আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের জন্য এক দুর্দান্ত ও রোমাঞ্চকর খবর। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলের তলায় থমকে থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ‘টাইগার রিইন্ট্রোডাকশন’ বা বাঘ পুনর্বাসন পরিকল্পনা। রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদল ঘটতেই এই মেগা প্রজেক্টকে দ্রুত বাস্তবায়িত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। দেশের বাঘ সংরক্ষণের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ‘এনটিসিএ’ (ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি)-র সমস্ত গাইডলাইন ও নিয়ম মেনে বক্সার জঙ্গলে বাইরে থেকে বাঘ এনে ছাড়ার সবুজ সংকেত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের সেই হাই-প্রোফাইল নির্দেশিকা রাজ্যে এসে পৌঁছেছে বলে বনদপ্তর সূত্রে খবর।
বনদপ্তরের বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বক্সার জঙ্গলকে ফের বাঘের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে বাইরের রাজ্য থেকে দুটি বাঘিনী এবং একটি বাঘ আনা হবে। এই বাঘগুলির গলায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘রেডিও কলার’ পরানো থাকবে, যার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তাদের নিখুঁত গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখবে বন দপ্তর। প্রাথমিকভাবে বাঘগুলিকে জঙ্গলের ভেতরে তৈরি একটি বিশেষ এনক্লোজারে রেখে কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তারপরই ছেড়ে দেওয়া হবে উন্মুক্ত বনাঞ্চলে। ইতিমধ্যেই বাঘেদের শিকারের সুবিধার্থে সেই এনক্লোজারের ভেতরে পর্যাপ্ত হরিণ ছাড়ার কাজও সম্পূর্ণ করে ফেলেছে বনদপ্তর। প্রাথমিকভাবে অসম বা বিহারের মতো সমগোত্রীয় জলবায়ুর বনাঞ্চল থেকেই এই বাঘগুলি আনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ার জেলার এই বক্সা অরণ্য দেশের ১৫তম ব্যাঘ্র প্রকল্পের মর্যাদা পেয়েছিল এবং তখন এখানে ২০টিরও বেশি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের রাজকীয় উপস্থিতি ছিল। কিন্তু কালের নিয়মে অবহেলা ও চোরাশিকারিদের দাপটে ৭৬০ বর্গকিলোমিটারের এই বিশাল অরণ্য একসময় সম্পূর্ণ বাঘশূন্য হয়ে পড়ে। যদিও গত কয়েক বছরে ভুটানের পাহাড় থেকে দু-একটি বাঘের বক্সায় নেমে আসার ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল। এবার কেন্দ্রের এই হস্তক্ষেপে বক্সার সেই পুরনো রাজকীয় গৌরব ফিরতে চলেছে। তবে এই মেগা প্রকল্পের খবরে যেমন খুশির হাওয়া, তেমনই বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের মনে কড়াকড়ি বাড়ার আশঙ্কা এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মানব বক্সি জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বে ‘টাইগার ট্যুরিজম’ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ডুয়ার্সের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তবে বাঘের নাম করে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের ওপর যেন অযথা কোনও কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা চাপানো না হয়, সেই দাবিও তুলেছেন স্থানীয়রা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন