কলকাতা: সম্পন্ন হল বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ নন্দন এবং টালিগঞ্জের এনটিওয়ান স্টুডিয়ো হয়ে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছয় পরিচালকের নিথর দেহ। বাংলার চলচ্চিত্র জগতের এই প্রিয় ব্যক্তিত্বের বিদায়লগ্নে প্রকৃতির বুকেও যেন বিষাদের ছায়া। কেওড়াতলায় যখন অনীক দত্তর শেষকৃত্য চলছে, তখন কলকাতার আকাশ ভেঙেও নামল অঝোর ধারায় বৃষ্টি। টলিউডের সহকর্মী, বন্ধু, পরিবার ও অসংখ্য অনুরাগীর উপস্থিতিতে পরিচালকের শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন তাঁর কন্যা ঐশী দত্ত। পাশে থেকে মেয়েকে আগলে রাখলেন অনীকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত।
এদিন সকাল থেকেই অনীক দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এনটিওয়ান স্টুডিও এবং নন্দনে টলিউডের একঝাঁক তারকা ও বিশিষ্টরা ভিড় করেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, সৌরসেনী মৈত্র, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। এনটিওয়ান স্টুডিওতে যখন পরিচালকের মরদেহ শায়িত ছিল, তখন দেবব্রত বিশ্বাসের কণ্ঠে ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু’ গানটি বাজানো হয়। গানে গানে প্রিয় পরিচালককে বিদায় জানানোর সেই মুহূর্তে উপস্থিত সকলের চোখই ছিল জল। বাবার নিথর দেহের পাশে বসে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গিয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি কন্যা ঐশী, কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর পরিচালক গৌতম ঘোষ, অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তীরাও অনীকের প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আগুনের পরশমণি’ গেয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পরিচালকের শেষযাত্রায় শামিল হয়েছিলেন অভিনেতা জিৎ। গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘এমন এক বেদনাদায়ক ঘটনায় কী আর বলব!’’ বর্ষীয়ান বামপন্থী রাজনীতিবিদ বিমান বসুর কণ্ঠেও ছিল একই বেদনার সুর। তিনি বলেন, অনীক দত্তর মতো একজন গুণী পরিচালককে হারানো বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং গভীর শূন্যতা।
অন্যদিকে, নন্দন চত্বরে দাঁড়িয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কড়া বার্তা দেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগের সরকারের আমলে অনীক দত্তর যেসমস্ত ছবি নন্দনে প্রদর্শনে বাধা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার খুব শীঘ্রই সেই ছবিগুলি এখানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। একইসঙ্গে, নন্দন চত্বর থেকে বিজেপি সরকারের তরফে এই অভিনেতা-বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখন থেকে শিল্প ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ হবে এবং কোনওরকম স্বৈরাচার বরদাস্ত করা হবে না। সব মিলিয়ে, একরাশ স্মৃতি আর সুরের চাদরে মুড়ে চিরবিদায় নিলেন ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর রূপকার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন