Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

রাতের অন্ধকারে জ্বলল জোড়া কারখানা! পুড়ে ছাই ৪০ কোটির সম্পদ, সাতসকালে এ কী বিপর্যয় বঙ্গে?

রাতের অন্ধকারে জ্বলল জোড়া কারখানা! পুড়ে ছাই ৪০ কোটির সম্পদ, সাতসকালে এ কী বিপর্যয় বঙ্গে?
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: মঙ্গলবার সকাল হতেই রাজ্যের দুই প্রান্তে নেমে এল চরম অমঙ্গলের ছায়া। উত্তর থেকে দক্ষিণ— মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে চলে গেল দুটি বড় কারখানা। একদিকে উলুবেড়িয়ার শতাব্দীপ্রাচীন জুট মিল, অন্যদিকে নরেন্দ্রপুরের রাসায়নিক কারখানা; আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষের মধ্যে গিলে খেল কোটি কোটি টাকার সম্পদ। দমকল বাহিনীর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াইয়ের পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। চারদিকের কালো ধোঁয়া আর কান্নার রোলের মধ্যে দুই কারখানাতেই এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা এলাকাকে।


ভয়াবহতার প্রথম চিত্রটি ধরা পড়েছে হাওড়ার বাউড়িয়ার নর্থ জুট মিলে। সোমবার রাত এগারোটা নাগাদ যখন মিলের শ্রমিক ও রক্ষীরা কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা মিলের ‘বি ওান’ বিভাগে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে প্রাথমিক চেষ্টা করা হলেও, মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন বেল গোডাউনে। ভেতরে বিপুল পরিমাণ শুকনো পাট মজুত থাকায় আগুন মারাত্মক রূপ ধারণ করে। খবর পেয়ে একে একে দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টানা ১০ ঘণ্টার লাগাতার চেষ্টার পরেও মঙ্গলবার সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। মিল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ কোটি টাকার কাঁচামাল ও সামগ্রী পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।


এই বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় ধাক্কাটি আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত রামচন্দ্রপুর এলাকায়। সেখানে একটি নামী কালি তৈরির কারখানায় আচমকাই দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই কারখানার ভেতরে স্বাভাবিক কাজ চলছিল। কিন্তু ওই কারখানায় প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় নানাবিধ রাসায়নিক ও অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন লাগা মাত্রই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণের মতো আকার নেয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আতঙ্কিত মানুষজন ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। তবে রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।


নরেন্দ্রপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না মিললেও, কারখানার ভেতরে কেউ আটকে রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট কিংবা অসতর্কতাবশত কোনো আগুনের উৎস থেকেই এই জোড়া অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুই কারখানার কয়েকশো শ্রমিকের রুটিরুজি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

বিষয় : bengalfireaccident uluberiajutemill narendrapurfire

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


রাতের অন্ধকারে জ্বলল জোড়া কারখানা! পুড়ে ছাই ৪০ কোটির সম্পদ, সাতসকালে এ কী বিপর্যয় বঙ্গে?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: মঙ্গলবার সকাল হতেই রাজ্যের দুই প্রান্তে নেমে এল চরম অমঙ্গলের ছায়া। উত্তর থেকে দক্ষিণ— মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিধ্বংসী আগুনের গ্রাসে চলে গেল দুটি বড় কারখানা। একদিকে উলুবেড়িয়ার শতাব্দীপ্রাচীন জুট মিল, অন্যদিকে নরেন্দ্রপুরের রাসায়নিক কারখানা; আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষের মধ্যে গিলে খেল কোটি কোটি টাকার সম্পদ। দমকল বাহিনীর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াইয়ের পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। চারদিকের কালো ধোঁয়া আর কান্নার রোলের মধ্যে দুই কারখানাতেই এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা এলাকাকে।ভয়াবহতার প্রথম চিত্রটি ধরা পড়েছে হাওড়ার বাউড়িয়ার নর্থ জুট মিলে। সোমবার রাত এগারোটা নাগাদ যখন মিলের শ্রমিক ও রক্ষীরা কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই আচমকা মিলের ‘বি ওান’ বিভাগে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে প্রাথমিক চেষ্টা করা হলেও, মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন বেল গোডাউনে। ভেতরে বিপুল পরিমাণ শুকনো পাট মজুত থাকায় আগুন মারাত্মক রূপ ধারণ করে। খবর পেয়ে একে একে দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টানা ১০ ঘণ্টার লাগাতার চেষ্টার পরেও মঙ্গলবার সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। মিল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ কোটি টাকার কাঁচামাল ও সামগ্রী পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।এই বিপর্যয় কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় ধাক্কাটি আসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত রামচন্দ্রপুর এলাকায়। সেখানে একটি নামী কালি তৈরির কারখানায় আচমকাই দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই কারখানার ভেতরে স্বাভাবিক কাজ চলছিল। কিন্তু ওই কারখানায় প্রতিমা তৈরির প্রয়োজনীয় নানাবিধ রাসায়নিক ও অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন লাগা মাত্রই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণের মতো আকার নেয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আতঙ্কিত মানুষজন ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। তবে রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।নরেন্দ্রপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না মিললেও, কারখানার ভেতরে কেউ আটকে রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট কিংবা অসতর্কতাবশত কোনো আগুনের উৎস থেকেই এই জোড়া অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দুটি ক্ষেত্রেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুই কারখানার কয়েকশো শ্রমিকের রুটিরুজি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার