Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মাইনাস ডিগ্রিতেও থমকে যাবে না চাকা! চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে লাদাখে ৭০০০ কোটির মহাপ্রকল্প কেন্দ্রের, তৈরি হচ্ছে জোড়া সুড়ঙ্গ!

মাইনাস ডিগ্রিতেও থমকে যাবে না চাকা! চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে লাদাখে ৭০০০ কোটির মহাপ্রকল্প কেন্দ্রের, তৈরি হচ্ছে জোড়া সুড়ঙ্গ!
ছবি সংগৃহীত

শ্রীনগর: হাড়কাঁপানো শীত আর ৫ থেকে ১০ ফুট বরফের চাদরে ঢেকে গেলেও এবার আর অবরুদ্ধ হবে না লাদাখ সীমান্ত! বছরের বারো মাসই যাতে ভারতের এই কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যায়, তা সুনিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। ১ নম্বর জাতীয় সড়কে ফোটু লা পাসে এক নতুন সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য ইতিমিধ্যেই দরপত্র আহ্বান করেছে সড়ক পরিবহণ এবং জাতীয় সড়ক মন্ত্রক। এই প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে কাশ্মীরের সঙ্গে লাদাখের যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে এবং মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও সেনার কনভয় থেকে শুরু করে পর্যটকদের গাড়ি— কেউ আর মাঝপথে থমকে থাকবে না।


কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীনগর-কার্গিল-লেহ সড়কের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও সর্বোচ্চ অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,১০৮ মিটার উঁচুতে গড়ে তোলা হচ্ছে এই ফোটু লা সুড়ঙ্গ। শুধু এই সুড়ঙ্গটির জন্যই ৮২৪.১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। জোড়া সুড়ঙ্গের এক একটির দৈর্ঘ্য হবে ২ কিলোমিটার এবং সংযোগকারী সড়ক মিলিয়ে গোটা প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ২.৬৫ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি এই রুটেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে ‘জোজিলা’ সুড়ঙ্গের কাজ। জোজিলা এবং ফোটু লা— এই দুই মেগা সুড়ঙ্গ নির্মাণে কেন্দ্রের মোট খরচ হচ্ছে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা। আগামী ৯ই জুন জোজিলা সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশের নির্মাণ শেষের ঐতিহাসিক মুহূর্তে সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। ২০২৮ সালের মধ্যে এশিয়ার দীর্ঘতম এই সুড়ঙ্গ পথটি দিয়ে পুরোদমে গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শ্রীনগর থেকে কার্গিল হয়ে লেহ যাওয়ার এই রাস্তাটি বছরের একটা বড় সময় ভারী তুষারপাতের কারণে পুরোপুরি বন্ধ থাকে। শীতকালে এখানে এতটাই বরফ পড়ে যে সর্বক্ষণ রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য বিশাল বাহিনী মোতায়েন রাখতে হয়। তা ছাড়া তীব্র উঁচুতে পাহাড়ের বিপজ্জনক বাঁকগুলোতে বরফ গলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার দরুন হামেশাই গাড়ি খাদে পড়ার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। সব ঋতুতে যাতায়াতের উপযোগী এই জোড়া সুড়ঙ্গ চালু হয়ে গেলে শীতের সেই মরণফাঁদ এক লহমায় অতীত হয়ে যাবে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত লাদাখে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দিতে পারবে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে আরও কয়েক গুণ মজবুত করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : TRAVEL NEWS' indianarmy FOTULATUNNEL ZOJILATUNNEL KASHMIRTOLADAKH BORDERNFRASTRUCTURE

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মাইনাস ডিগ্রিতেও থমকে যাবে না চাকা! চীন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে লাদাখে ৭০০০ কোটির মহাপ্রকল্প কেন্দ্রের, তৈরি হচ্ছে জোড়া সুড়ঙ্গ!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image
শ্রীনগর: হাড়কাঁপানো শীত আর ৫ থেকে ১০ ফুট বরফের চাদরে ঢেকে গেলেও এবার আর অবরুদ্ধ হবে না লাদাখ সীমান্ত! বছরের বারো মাসই যাতে ভারতের এই কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যায়, তা সুনিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার। ১ নম্বর জাতীয় সড়কে ফোটু লা পাসে এক নতুন সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য ইতিমিধ্যেই দরপত্র আহ্বান করেছে সড়ক পরিবহণ এবং জাতীয় সড়ক মন্ত্রক। এই প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে কাশ্মীরের সঙ্গে লাদাখের যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল বদলে যাবে এবং মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও সেনার কনভয় থেকে শুরু করে পর্যটকদের গাড়ি— কেউ আর মাঝপথে থমকে থাকবে না।কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীনগর-কার্গিল-লেহ সড়কের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও সর্বোচ্চ অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,১০৮ মিটার উঁচুতে গড়ে তোলা হচ্ছে এই ফোটু লা সুড়ঙ্গ। শুধু এই সুড়ঙ্গটির জন্যই ৮২৪.১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র, যা আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। জোড়া সুড়ঙ্গের এক একটির দৈর্ঘ্য হবে ২ কিলোমিটার এবং সংযোগকারী সড়ক মিলিয়ে গোটা প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ২.৬৫ কিলোমিটার। এর পাশাপাশি এই রুটেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে ‘জোজিলা’ সুড়ঙ্গের কাজ। জোজিলা এবং ফোটু লা— এই দুই মেগা সুড়ঙ্গ নির্মাণে কেন্দ্রের মোট খরচ হচ্ছে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা। আগামী ৯ই জুন জোজিলা সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশের নির্মাণ শেষের ঐতিহাসিক মুহূর্তে সেখানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। ২০২৮ সালের মধ্যে এশিয়ার দীর্ঘতম এই সুড়ঙ্গ পথটি দিয়ে পুরোদমে গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।শ্রীনগর থেকে কার্গিল হয়ে লেহ যাওয়ার এই রাস্তাটি বছরের একটা বড় সময় ভারী তুষারপাতের কারণে পুরোপুরি বন্ধ থাকে। শীতকালে এখানে এতটাই বরফ পড়ে যে সর্বক্ষণ রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য বিশাল বাহিনী মোতায়েন রাখতে হয়। তা ছাড়া তীব্র উঁচুতে পাহাড়ের বিপজ্জনক বাঁকগুলোতে বরফ গলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার দরুন হামেশাই গাড়ি খাদে পড়ার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। সব ঋতুতে যাতায়াতের উপযোগী এই জোড়া সুড়ঙ্গ চালু হয়ে গেলে শীতের সেই মরণফাঁদ এক লহমায় অতীত হয়ে যাবে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত লাদাখে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দিতে পারবে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে আরও কয়েক গুণ মজবুত করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার