মুম্বই: চলতি সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে ভয়াবহ ধস নামল দেশের শেয়ার বাজারে। শুক্রবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সূচক সেনসেক্স এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সূচক নিফটি সামান্য উত্থানের সাথে যাত্রা শুরু করলেও তা স্থায়ী হয়নি। বেলা গড়াতেই বাজার ক্রমশ নিম্নমুখী হতে থাকে এবং লেনদেন বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে এক ঝটকায় খাদের কিনারে গিয়ে পৌঁছয় দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স। শেষবেলার এই নজিরবিহীন পতনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লগ্নিকারীদের প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা স্রেফ উবে গিয়েছে।
শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স আগের দিনের তুলনায় ১০৯২ পয়েন্ট বা ১.৪৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪,৭৭৫ পয়েন্টে। অন্যদিকে, নিফটি৫০ সূচক ১.৫০ শতাংশ বা ৩৫৯ পয়েন্ট খুইয়ে থিতু হয়েছে ২৩,৫৪৭ পয়েন্টে। দুই প্রধান সূচকের পাশাপাশি এদিন পতন দেখা গিয়েছে মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ ইনডেক্সেও। বিএসই ১৫০ মিড ক্যাপ ১.২৫ শতাংশ এবং বিএসই ২৫০ স্মল ক্যাপ ০.৬১ শতাংশ পড়েছে। একমাত্র নিফটি আইটি বাদে এদিন অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, মেটাল, কমোডিটিজ, অটো এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের মতো সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্সই ব্যাপক লোকসানের মুখ দেখেছে।
হঠাৎ কেন এই ধস? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এদিন পতনের প্রধানতম কারণ লগ্নিকারীদের একাংশের মধ্যে চলা আগ্রাসী প্রফিট বুকিং বা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা। তবে, এর পাশাপাশি গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো কাজ করেছে দেশের আবহাওয়া নিয়ে মৌসম ভবনের (IMD) নেতিবাচক পূর্বাভাস। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এবার বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টির এই ঘাটতি ও এল নিনোর প্রভাবে আগামী দিনে দেশের বাজারে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর, এই খবর সামনে আসতেই বাজারে শেয়ার বিক্রির হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের রিসার্চ প্রধান বিনোদ নায়ার এই পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আইএমডি বর্ষার পূর্বাভাস দীর্ঘমেয়াদি গড়ের ৯০ শতাংশে নামিয়ে আনার পর থেকেই বাজারে শেয়ার বিক্রির ব্যাপক চাপ দেখা গিয়েছে। স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি এবং এল নিনোর আশঙ্কায় লগ্নিকারীদের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, আগামী দিনে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে।’’
এছাড়া, বিশ্ববাজারের অস্থিরতাও দালাল স্ট্রিটের এই পতনে অনুঘটকের কাজ করেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ইরানের সঙ্গে মার্কিন শান্তিচুক্তিতে এখনও অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে, ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের (FII) লাগাতার পুঁজি তুলে নেওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতার মেলবন্ধনেই সপ্তাহের শেষ দিনে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতের শেয়ার বাজার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন