Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টেক্কা দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক! হাইকোর্টেও মিলল না স্বস্তি

ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টেক্কা দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক! হাইকোর্টেও মিলল না স্বস্তি
ছবি--প্রতীকী

নয়াদিল্লি: সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার মামলায় এবার বড় ধাক্কা। ভারতে তাদের এক্স অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হলেও, এখনই কোনও তাত্ক্ষণিক বা অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল না দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি পুরুষীন্দ্র কুমার কৌরভের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়টি আরও বিস্তৃত ও সামগ্রিক ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক্স কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল বক্তব্য না শুনে আদালত এখনই কোনও একতরফা নির্দেশ জারি করবে না। তবে আদালতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, সংশ্লিষ্ট এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত কিছু বিষয়বস্তুকে স্পষ্টতই 'কিছুটা আপত্তিকর' বলে মনে হয়েছে বিচারপতির।


এই মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভারতে তাঁদের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকের বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী। শুনানিতে অভিজিৎ দীপকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী অখিল সিবাল আদালতে দাবি করেন, বিতর্কিত ও অভিযোগ ওঠা নির্দিষ্ট কিছু পোস্ট যদি বন্ধও রাখা হয়, তাতেও তাঁদের আপত্তি নেই; কিন্তু দলের মূল অ্যাকাউন্টটি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়া হোক। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে অতীতে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক সংক্রান্ত আদালতের কয়েকটি অন্তর্বর্তী স্বস্তির উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়, বর্তমান মামলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অ্যাকাউন্টের সামগ্রিক কার্যকলাপের মধ্যেই কিছুটা আপত্তিকর উপাদান লুকিয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে। তবে তাত্ক্ষণিক স্বস্তি না দিলেও আদালত অভিজিৎ দীপকেকে একটি বিকল্প পথ দেখিয়েছে, যেখানে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য যে নির্দিষ্ট পুনর্বিবেচনা কমিটি রয়েছে, সেখানে তিনি নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন।


রাজনৈতিক এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই আইনি লড়াই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ শুরু হয়েছিল মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে। দেশের যুবসমাজকে একদা 'আরশোলা' বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত— এমন এক মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই সূত্র ধরেই জন্ম নেয় এই অভিনব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই গোষ্ঠী তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনীতির একাংশও একে সমর্থন করতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসরণকারীর (ফলোয়ার্স) সংখ্যা দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিজেপিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি ভারতে এই অ্যাকাউন্ট ব্লক হতেই স্ক্রিনশট পোস্ট করে অভিজিৎ দীপকে লিখেছিলেন, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ভারতে আটকে দেওয়া হয়েছে।” এক্স অ্যাকাউন্টের পর দলের ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং ওয়েবসাইট নিয়েও একই ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এখন আগামী দিনে কেন্দ্র এবং এক্স কর্তৃপক্ষ আদালতে কী হলফনামা জমা দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আরশোলা বাহিনীর সামাজিক মাধ্যমের ভবিষ্যৎ।

বিষয় : HIGHCOURT cockroachjanataparty abhijitdipke socialnediasensorship

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ইনস্টাগ্রামে বিজেপিকে টেক্কা দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক! হাইকোর্টেও মিলল না স্বস্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার মামলায় এবার বড় ধাক্কা। ভারতে তাদের এক্স অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হলেও, এখনই কোনও তাত্ক্ষণিক বা অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল না দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি পুরুষীন্দ্র কুমার কৌরভের সিঙ্গল বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়টি আরও বিস্তৃত ও সামগ্রিক ভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক্স কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল বক্তব্য না শুনে আদালত এখনই কোনও একতরফা নির্দেশ জারি করবে না। তবে আদালতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, সংশ্লিষ্ট এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত কিছু বিষয়বস্তুকে স্পষ্টতই 'কিছুটা আপত্তিকর' বলে মনে হয়েছে বিচারপতির।এই মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভারতে তাঁদের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকের বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী। শুনানিতে অভিজিৎ দীপকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রখ্যাত আইনজীবী অখিল সিবাল আদালতে দাবি করেন, বিতর্কিত ও অভিযোগ ওঠা নির্দিষ্ট কিছু পোস্ট যদি বন্ধও রাখা হয়, তাতেও তাঁদের আপত্তি নেই; কিন্তু দলের মূল অ্যাকাউন্টটি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়া হোক। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে অতীতে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক সংক্রান্ত আদালতের কয়েকটি অন্তর্বর্তী স্বস্তির উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে জানায়, বর্তমান মামলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অ্যাকাউন্টের সামগ্রিক কার্যকলাপের মধ্যেই কিছুটা আপত্তিকর উপাদান লুকিয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে। তবে তাত্ক্ষণিক স্বস্তি না দিলেও আদালত অভিজিৎ দীপকেকে একটি বিকল্প পথ দেখিয়েছে, যেখানে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য যে নির্দিষ্ট পুনর্বিবেচনা কমিটি রয়েছে, সেখানে তিনি নিজের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন।রাজনৈতিক এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই এই আইনি লড়াই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ শুরু হয়েছিল মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে। দেশের যুবসমাজকে একদা 'আরশোলা' বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত— এমন এক মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই সূত্র ধরেই জন্ম নেয় এই অভিনব ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই গোষ্ঠী তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিরোধী রাজনীতির একাংশও একে সমর্থন করতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসরণকারীর (ফলোয়ার্স) সংখ্যা দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিজেপিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি ভারতে এই অ্যাকাউন্ট ব্লক হতেই স্ক্রিনশট পোস্ট করে অভিজিৎ দীপকে লিখেছিলেন, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ভারতে আটকে দেওয়া হয়েছে।” এক্স অ্যাকাউন্টের পর দলের ইনস্টাগ্রাম পেজ এবং ওয়েবসাইট নিয়েও একই ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এখন আগামী দিনে কেন্দ্র এবং এক্স কর্তৃপক্ষ আদালতে কী হলফনামা জমা দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই আরশোলা বাহিনীর সামাজিক মাধ্যমের ভবিষ্যৎ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার