Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে ধাক্কা বাণিজ্যে, ২০ বছর পর ভারতীয় আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান

প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে ধাক্কা বাণিজ্যে, ২০ বছর পর ভারতীয় আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান
ছবি--প্রতীকী

নয়াদিল্লি: দীর্ঘ দুই দশক পর ভারতীয় আমের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান। এর ফলে চলতি গ্রীষ্মের মরসুমে আলফানসো, কেশর, বেগুনফুলি বা ল্যাংড়ার মতো ভারতের বিখ্যাত ও রসালো আমের প্রজাতিগুলি আর ‘সূর্যোদয়ের দেশে’ পাড়ি দিতে পারবে না। বৃহস্পতিবার জাপানের সানায়ে তাকাইচি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ বছর তারা ভারত থেকে কোনও আম আমদানি করবে না। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের মসৃণ আম বাণিজ্যে এমন ছন্দপতন ঘটল।  


বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থার নেপথ্যে রয়েছে একটি সরকারি পরিদর্শন। গত মার্চ মাসে জাপানের কোয়ারেন্টাইন আধিকারিকদের একটি দল উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরের কিছু ফল প্রক্রিয়াকরণকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। সেখানে আম জীবাণুমুক্ত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ‘ফিউমিগেশন’-এর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি তাঁদের নজরে আসে। আমের ক্ষেত্রে ‘ফ্রুট ফ্লাই’ বা ফালের মাছি এবং বিশেষ কিছু পোকার আক্রমণ রুখতে এই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, আমে পোকার ডিম বা লার্ভা থেকে গেলে তা জাপানের অভ্যন্তরীণ চাষবাস ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ দেশে প্রবেশ করতে পারে, এই আশঙ্কাতেই ইয়োকোহামা উদ্ভিদ সুরক্ষা সমিতি গত ৩১ মার্চ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২০২৬ বা তার পর থেকে ভারত সরকারের দেওয়া কোনও পরিদর্শন সনদ থাকা আমও আপাতত জাপানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে দুই দেশের কোনও কর্তৃপক্ষই সুনির্দিষ্ট ত্রুটিগুলির বিবরণ জনসমক্ষে আনেনি।  


এর আগে ১৯৮৬ সালেও ফ্রুট ফ্লাইয়ের উপদ্রবের সন্দেহে জাপান প্রথমবার ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করেছিল, যা ২০ বছর স্থায়ী হয়। পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে ২০০৬ সালের ২৩ জুন সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের অনুমোদিত কেন্দ্রগুলিতে ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আম সুরক্ষিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতি মরশুমে জাপানি পরিদর্শকেরা সশরীরে এসে তা পরীক্ষা করবেন। রফতানির জন্য আলফানসো, কেশর, বেগুনফুলি, ল্যাংড়া, চৌসা এবং মল্লিকা —শুধুমাত্র এই ছ’টি জাতেরই অনুমতি রয়েছে।  


জাপানের এই সিদ্ধান্তে ভারতের আম বাণিজ্যে খুব বড়সড় বিপর্যয় আসবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, পরিমাণের দিক থেকে ভারতের আমের প্রধান আমদানিকারী দেশগুলি হল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কুয়েত এবং কাতার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৯,৯৩৮ মেট্রিক টন আম রফতানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ৫.৬ কোটি ডলার। তবে, জাপানের বাজারটিও ছোট নয়। ২০২৫-২৬ সালে জাপানে তাজা ও প্রক্রিয়াজাত আম রফতানির মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ডলার, যার সিংহভাগজুড়েই ছিল গুজরাতের কেশর আম। তবে, একইসঙ্গে কোঙ্কন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে এবার মহারাষ্ট্রের আলফানসোর ফলন মার খেয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে তাজা আম রফতানির ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। জাপানি পরিদর্শকরা ভারতের প্রক্রিয়াকরণকেন্দ্রের মান উন্নত হয়েছে - এই মর্মে সন্তুষ্ট হলেই আবার এই আমদানির দরজা খুলবে বলে জানানো হয়েছে।  

বিষয় : indianmangoes japanmangoban alphonsomango agricultureexports

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


প্রযুক্তিগত ত্রুটির জেরে ধাক্কা বাণিজ্যে, ২০ বছর পর ভারতীয় আম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: দীর্ঘ দুই দশক পর ভারতীয় আমের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান। এর ফলে চলতি গ্রীষ্মের মরসুমে আলফানসো, কেশর, বেগুনফুলি বা ল্যাংড়ার মতো ভারতের বিখ্যাত ও রসালো আমের প্রজাতিগুলি আর ‘সূর্যোদয়ের দেশে’ পাড়ি দিতে পারবে না। বৃহস্পতিবার জাপানের সানায়ে তাকাইচি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ বছর তারা ভারত থেকে কোনও আম আমদানি করবে না। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম দুই দেশের মসৃণ আম বাণিজ্যে এমন ছন্দপতন ঘটল।  বাণিজ্যিক এই অচলাবস্থার নেপথ্যে রয়েছে একটি সরকারি পরিদর্শন। গত মার্চ মাসে জাপানের কোয়ারেন্টাইন আধিকারিকদের একটি দল উত্তরপ্রদেশের রহমানপুরের কিছু ফল প্রক্রিয়াকরণকেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। সেখানে আম জীবাণুমুক্ত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ‘ফিউমিগেশন’-এর ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি তাঁদের নজরে আসে। আমের ক্ষেত্রে ‘ফ্রুট ফ্লাই’ বা ফালের মাছি এবং বিশেষ কিছু পোকার আক্রমণ রুখতে এই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, আমে পোকার ডিম বা লার্ভা থেকে গেলে তা জাপানের অভ্যন্তরীণ চাষবাস ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ দেশে প্রবেশ করতে পারে, এই আশঙ্কাতেই ইয়োকোহামা উদ্ভিদ সুরক্ষা সমিতি গত ৩১ মার্চ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২০২৬ বা তার পর থেকে ভারত সরকারের দেওয়া কোনও পরিদর্শন সনদ থাকা আমও আপাতত জাপানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে দুই দেশের কোনও কর্তৃপক্ষই সুনির্দিষ্ট ত্রুটিগুলির বিবরণ জনসমক্ষে আনেনি।  এর আগে ১৯৮৬ সালেও ফ্রুট ফ্লাইয়ের উপদ্রবের সন্দেহে জাপান প্রথমবার ভারতীয় আম নিষিদ্ধ করেছিল, যা ২০ বছর স্থায়ী হয়। পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে ২০০৬ সালের ২৩ জুন সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের অনুমোদিত কেন্দ্রগুলিতে ‘ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট’ (VHT) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আম সুরক্ষিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতি মরশুমে জাপানি পরিদর্শকেরা সশরীরে এসে তা পরীক্ষা করবেন। রফতানির জন্য আলফানসো, কেশর, বেগুনফুলি, ল্যাংড়া, চৌসা এবং মল্লিকা —শুধুমাত্র এই ছ’টি জাতেরই অনুমতি রয়েছে।  জাপানের এই সিদ্ধান্তে ভারতের আম বাণিজ্যে খুব বড়সড় বিপর্যয় আসবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, পরিমাণের দিক থেকে ভারতের আমের প্রধান আমদানিকারী দেশগুলি হল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কুয়েত এবং কাতার। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৯,৯৩৮ মেট্রিক টন আম রফতানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ৫.৬ কোটি ডলার। তবে, জাপানের বাজারটিও ছোট নয়। ২০২৫-২৬ সালে জাপানে তাজা ও প্রক্রিয়াজাত আম রফতানির মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ডলার, যার সিংহভাগজুড়েই ছিল গুজরাতের কেশর আম। তবে, একইসঙ্গে কোঙ্কন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে এবার মহারাষ্ট্রের আলফানসোর ফলন মার খেয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে তাজা আম রফতানির ওপর কিছুটা বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। জাপানি পরিদর্শকরা ভারতের প্রক্রিয়াকরণকেন্দ্রের মান উন্নত হয়েছে - এই মর্মে সন্তুষ্ট হলেই আবার এই আমদানির দরজা খুলবে বলে জানানো হয়েছে।  

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার