Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

আজ থেকেই স্কুলের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’! মাদ্রাসাতেও বাজবে সাউন্ড বক্স, নিয়মে মস্ত বদল

আজ থেকেই স্কুলের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’! মাদ্রাসাতেও বাজবে সাউন্ড বক্স, নিয়মে মস্ত বদল
আজ থেকেই স্কুলের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’। ছবি- সংগৃহীত

কলকাতা: গরমের লম্বা ছুটি কাটিয়ে সোমবার থেকেই রাজ্যে ফের খুলল স্কুল-মাদ্রাসার দরজা। তবে প্রথম দিনেই পঠনপাঠন শুরুর আগে এক বড়সড় নিয়মের বদল দেখল রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন। সরকারি কড়া নির্দেশিকা মেনে এবার থেকে প্রতিটি স্কুলের দৈনিক প্রার্থনা সঙ্গীতে বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল তো বটেই, এমনকি মাদ্রাসাগুলিতেও এই নিয়ম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম দিনেই স্কুল খোলার পর পড়ুয়াদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বঙ্কিম আবেগে ভাসলেন শিক্ষকরাও। সরকারের এই নজিরবিহীন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে যেমন চত্বরে চত্বরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, তেমনই সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

শিক্ষা দপ্তরের নয়া গাইডলাইন অনুযায়ী, স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি সম্পূর্ণ গাইতে হবে, যার জন্য নির্ধারিত সময় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এর সঙ্গে প্রথাগত জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার জন্য বরাদ্দ ৫২ সেকেন্ড যুক্ত হলে, দুটি মূল গানের জন্যই প্রতিদিন খরচ হবে ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড। অনেক স্কুলেই নিজস্ব কিছু ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থনা সঙ্গীত আগে থেকেই চালু রয়েছে, ফলে সব মিলিয়ে প্রার্থনা সভার সময়সীমা ১০ মিনিট পেরিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের একাংশ শুরুতেই পুরো গানটি গাওয়ার বদলে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষা দপ্তর সেই আবেদনে আমল না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পুরো গানটিই গাইতে হবে। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম দিনে অনেক পড়ুয়ারই পুরো গানটি মুখস্থ না থাকায়, শিক্ষকদের তরফ থেকে সাউন্ড বক্স ও মোবাইলের মাধ্যমে গানটি বাজিয়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পূর্ণ মুখস্থ না হওয়া পর্যন্ত জারি থাকবে।

নয়া এই সরকারি নির্দেশিকা থেকে বাদ যায়নি রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিও। সোমবার থেকে স্কুলগুলির পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলিও খুলেছে এবং সেখানেও সাউন্ড বক্সে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর ও গাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের মতে, ‘বন্দে মাতরম’ গানের প্রথম দুটি পংক্তি বা স্তবক গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ব্যবহারিক অসুবিধা ছিল না। কিন্তু মাদ্রাসার প্রাত্যহিক সূচির মধ্যে পুরো গানটি গাওয়ার বাধ্যবাধকতা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে অনেকেই আড়ালে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বিতর্ক বা দ্বিমত যাই থাকুক না কেন, আপাতত সরকারি নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়েই মাদ্রাসাগুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। ফলে সব মিলিয়ে, ছুটির পর প্রথম দিনেই এক সম্পূর্ণ নতুন আবহে রাজ্যে শুরু হলো স্কুল-মাদ্রাসার পঠনপাঠন।



হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : WestBengalNews EDUCATIONUPDATE VandeMataram SchoolReopening MadrasaNews GovernmentOrder

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


আজ থেকেই স্কুলের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’! মাদ্রাসাতেও বাজবে সাউন্ড বক্স, নিয়মে মস্ত বদল

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image
কলকাতা: গরমের লম্বা ছুটি কাটিয়ে সোমবার থেকেই রাজ্যে ফের খুলল স্কুল-মাদ্রাসার দরজা। তবে প্রথম দিনেই পঠনপাঠন শুরুর আগে এক বড়সড় নিয়মের বদল দেখল রাজ্যের শিক্ষাঙ্গন। সরকারি কড়া নির্দেশিকা মেনে এবার থেকে প্রতিটি স্কুলের দৈনিক প্রার্থনা সঙ্গীতে বাধ্যতামূলকভাবে গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল তো বটেই, এমনকি মাদ্রাসাগুলিতেও এই নিয়ম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম দিনেই স্কুল খোলার পর পড়ুয়াদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বঙ্কিম আবেগে ভাসলেন শিক্ষকরাও। সরকারের এই নজিরবিহীন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে যেমন চত্বরে চত্বরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, তেমনই সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।শিক্ষা দপ্তরের নয়া গাইডলাইন অনুযায়ী, স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি সম্পূর্ণ গাইতে হবে, যার জন্য নির্ধারিত সময় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এর সঙ্গে প্রথাগত জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়ার জন্য বরাদ্দ ৫২ সেকেন্ড যুক্ত হলে, দুটি মূল গানের জন্যই প্রতিদিন খরচ হবে ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড। অনেক স্কুলেই নিজস্ব কিছু ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থনা সঙ্গীত আগে থেকেই চালু রয়েছে, ফলে সব মিলিয়ে প্রার্থনা সভার সময়সীমা ১০ মিনিট পেরিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের একাংশ শুরুতেই পুরো গানটি গাওয়ার বদলে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষা দপ্তর সেই আবেদনে আমল না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পুরো গানটিই গাইতে হবে। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম দিনে অনেক পড়ুয়ারই পুরো গানটি মুখস্থ না থাকায়, শিক্ষকদের তরফ থেকে সাউন্ড বক্স ও মোবাইলের মাধ্যমে গানটি বাজিয়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পূর্ণ মুখস্থ না হওয়া পর্যন্ত জারি থাকবে।নয়া এই সরকারি নির্দেশিকা থেকে বাদ যায়নি রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিও। সোমবার থেকে স্কুলগুলির পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলিও খুলেছে এবং সেখানেও সাউন্ড বক্সে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর ও গাওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের একাংশের মতে, ‘বন্দে মাতরম’ গানের প্রথম দুটি পংক্তি বা স্তবক গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ব্যবহারিক অসুবিধা ছিল না। কিন্তু মাদ্রাসার প্রাত্যহিক সূচির মধ্যে পুরো গানটি গাওয়ার বাধ্যবাধকতা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে অনেকেই আড়ালে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বিতর্ক বা দ্বিমত যাই থাকুক না কেন, আপাতত সরকারি নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়েই মাদ্রাসাগুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। ফলে সব মিলিয়ে, ছুটির পর প্রথম দিনেই এক সম্পূর্ণ নতুন আবহে রাজ্যে শুরু হলো স্কুল-মাদ্রাসার পঠনপাঠন।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার