক্ষার খাতাই নয়, অন্য কোনো পড়ুয়ার খাতা তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেদান্তর এই পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হতেই দেশের আরও অনেক সিবিএসই পড়ুয়াও একই রকমের মারাত্মক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সরব হতে শুরু করে।


দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ জড়ানো এই পরীক্ষা নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই আসরে নেমেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি লেখেন, গত কয়েক দশকে এই প্রথমবার সিবিএসই পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এত বড় প্রশ্ন উঠল। ১৭ বছরের একটা বাচ্চা ছেলে যখন নিজের কম নম্বর পাওয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছে, তখন বিজেপির আইটি সেল তাকে দেশবিরোধী তকমা দিতে ব্যস্ত। তবে নরেন্দ্র মোদি মনে রাখুন, এই জেন জি (Gen Z) বা আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে আপনার অহংকার ভেঙে চুরমার করবে। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতেও সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে জলঘোলা হতে শুরু করেছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশজোড়া ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই শেষ পর্যন্ত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে বাধ্য হয়েছে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম দিকে নীরব থাকলেও, শেষমেশ উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট আদান-প্রদানে বড়সড় গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে বোর্ড। আপাতত ভুল খাতা চলে যাওয়া দুজন পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর সংশোধন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সিবিএসই-র পক্ষ থেকে। তবে বোর্ডের এই আশ্বাসেও ক্ষোভ কমছে না আমজনতার। প্রশ্ন উঠছে, যে একাধিক পড়ুয়া এখনও নিজেদের খাতা দেখতে পায়নি অথচ ভুল নম্বরের শিকার হয়েছে, তাদের ভবিষ্যতের কী হবে? বোর্ডের এই চরম খামখেয়ালিপনার জন্য কি জীবনভর কম নম্বরের বোঝাই বয়ে বেড়াতে হবে দেশের মেধাবী পড়ুয়াদের?

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


-নিটের পর এবার সিবিএসই-তেও ‘দুর্নীতি’! অন্যের খাতায় নম্বর পেল দ্বাদশের পড়ুয়ারা, বড়সড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাঠগড়ায় সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই (CBSE)। খোদ দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় এক ছাত্রের নামের পাশে অন্যের খাতা জুড়ে দিয়ে নম্বর দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। ভালো পরীক্ষা দিয়েও আশানুরূপ নম্বর না মেলায় এক পড়ুয়া নিজের উত্তরপত্র দেখতে চাওয়ার পর বোর্ডের এহেন চরম গাফিলতি ও ‘দুর্নীতি’ প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমাজেই দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, যার জেরে এবার খোদ সর্বভারতীয় এই শিক্ষা বোর্ডকে ঘিরে সুর চড়াতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলও।ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন বেদান্ত নামের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র সমাজমাধ্যমে একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট করেন। তিনি জানান, দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা বা ফিজিক্সে তাঁর নম্বর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম এসেছিল। পরীক্ষা অত্যন্ত ভালো হওয়ায় বোর্ডের এই মূল্যায়ন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। এরপরই নিয়ম মেনে বোর্ডের কাছে নিজের পুনর্মূল্যায়িত উত্তরপত্রটি দেখার আবেদন জানান বেদান্ত। কিন্তু সিবিএসই-র তরফ থেকে পাঠানো উত্তরপত্রটি হাতে আসতেই তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়! খাতার ভেতরের হাতের লেখা দেখেই বেদান্ত স্পষ্ট বুঝতে পারেন, ওটা আদতে তাঁর নিজের পরীক্ষার খাতাই নয়, অন্য কোনো পড়ুয়ার খাতা তাঁর নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেদান্তর এই পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হতেই দেশের আরও অনেক সিবিএসই পড়ুয়াও একই রকমের মারাত্মক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সরব হতে শুরু করে।দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ জড়ানো এই পরীক্ষা নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতেই আসরে নেমেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি লেখেন, গত কয়েক দশকে এই প্রথমবার সিবিএসই পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এত বড় প্রশ্ন উঠল। ১৭ বছরের একটা বাচ্চা ছেলে যখন নিজের কম নম্বর পাওয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছে, তখন বিজেপির আইটি সেল তাকে দেশবিরোধী তকমা দিতে ব্যস্ত। তবে নরেন্দ্র মোদি মনে রাখুন, এই জেন জি (Gen Z) বা আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে আপনার অহংকার ভেঙে চুরমার করবে। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতেও সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে জলঘোলা হতে শুরু করেছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশজোড়া ক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই শেষ পর্যন্ত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে বাধ্য হয়েছে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম দিকে নীরব থাকলেও, শেষমেশ উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট আদান-প্রদানে বড়সড় গাফিলতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে বোর্ড। আপাতত ভুল খাতা চলে যাওয়া দুজন পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর সংশোধন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সিবিএসই-র পক্ষ থেকে। তবে বোর্ডের এই আশ্বাসেও ক্ষোভ কমছে না আমজনতার। প্রশ্ন উঠছে, যে একাধিক পড়ুয়া এখনও নিজেদের খাতা দেখতে পায়নি অথচ ভুল নম্বরের শিকার হয়েছে, তাদের ভবিষ্যতের কী হবে? বোর্ডের এই চরম খামখেয়ালিপনার জন্য কি জীবনভর কম নম্বরের বোঝাই বয়ে বেড়াতে হবে দেশের মেধাবী পড়ুয়াদের?

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার