Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘অসভ্য-অভদ্র সাংসদের অশালীন আচরণ!’ এবার কল্যাণকে নিশানা করে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি, শুভেন্দুর বৈঠকে যেতেই চরম বিস্ফোরণ

‘অসভ্য-অভদ্র সাংসদের অশালীন আচরণ!’ এবার কল্যাণকে নিশানা করে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি, শুভেন্দুর বৈঠকে যেতেই চরম বিস্ফোরণ
ছবি সংগৃহীত

বারাসত: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবার কার্যত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতা পুরসভার হেভিওয়েটদের বিদ্রোহের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দেগে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের তারকা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।


 বুধবার রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। আর এই ইস্তফাপত্রেই নাম না করে শ্রীরামপুরের দাপুটে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


সুব্রত বক্সিকে পাঠানো সেই চিঠিতে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখ এবং উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।” এর পরই নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লিখেছেন, “যে পদে থাকাকালীন একজন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য একজন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, এবং এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কোনও সহযোগিতা বা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সেই পদে থাকার কোনও মানে হয় না।” আরজি কর কাণ্ড এবং রেশন দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একহাত নিয়েছেন বারাসতের এই সাংসদ, যা দলের অন্দরের কঙ্কালসার অবস্থাকেই জনসমক্ষে এনে ফেলেছে।


উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই লোকসভায় মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়েছিল দল। সেই অপমানের পর থেকেই আইপ্যাক (I-PAC) এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে লাগাতার বোমা ফাটাতে শুরু করেন তিনি। এমনকি ক্ষোভে বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন। 


এই টানাপোড়েনের মাঝেই গত মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে আচমকা যোগ দেন কাকলি। যদিও তখন তিনি এটিকে ‘প্রশাসনিক আমন্ত্রণ’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়ে যেভাবে দলত্যাগের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা তিনি দিয়েছেন, তাতে তাঁর পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

বিষয় : TrinamoolCongress Suvendu Adhikary kalyanbanerjee kakolighoshdastidar BARASATPOLITICS

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘অসভ্য-অভদ্র সাংসদের অশালীন আচরণ!’ এবার কল্যাণকে নিশানা করে তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি, শুভেন্দুর বৈঠকে যেতেই চরম বিস্ফোরণ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image
বারাসত: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবার কার্যত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কলকাতা পুরসভার হেভিওয়েটদের বিদ্রোহের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দেগে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের তারকা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বুধবার রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়ে তিনি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের সমস্ত কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। আর এই ইস্তফাপত্রেই নাম না করে শ্রীরামপুরের দাপুটে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।সুব্রত বক্সিকে পাঠানো সেই চিঠিতে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখ এবং উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।” এর পরই নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লিখেছেন, “যে পদে থাকাকালীন একজন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য একজন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না, এবং এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কোনও সহযোগিতা বা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সেই পদে থাকার কোনও মানে হয় না।” আরজি কর কাণ্ড এবং রেশন দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একহাত নিয়েছেন বারাসতের এই সাংসদ, যা দলের অন্দরের কঙ্কালসার অবস্থাকেই জনসমক্ষে এনে ফেলেছে।উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই লোকসভায় মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়েছিল দল। সেই অপমানের পর থেকেই আইপ্যাক (I-PAC) এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে লাগাতার বোমা ফাটাতে শুরু করেন তিনি। এমনকি ক্ষোভে বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই গত মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে আচমকা যোগ দেন কাকলি। যদিও তখন তিনি এটিকে ‘প্রশাসনিক আমন্ত্রণ’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুব্রত বক্সিকে চিঠি পাঠিয়ে যেভাবে দলত্যাগের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা তিনি দিয়েছেন, তাতে তাঁর পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার