Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

গোপন ডেরায় টাকার পাহাড়, হাজার হাজার ত্রাণের ত্রিপল! মাঝরাতে এল গোনার মেশিন, গ্রেপ্তার পুর-চেয়ারম্যান!

গোপন ডেরায় টাকার পাহাড়, হাজার হাজার ত্রাণের ত্রিপল! মাঝরাতে এল গোনার মেশিন, গ্রেপ্তার পুর-চেয়ারম্যান!
ছবি সংগৃহীত

বাদুড়িয়া: রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির পর্দাফাঁস হওয়ার মাঝেই এবার এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি সামনে এল। দিনভর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর, অবশেষে সোমবার রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।


তাঁর গোপন ডেরায় হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে কাঁড়ি কাঁড়ি নগদ টাকা এবং হাজার হাজার সরকারি ত্রাণের ত্রিপল। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক রূপ ধারণ করে যে, মাঝরাতেই উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ গুনতে নিয়ে আসতে হয় তিনটি টাকা গোনার মেশিন। পুলিশ সূত্রে খবর, পুর-চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গোপন কেন্দ্র থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭৯ লক্ষ নগদ টাকা, যা নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আচমকাই দেখতে পান, পুর-চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল তড়িঘড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই কার্যালয়ের সামনেই স্তূপ করে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেওয়া হচ্ছিল বস্তা বস্তা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র সন্দেহ জাগে এবং তাঁরা সাথে সাথেই বাদুড়িয়া থানায় খবর দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ঠিক আগের মুহূর্তেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালে পুরো বিষয়টি এক নাটকীয় মোড় নেয়।


তদন্তে নেমে সোমবার রাতেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পার্টি অফিস এবং তাঁর বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। সেই অভিযানে উদ্ধার হয় প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরহারা ও বিপন্ন সাধারণ মানুষের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ এই বিপুল পরিমাণ ত্রিপল কেন এভাবে অবৈধভাবে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং রাতেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বাদুড়িয়া থানায় দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ত্রিপল উদ্ধারের পর তল্লাশি আরও জোরদার করে পুলিশ বাহিনী। সোমবার গভীর রাতে পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়ির ঠিক পাশে অবস্থিত একটি কম্পিউটার সেন্টারে হানা দেয় পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই কম্পিউটার সেন্টারের মূল চাবির নিয়ন্ত্রণ থাকত খোদ চেয়ারম্যানের হাতেই। সেখানে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছোটেন বাদুড়িয়ার এসডিপিও (SDPO) এবং ওসি। 


উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে মাঝরাতেই তিনটি নোট গোনার মেশিন আনিয়ে শুরু হয় গণনা। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং ত্রাণের সামগ্রী কীভাবে সেখানে এল, সরকারি নথি পোড়ানোর আসল উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, তার সত্যতা জানতে ধৃত চেয়ারম্যানকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।

বিষয় : WestBengalNews chairmanarrested baduriascam corruptioninbengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


গোপন ডেরায় টাকার পাহাড়, হাজার হাজার ত্রাণের ত্রিপল! মাঝরাতে এল গোনার মেশিন, গ্রেপ্তার পুর-চেয়ারম্যান!

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
বাদুড়িয়া: রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির পর্দাফাঁস হওয়ার মাঝেই এবার এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি সামনে এল। দিনভর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর, অবশেষে সোমবার রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।তাঁর গোপন ডেরায় হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে কাঁড়ি কাঁড়ি নগদ টাকা এবং হাজার হাজার সরকারি ত্রাণের ত্রিপল। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক রূপ ধারণ করে যে, মাঝরাতেই উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ গুনতে নিয়ে আসতে হয় তিনটি টাকা গোনার মেশিন। পুলিশ সূত্রে খবর, পুর-চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গোপন কেন্দ্র থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭৯ লক্ষ নগদ টাকা, যা নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অলিন্দে তোলপাড় শুরু হয়েছে।এই ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আচমকাই দেখতে পান, পুর-চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল তড়িঘড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই কার্যালয়ের সামনেই স্তূপ করে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেওয়া হচ্ছিল বস্তা বস্তা সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র সন্দেহ জাগে এবং তাঁরা সাথে সাথেই বাদুড়িয়া থানায় খবর দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ঠিক আগের মুহূর্তেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। এরপর পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালে পুরো বিষয়টি এক নাটকীয় মোড় নেয়।তদন্তে নেমে সোমবার রাতেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পার্টি অফিস এবং তাঁর বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। সেই অভিযানে উদ্ধার হয় প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রিপল। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরহারা ও বিপন্ন সাধারণ মানুষের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ এই বিপুল পরিমাণ ত্রিপল কেন এভাবে অবৈধভাবে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং রাতেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বাদুড়িয়া থানায় দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।ত্রিপল উদ্ধারের পর তল্লাশি আরও জোরদার করে পুলিশ বাহিনী। সোমবার গভীর রাতে পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়ির ঠিক পাশে অবস্থিত একটি কম্পিউটার সেন্টারে হানা দেয় পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই কম্পিউটার সেন্টারের মূল চাবির নিয়ন্ত্রণ থাকত খোদ চেয়ারম্যানের হাতেই। সেখানে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছোটেন বাদুড়িয়ার এসডিপিও (SDPO) এবং ওসি। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে মাঝরাতেই তিনটি নোট গোনার মেশিন আনিয়ে শুরু হয় গণনা। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে প্রায় ৭৯ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং ত্রাণের সামগ্রী কীভাবে সেখানে এল, সরকারি নথি পোড়ানোর আসল উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, তার সত্যতা জানতে ধৃত চেয়ারম্যানকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার