Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ইনজেকশন নাকি বিষ? হাসপাতালে ৫ অন্তঃসত্ত্বার রহস্যমৃত্যু, রিপোর্ট আসতেই চোখ কপালে চিকিৎসকদের!

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬
ইনজেকশন নাকি বিষ? হাসপাতালে ৫ অন্তঃসত্ত্বার রহস্যমৃত্যু, রিপোর্ট আসতেই চোখ কপালে চিকিৎসকদের!
প্রতীকী ছবি

জয়পুর: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার নামে এ কোন চরম গাফিলতি! হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে খোদ ‘ঘাতক’ ইনজেকশনের বলি হলেন অন্তত ৫ জন অন্তঃসত্ত্বা মা। রাজস্থানের কোটার একটি সরকারি হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সাধারণত প্রসবকালীন এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চিকিৎসকরা ‘অক্সিটোসিন’ নামক একটি জীবনদায়ী ইনজেকশন দিয়ে থাকেন।


 কিন্তু ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা দেখে কার্যত থমকে গিয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসা মহল। অভিযোগ, মায়েদের শরীরে পুশ করা ওই অক্সিটোসিন ইনজেকশনটি আসলে সম্পূর্ণ নকল ছিল এবং তাতে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় আসল উপাদানটিই অনুপস্থিত ছিল। জীবনদায়ী ওষুধের নামে এই ভুয়ো কারবারের জেরে ৫টি পরিবারের হাসিমুখ নিমেষের মধ্যে শ্মশানের নিস্তব্ধতায় ঢেকে গিয়েছে।


একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসবের পর ওই মায়েদের শরীরে ইনজেকশনটি দেওয়ার মাত্র ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আক্রান্ত মহিলাদের রক্তচাপ এবং রক্তের প্লেটলেট কাউন্ট আচমকাই হুহু করে কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ধারণ করে যে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে ওই মায়েদের কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাঁরা। 


এই মারাত্মক ঘটনার পরই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে রাজস্থানের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে গোটা রাজ্য জুড়েই এই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ইনজেকশনটির বিক্রি এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল কি না, তা সবদিক খতিয়ে না দেখে এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


এই নারকীয় ঘটনার তদন্তে নেমে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, শুধু এই ইনজেকশনই নয়, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জ্বর, মারাত্মক অ্যালার্জি, পেটের সংক্রমণ এবং জরুরি ভিত্তিতে ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক ও জীবনদায়ী ওষুধও চরম নিম্নমানের অথবা নকল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। 


প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, এই বিষাক্ত ও ভুয়ো ওষুধগুলির জাল ছড়িয়ে রয়েছে রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের মতো দেশের অন্তত ৭টি রাজ্যের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার অন্দরে। মুনাফার লোভে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা এই চক্রের মূল পান্ডাদের খুঁজে বের করতে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজতে ইতিমধ্যেই রাজস্থান সরকারের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিষয় : CrimeNews healthcrisis fakemedicine rajasthanhospitaltragedy medicalscam

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ইনজেকশন নাকি বিষ? হাসপাতালে ৫ অন্তঃসত্ত্বার রহস্যমৃত্যু, রিপোর্ট আসতেই চোখ কপালে চিকিৎসকদের!

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
জয়পুর: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার নামে এ কোন চরম গাফিলতি! হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে খোদ ‘ঘাতক’ ইনজেকশনের বলি হলেন অন্তত ৫ জন অন্তঃসত্ত্বা মা। রাজস্থানের কোটার একটি সরকারি হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সাধারণত প্রসবকালীন এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়েদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে চিকিৎসকরা ‘অক্সিটোসিন’ নামক একটি জীবনদায়ী ইনজেকশন দিয়ে থাকেন। কিন্তু ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা দেখে কার্যত থমকে গিয়েছে গোটা দেশের চিকিৎসা মহল। অভিযোগ, মায়েদের শরীরে পুশ করা ওই অক্সিটোসিন ইনজেকশনটি আসলে সম্পূর্ণ নকল ছিল এবং তাতে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় আসল উপাদানটিই অনুপস্থিত ছিল। জীবনদায়ী ওষুধের নামে এই ভুয়ো কারবারের জেরে ৫টি পরিবারের হাসিমুখ নিমেষের মধ্যে শ্মশানের নিস্তব্ধতায় ঢেকে গিয়েছে।একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসবের পর ওই মায়েদের শরীরে ইনজেকশনটি দেওয়ার মাত্র ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আক্রান্ত মহিলাদের রক্তচাপ এবং রক্তের প্লেটলেট কাউন্ট আচমকাই হুহু করে কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ধারণ করে যে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে ওই মায়েদের কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাঁরা। এই মারাত্মক ঘটনার পরই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে রাজস্থানের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে গোটা রাজ্য জুড়েই এই নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ইনজেকশনটির বিক্রি এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল কি না, তা সবদিক খতিয়ে না দেখে এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।এই নারকীয় ঘটনার তদন্তে নেমে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, শুধু এই ইনজেকশনই নয়, সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জ্বর, মারাত্মক অ্যালার্জি, পেটের সংক্রমণ এবং জরুরি ভিত্তিতে ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক ও জীবনদায়ী ওষুধও চরম নিম্নমানের অথবা নকল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, এই বিষাক্ত ও ভুয়ো ওষুধগুলির জাল ছড়িয়ে রয়েছে রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের মতো দেশের অন্তত ৭টি রাজ্যের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার অন্দরে। মুনাফার লোভে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করা এই চক্রের মূল পান্ডাদের খুঁজে বের করতে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজতে ইতিমধ্যেই রাজস্থান সরকারের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার