কলকাতা: দিঘার তাজপুরে আর হচ্ছে না বহুপ্রতীক্ষিত গভীর সমুদ্রবন্দর! বৃহস্পতিবার নবান্নে বন্দর ও উপকূলবর্তী এলাকার উন্নয়ন নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করা বাস্তবসম্মত ভাবে মোটেও সম্ভব নয় এবং এই বিষয়ে শিল্পগোষ্ঠী আদানিদের সঙ্গেও তাঁর সরাসরি আলোচনা হয়েছে। পূর্বতন সরকারের জমানায় পর্যাপ্ত জমি না থাকার কারণেই আদানিরা এই মেগা প্রজেক্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। তবে তাজপুর বাতিল হলেও দমে না গিয়ে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়কে কেন্দ্র করে এক বিশাল বিকল্প বন্দর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে নতুন রাজ্য সরকার। সেখানে সরকারের নিজস্ব মালিকানাধীন ১৭০০ একর জমি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের কাছ থেকে এই প্রকল্পের নীতিগত অনুমতিও মিলেছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
তাজপুরের বিকল্প খোঁজার পাশাপাশি রাজ্যের জলপথ ও উপকূলীয় পরিকাঠামোয় বিপ্লব আনার ব্লু-প্রিন্ট প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের ‘সাগরমালা ১’ প্রকল্পে যোগ না দিলেও শুভেন্দু সরকার ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পে কোমর বেঁধে নামছে। আগামী ৫ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের কাছে ২২,৭০০ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক প্রস্তাবনা পাঠাতে চলেছে নবান্ন। এই মেগা ফান্ডের মাধ্যমে সাগর দ্বীপ, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর, খেজুরি থেকে ওড়িশা সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পরিকাঠামো এবং বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোল বদলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলা ১৭টি ওয়াটার মেট্রোর পর দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এবার খাস কলকাতায় চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’। পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং কপিল মুনির আশ্রমের সার্বিক বিকাশে মোদী সরকার রাজ্যের সমস্ত অনুরোধ মেনে নিয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন গঙ্গাপাড়ের ঘাটগুলি নিয়েও এক অভিনব রূপরেখা তৈরি করেছে নতুন সরকার। বাগবাজার, শোভাবাজার, আহিরীটোলা, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট ও রামকৃষ্ণপুর ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং পুনর্নির্মাণের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। আগামী দুর্গাপুজোর আগেই এই ঘাটগুলির নবীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যেখানে ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব এবং মা সারদা দেবীর পবিত্র স্মৃতিকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে। এছাড়াও ৪৪টি নতুন জেটি তৈরির যে অনুমোদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল, তার মধ্যে ৪১টির ছাড়পত্র মিলেছে। তবে শুধু পরিকাঠামোই নয়, কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি রুখতে পুলিশ, সিআইএসএফ (CISF), কাস্টমস, পুরসভা এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ টাস্কফোর্স গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি জলপথ পরিবহণকে আরও গতি দিতে রাজ্যে একটি পৃথক জাহাজ দফতর গড়ার বিষয়েও দিল্লির সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে বলে আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন