Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণে জটিলতা কাটাতে জেলায়-জেলায় হেল্প ডেস্ক, মাঠে নামলেন বিধায়করাও

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণে জটিলতা কাটাতে জেলায়-জেলায় হেল্প ডেস্ক, মাঠে নামলেন বিধায়করাও
AI GENERATED IMAGE

কলকাতা: রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মহিলাদের বিভ্রান্তি ও জটিলতা দূর করতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হল। মহিলারা যাতে কোনওরকম হয়রানির শিকার না হন, তার জন্য এবার জেলায়-জেলায় বিভিন্ন ব্লকে চালু করা হল বিশেষ হেল্প ডেস্ক। গত ২৭ মে সরকারের তরফে অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার একটি বিশদ ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন — দুই মাধ্যমেই এই ফর্ম পূরণ করা যাবে বলে জানানো হলেও, ফর্মের দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের বহর দেখে আমজনতার মনে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সমস্ত জিজ্ঞাসার সমাধান করতেই ব্লক স্তরে এই হেল্প ডেস্ক ও ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।


প্রশাসন সূত্রের খবর, ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে মহিলাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে মহিষাদল বিধানসভাকেন্দ্রের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা এবং হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের আধিকারিকরা নিজেরা উপস্থিত থেকে মহিলাদের পাশে দাঁড়ান। এদিন বিধায়ক নিজে ফর্মের প্রতিলিপি হাতে নিয়ে ক্যাম্পের মহিলাদের বুঝিয়ে দেন কোন ঘরে কী তথ্য লিখতে হবে। সরকারের এই সাহায্যে স্বভাবতই খুশি স্থানীয় মহিলারা।


হলদিয়ার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতেও তৈরি হয়েছে একইরকম হেল্প ডেস্ক। সেখানে বিশেষ ক্যাম্প করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিতরণের কাজ শুরু হয়। মেমারির বিধায়ক মানব গুহর উপস্থিতিতে এই ফর্ম বিলি প্রক্রিয়া শুরু করে ব্লক প্রশাসন। একইসঙ্গে যাঁদের ফর্ম পূরণ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের ওই ক্যাম্পেই ফর্ম পূরণ করে সরাসরি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মেমারির বিধায়ক জানান, মহিলাদের হয়রানি এড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। কারণ, পূর্বতন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম রয়েছে বলে অভিযোগ। তাই প্রকৃত ও যোগ্য প্রাপকরা যাতে এই নতুন প্রকল্পের আর্থিক অনুদান পান, তা নিশ্চিত করতেই এই নিখুঁত প্রয়াস চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাঁকুড়ার ছাতনাতেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে এই ফর্ম বিলি। ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এবং বিডিও সৌরভ ধল্ল-সহ অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছাতনা ব্লকের ঘোষেরগ্রাম অঞ্চলের এনারি কুশবনা গ্রামে সরাসরি বাড়ি-বাড়ি ঘুরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি করেন। সেইসঙ্গে, গ্রামীণ মানুষদের ফর্ম পূরণে সবরকম সহযোগিতা করেন তাঁরা।


উল্লেখ্য, বিগত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু বেনোজল বা ভুয়ো প্রাপক মিশে থাকার অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেইসমস্ত ভুয়ো নামগুলিকে ছেঁকে বাদ দিয়ে প্রকৃত যোগ্য এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দুর্বল মহিলাদের সঠিক সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই এই নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ভরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, ফর্ম পূরণ ও স্ক্রুটিনির এই প্রক্রিয়া যত দিন চলবে, তত দিন যাঁরা আগে থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন, তাঁরা সেই অনুদান নিয়মিত পেয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বিষয় : BengalPolitics westbengalgovernment SuvenduAdhikari annapurnayojana formfillup

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণে জটিলতা কাটাতে জেলায়-জেলায় হেল্প ডেস্ক, মাঠে নামলেন বিধায়করাও

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মহিলাদের বিভ্রান্তি ও জটিলতা দূর করতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হল। মহিলারা যাতে কোনওরকম হয়রানির শিকার না হন, তার জন্য এবার জেলায়-জেলায় বিভিন্ন ব্লকে চালু করা হল বিশেষ হেল্প ডেস্ক। গত ২৭ মে সরকারের তরফে অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার একটি বিশদ ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন — দুই মাধ্যমেই এই ফর্ম পূরণ করা যাবে বলে জানানো হলেও, ফর্মের দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের বহর দেখে আমজনতার মনে নানাবিধ প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সমস্ত জিজ্ঞাসার সমাধান করতেই ব্লক স্তরে এই হেল্প ডেস্ক ও ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।প্রশাসন সূত্রের খবর, ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে মহিলাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে মহিষাদল বিধানসভাকেন্দ্রের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা এবং হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের আধিকারিকরা নিজেরা উপস্থিত থেকে মহিলাদের পাশে দাঁড়ান। এদিন বিধায়ক নিজে ফর্মের প্রতিলিপি হাতে নিয়ে ক্যাম্পের মহিলাদের বুঝিয়ে দেন কোন ঘরে কী তথ্য লিখতে হবে। সরকারের এই সাহায্যে স্বভাবতই খুশি স্থানীয় মহিলারা।হলদিয়ার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতেও তৈরি হয়েছে একইরকম হেল্প ডেস্ক। সেখানে বিশেষ ক্যাম্প করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিতরণের কাজ শুরু হয়। মেমারির বিধায়ক মানব গুহর উপস্থিতিতে এই ফর্ম বিলি প্রক্রিয়া শুরু করে ব্লক প্রশাসন। একইসঙ্গে যাঁদের ফর্ম পূরণ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের ওই ক্যাম্পেই ফর্ম পূরণ করে সরাসরি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মেমারির বিধায়ক জানান, মহিলাদের হয়রানি এড়াতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। কারণ, পূর্বতন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম রয়েছে বলে অভিযোগ। তাই প্রকৃত ও যোগ্য প্রাপকরা যাতে এই নতুন প্রকল্পের আর্থিক অনুদান পান, তা নিশ্চিত করতেই এই নিখুঁত প্রয়াস চালানো হচ্ছে।অন্যদিকে, বাঁকুড়ার ছাতনাতেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে এই ফর্ম বিলি। ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় এবং বিডিও সৌরভ ধল্ল-সহ অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছাতনা ব্লকের ঘোষেরগ্রাম অঞ্চলের এনারি কুশবনা গ্রামে সরাসরি বাড়ি-বাড়ি ঘুরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি করেন। সেইসঙ্গে, গ্রামীণ মানুষদের ফর্ম পূরণে সবরকম সহযোগিতা করেন তাঁরা।উল্লেখ্য, বিগত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বহু বেনোজল বা ভুয়ো প্রাপক মিশে থাকার অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেইসমস্ত ভুয়ো নামগুলিকে ছেঁকে বাদ দিয়ে প্রকৃত যোগ্য এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দুর্বল মহিলাদের সঠিক সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই এই নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ভরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, ফর্ম পূরণ ও স্ক্রুটিনির এই প্রক্রিয়া যত দিন চলবে, তত দিন যাঁরা আগে থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন, তাঁরা সেই অনুদান নিয়মিত পেয়ে যাবেন বলে স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার