Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ত্রাণ চুরি থেকে টাকা লোপাট! রবিবাসরীয় ভোরে পুলিশের মেগা অভিযানে জালে বর্ধমানের ২ হেভিওয়েট প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতারা!

ত্রাণ চুরি থেকে টাকা লোপাট! রবিবাসরীয় ভোরে পুলিশের মেগা অভিযানে জালে বর্ধমানের ২ হেভিওয়েট প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতারা!
প্রতীকী ছবি

বর্ধমান: এক রবিবারের ভোরেই তোলপাড় গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলা! তোলাবাজি, হুমকি, একশো দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ‘চুরি’—একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অলরাউন্ড অ্যাকশনে রীতিমতো রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুধু জেলার ভেতরেই নয়, ভিন রাজ্যে ধাওয়া করেও পাকড়াও করা হয়েছে পলাতক নেতাকে। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে ইতিমধ্যেই শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে শাসকদলের দুই প্রাক্তন বিধায়ক এবং কাটোয়ার দুই প্রভাবশালী নেতার। এই মেগা ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


অভিযানের প্রথম ধাপে পুলিশের জালে ধরা পড়েন বর্ধমান পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার বিহারের মুঘলসরাই এলাকায় ওত পেতে বসেছিল পুলিশ বাহিনী। 


সেখানে তিনি পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে এ রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। তবে এখানেই শেষ নয়, রবিবার ভোর হতে না হতেই পূর্বস্থলী থানার পুলিশ বাহিনী আচমকা ঘিরে ফেলে পূর্বস্থলী উত্তরের আর এক প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রীর পাহাড়। তপনের বাড়ি থেকে আপাতত ২৭৫টি ত্রিপল, ২০টি ফুটবল এবং ১৪টি ভলিবল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ত্রাণ চুরির এই অকাট্য প্রমাণ মেলার পরেই প্রাক্তন বিধায়ককে তৎক্ষণাৎ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।


প্রাক্তন বিধায়কদের পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের মামলায় কাটোয়া থেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ মে কাটোয়া থানার করুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর অজান্তেই জবকার্ডের নথি ব্যবহার করে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল এবং সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজের উপভোক্তাদের টাকা লুঠ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে প্রথমে তৃণমূল নেতা দিগন্ত পালকে আটক করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একই মামলায় বিশ্বনাথ সাহা নামে আর এক তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছে কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং সুকেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদেরও।


এই গণ-গ্রেফতারির পর স্বাভাবিকভাবেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। লকআপে যাওয়ার আগে ধৃত তৃণমূল নেতা দিগন্ত পাল দাবি করেন, ২০১৬ সালে করুই অঞ্চলে যখন সিপিএমের প্রধান ছিল, তখনকার একটি পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। পুরো বিষয়টির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্য জুড়ে পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একই অভিযোগে এর আগে যখন প্রথমবার মামলা রুজু হয়েছিল, তখন কোনও তৃণমূল নেতার নাম ছিল না, পরে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম ঢোকানো হয়েছে। অন্যদিকে, কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপিও। বিজেপির কাটোয়া জেলার সহ-সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্য শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, এক সময় তৃণমূলের সন্ত্রাসের কারণে মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে, মানুষ নির্ভয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন এবং পুলিশও আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চোরদের ধরছে। বর্তমানে অভিযোগপত্রে নাম থাকা বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

বিষয় : tmcleaderarrested bardhawancorruption katwanews khokondas tapanchaterjee

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ত্রাণ চুরি থেকে টাকা লোপাট! রবিবাসরীয় ভোরে পুলিশের মেগা অভিযানে জালে বর্ধমানের ২ হেভিওয়েট প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেতারা!

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মে ২০২৬

featured Image
বর্ধমান: এক রবিবারের ভোরেই তোলপাড় গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলা! তোলাবাজি, হুমকি, একশো দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ‘চুরি’—একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অলরাউন্ড অ্যাকশনে রীতিমতো রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুধু জেলার ভেতরেই নয়, ভিন রাজ্যে ধাওয়া করেও পাকড়াও করা হয়েছে পলাতক নেতাকে। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে ইতিমধ্যেই শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে শাসকদলের দুই প্রাক্তন বিধায়ক এবং কাটোয়ার দুই প্রভাবশালী নেতার। এই মেগা ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।অভিযানের প্রথম ধাপে পুলিশের জালে ধরা পড়েন বর্ধমান পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার বিহারের মুঘলসরাই এলাকায় ওত পেতে বসেছিল পুলিশ বাহিনী। সেখানে তিনি পৌঁছানো মাত্রই তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে এ রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। তবে এখানেই শেষ নয়, রবিবার ভোর হতে না হতেই পূর্বস্থলী থানার পুলিশ বাহিনী আচমকা ঘিরে ফেলে পূর্বস্থলী উত্তরের আর এক প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ সামগ্রীর পাহাড়। তপনের বাড়ি থেকে আপাতত ২৭৫টি ত্রিপল, ২০টি ফুটবল এবং ১৪টি ভলিবল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ত্রাণ চুরির এই অকাট্য প্রমাণ মেলার পরেই প্রাক্তন বিধায়ককে তৎক্ষণাৎ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।প্রাক্তন বিধায়কদের পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের মামলায় কাটোয়া থেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ মে কাটোয়া থানার করুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁর অজান্তেই জবকার্ডের নথি ব্যবহার করে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল এবং সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজের উপভোক্তাদের টাকা লুঠ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে প্রথমে তৃণমূল নেতা দিগন্ত পালকে আটক করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একই মামলায় বিশ্বনাথ সাহা নামে আর এক তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই দুর্নীতির মামলায় নাম জড়িয়েছে কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং সুকেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদেরও।এই গণ-গ্রেফতারির পর স্বাভাবিকভাবেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। লকআপে যাওয়ার আগে ধৃত তৃণমূল নেতা দিগন্ত পাল দাবি করেন, ২০১৬ সালে করুই অঞ্চলে যখন সিপিএমের প্রধান ছিল, তখনকার একটি পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। পুরো বিষয়টির পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্য জুড়ে পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একই অভিযোগে এর আগে যখন প্রথমবার মামলা রুজু হয়েছিল, তখন কোনও তৃণমূল নেতার নাম ছিল না, পরে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম ঢোকানো হয়েছে। অন্যদিকে, কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপিও। বিজেপির কাটোয়া জেলার সহ-সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্য শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, এক সময় তৃণমূলের সন্ত্রাসের কারণে মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে, মানুষ নির্ভয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন এবং পুলিশও আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চোরদের ধরছে। বর্তমানে অভিযোগপত্রে নাম থাকা বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার