Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

গ্রীষ্মের শেষেই কিউবায় ‘রিজিম চেঞ্জ’-এর ছক ট্রাম্পের! সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি মার্কিন সেনার

গ্রীষ্মের শেষেই কিউবায় ‘রিজিম চেঞ্জ’-এর ছক ট্রাম্পের! সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি মার্কিন সেনার
ছবি সংগৃহীত

ওয়াশিংটন: চলতি বছরের গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার আগেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের পতন দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যপূরণে এবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই দেশটির উপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ নজিরবিহীনভাবে বাড়াতে চলেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের মূল উদ্দেশ্য হল, কিউবায় তীব্র অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা তৈরি করা, যাতে সেখানকার বর্তমান সরকারের পক্ষে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আগ্রাসী মনোভাবের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাশাপাশি মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতির এক বড়সড় স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করতে মরিয়া যে তাঁর শাসনকালেই আমেরিকার অন্যতম প্রধান ও চিরশত্রুর স্থায়ী নিষ্পত্তি ঘটেছে। কিউবায় বামপন্থী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হলে সমগ্র লাতিন আমেরিকায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন এক বিরাট ধাক্কা খাবে। যা পুরো পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্য পুনরুত্থাপন করবে। এ ছাড়া, আগামী নভেম্বর মাসে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচন রয়েছে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া খরচ এবং অভিবাসী হেনস্থার মতো ঘটনায় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ। নির্বাচনের ঠিক আগে কিউবা দখল বা সেখানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে তা ট্রাম্পের জন্য এক মস্ত রাজনৈতিক জয় হিসেবে প্রমাণিত হবে।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিউবাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আর্থিক অবরোধের পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করে রেখেছে পেন্টাগন। যদিও ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের সবুজ সঙ্কেত দেননি এবং আপাতত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতার পরিবর্তনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে, কিউবার অর্থনীতির গলা টিপে ধরতে কোনও খামতি রাখছে না ওয়াশিংটন। এক উচ্চপদস্থ মার্কিন আধিকারিকের কথায়, ‘‘কিউবার অর্থনীতিতে কৃত্রিম উপায়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে ওখানকার শাসনব্যবস্থা ভারসাম্য হারাবে এবং এক চরম রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হবে। আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।’’


মার্কিন রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সমস্ত ধরনের আমদানি বন্ধ করার পাশাপাশি গত মাসেই মার্কিন সেনার ‘সাউদার্ন কমান্ড’ একটি বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়াকে কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যদিও সেনা কর্তাদের দাবি, কিউবায় এখনই হামলার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ আসামাত্রই তাঁরা পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। এদিকে, আমেরিকার এই লাগাতার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে কিউবায় জ্বালানি সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র খাদ্য সঙ্কটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় সেদেশের কারখানা ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : DonaldTrump GEOPOLITICS cubacrisis regimetrump

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


গ্রীষ্মের শেষেই কিউবায় ‘রিজিম চেঞ্জ’-এর ছক ট্রাম্পের! সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি মার্কিন সেনার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image
ওয়াশিংটন: চলতি বছরের গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার আগেই কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের পতন দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যপূরণে এবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই দেশটির উপর আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ নজিরবিহীনভাবে বাড়াতে চলেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের মূল উদ্দেশ্য হল, কিউবায় তীব্র অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা তৈরি করা, যাতে সেখানকার বর্তমান সরকারের পক্ষে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আগ্রাসী মনোভাবের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাশাপাশি মার্কিন ঘরোয়া রাজনীতির এক বড়সড় স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করতে মরিয়া যে তাঁর শাসনকালেই আমেরিকার অন্যতম প্রধান ও চিরশত্রুর স্থায়ী নিষ্পত্তি ঘটেছে। কিউবায় বামপন্থী সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব হলে সমগ্র লাতিন আমেরিকায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন এক বিরাট ধাক্কা খাবে। যা পুরো পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার একচেটিয়া আধিপত্য পুনরুত্থাপন করবে। এ ছাড়া, আগামী নভেম্বর মাসে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচন রয়েছে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া খরচ এবং অভিবাসী হেনস্থার মতো ঘটনায় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ। নির্বাচনের ঠিক আগে কিউবা দখল বা সেখানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে তা ট্রাম্পের জন্য এক মস্ত রাজনৈতিক জয় হিসেবে প্রমাণিত হবে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, কিউবাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আর্থিক অবরোধের পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করে রেখেছে পেন্টাগন। যদিও ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের সবুজ সঙ্কেত দেননি এবং আপাতত শান্তিপূর্ণ উপায়ে ‘রিজিম চেঞ্জ’ বা ক্ষমতার পরিবর্তনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে, কিউবার অর্থনীতির গলা টিপে ধরতে কোনও খামতি রাখছে না ওয়াশিংটন। এক উচ্চপদস্থ মার্কিন আধিকারিকের কথায়, ‘‘কিউবার অর্থনীতিতে কৃত্রিম উপায়ে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে ওখানকার শাসনব্যবস্থা ভারসাম্য হারাবে এবং এক চরম রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হবে। আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।’’মার্কিন রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সমস্ত ধরনের আমদানি বন্ধ করার পাশাপাশি গত মাসেই মার্কিন সেনার ‘সাউদার্ন কমান্ড’ একটি বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই মহড়াকে কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। যদিও সেনা কর্তাদের দাবি, কিউবায় এখনই হামলার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ আসামাত্রই তাঁরা পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। এদিকে, আমেরিকার এই লাগাতার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে কিউবায় জ্বালানি সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। তীব্র খাদ্য সঙ্কটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় সেদেশের কারখানা ও চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার