বহরমপুর: লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের চরম উত্তেজনার আবহ কাটতে না কাটতেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার দাপুটে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আচমকাই তাঁর ওপর থেকে সমস্ত কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সোমবার সন্ধ্যায় ইমেলের মাধ্যমে হুমায়ুনকে এই সিদ্ধান্তের কথা সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশিকা হাতে পৌঁছনোর পরই একে একে তাঁর ডেরা ছাড়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এজেইউপি নেতা। অধীর চৌধুরী কিংবা নওশাদ সিদ্দিকির নিরাপত্তা বহাল থাকলে, তাঁর নিরাপত্তা কেন এক লপ্তে তুলে নেওয়া হলো, সেই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে সরাসরি বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন হুমায়ুন।
উল্লেখ্য, নতুন দল গঠনের পর নিজের জীবনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করে আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তখন আদালতের কড়া নির্দেশেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'ওয়াই-প্লাস' (Y-Plus) ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। একজন ইনস্পেক্টর, একজন সাব-ইনস্পেক্টর এবং ১১ জন কনস্টেবলসহ মোট ১৩ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় থাকত হুমায়ুনের চারপাশে। ভোট মেটার পর আচমকাই সেই রক্ষাকবচ তুলে নিল দিল্লি। হুমায়ুন কবীর অবশ্য সাফ জানিয়েছেন, নিজের নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবারই তিনি পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলেও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে দ্রুত নিরাপত্তারক্ষী পাঠানো হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এদিকে হুমায়ুনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে অতীতে কম জলঘোলা হয়নি, তাঁকে অনবরত বিজেপির ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ করত তৃণমূলের একাংশ। এবার সেই সুরেই 'নতুন তৃণমূল' গঠন নিয়ে সোশ্যালে তীব্র বিষোদ্গার করেছেন নওদার বিধায়ক। নিজের ফেসবুক পেজে বোমা ফাটিয়ে হুমায়ুন লিখেছেন, কারা আসলে বিজেপির ‘বি’ টিম আর কারা আসল দালাল, তা আজ হাতেনাতে প্রমাণিত হয়ে গেল। বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন দল গঠনকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘যাহাই তৃণমূল, তাহাই বিজেপি।’ মুর্শিদাবাদের যে নেতারা চক্রান্ত করে তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করিয়েছিলেন, তাঁরা আজ কেন মমতার ছবি ব্যবহার করে জিতেও শেষ পর্যন্ত ঋতব্রতর হাত ধরলেন, সেই প্রশ্ন তুলে একে মানুষের রায়ের সঙ্গে চরম প্রতারণা বলে উল্লেখ করেছেন হুমায়ুন। রাজপাটের এই ডামাডোলের মাঝে হুমায়ুনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং তাঁর এই বিস্ফোরক পোস্ট যে বহরমপুর তথা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
বিষয় : WestBengalPolitics #humayunkabir ajup

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন