Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মাসে মাইনে মাত্র ৬ হাজার! সেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের ঘরে মিলল নোটের পাহাড়, ৪ জেলার বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ দেখে চোখ চড়কগাছ পুলিশের

মাসে মাইনে মাত্র ৬ হাজার! সেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের ঘরে মিলল নোটের পাহাড়, ৪ জেলার বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ দেখে চোখ চড়কগাছ পুলিশের
সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে উদ্ধার ২ কোটি টাকা। ছবি-সংগৃহীত

ভুবনেশ্বর: মাত্র ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সাধারণ মধ্যবিত্তের মতো জীবন কাটানোর কথা থাকলেও, তাঁর ডেরায় তল্লাশি চালাতেই যা বেরোল, তাতে খোদ দুঁদে তদন্তকারীদেরও চোখ চড়কগাছ। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় ওড়িশার কন্ধমলের বালিগুড়ার অ্যাসিসট্যান্ট এগ্‌‌জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুণ্ঠনাথ বেহরার বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দিয়ে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ ও বিপুল সম্পত্তির পাহাড়ের হদিস পেল রাজ্য ভিজিল্যান্স দফতর। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকে হার মানানো এই ঘটনায় ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, জাজপুর এবং বালিগুড়া জুড়ে একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় পুলিশ। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর এই আলাদিনের চেরাগের হদিস মিলতেই বর্তমানে গোটা রাজ্য জুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।


তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সালে বৈকুণ্ঠনাথ বেহরা যখন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা। সম্প্রতি তিনি প্রোমোশন পেয়ে অ্যাসিসট্যান্ট এগ্‌‌জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন। তবে তাঁর আয়ের সাথে জীবনযাত্রার আকাশ-পাতাল অসঙ্গতি দেখে ভিজিল্যান্স দফতরের অফিসারদের সন্দেহ হয়। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন তদন্তকারীরা। বৈকুণ্ঠনাথের ব্যাঙ্কের লকার খুলতেই উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো প্রায় ২ কোটি টাকার কড়কড়ে নোট। এ ছাড়াও তাঁর বিভিন্ন বাড়ি ও অফিস থেকে নগদ আরও প্রায় তিন লক্ষ টাকা, প্রচুর সোনার গয়না এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন ভিজিল্যান্সের আধিকারিকেরা।


টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এই দুর্নীতিগ্রস্ত ইঞ্জিনিয়ারের রিয়েল এস্টেট সম্পত্তির খতিয়ান দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুঁদে অফিসাররা। জাজপুরের চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, ধর্মশালা থেকে শুরু করে বারিপদা ও কন্ধমলে একযোগে চলা অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৫টি বিশালাকার বহুতলের হদিস মিলেছে। এর মধ্যে খোদ ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারেই রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি চারতলা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদোপম বাড়ি। এখানেই শেষ নয়, তদন্তকারীরা বৈকুণ্ঠনাথের মোট ১৩টি বহুমূল্য জমির দলিল উদ্ধার করেছেন, যার মধ্যে ৭টি জমি রয়েছে খোদ ভুবনেশ্বরের প্রাইম লোকেশনে এবং বাকিগুলি ছড়ানো রয়েছে জাজপুর ও বারিপদায়। এই বিপুল সম্পত্তি আক্ষরিক অর্থেই হিমশৈলের চূড়ামাত্র বলে মনে করছে ভিজিল্যান্স দফতর। আর কোথায় কোথায় বেনামে এই ইঞ্জিনিয়ারের সম্পত্তি লুকানো রয়েছে, তা জানতে বৈকুণ্ঠনাথকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।

বিষয় : CRIMEUPDATE odishacorruption viglianceraid wealthscandal bhubaneswarnews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মাসে মাইনে মাত্র ৬ হাজার! সেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের ঘরে মিলল নোটের পাহাড়, ৪ জেলার বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ দেখে চোখ চড়কগাছ পুলিশের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image
ভুবনেশ্বর: মাত্র ৬ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সাধারণ মধ্যবিত্তের মতো জীবন কাটানোর কথা থাকলেও, তাঁর ডেরায় তল্লাশি চালাতেই যা বেরোল, তাতে খোদ দুঁদে তদন্তকারীদেরও চোখ চড়কগাছ। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় ওড়িশার কন্ধমলের বালিগুড়ার অ্যাসিসট্যান্ট এগ্‌‌জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুণ্ঠনাথ বেহরার বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দিয়ে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ ও বিপুল সম্পত্তির পাহাড়ের হদিস পেল রাজ্য ভিজিল্যান্স দফতর। কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকে হার মানানো এই ঘটনায় ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, জাজপুর এবং বালিগুড়া জুড়ে একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় পুলিশ। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর এই আলাদিনের চেরাগের হদিস মিলতেই বর্তমানে গোটা রাজ্য জুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সালে বৈকুণ্ঠনাথ বেহরা যখন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন, তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা। সম্প্রতি তিনি প্রোমোশন পেয়ে অ্যাসিসট্যান্ট এগ্‌‌জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন। তবে তাঁর আয়ের সাথে জীবনযাত্রার আকাশ-পাতাল অসঙ্গতি দেখে ভিজিল্যান্স দফতরের অফিসারদের সন্দেহ হয়। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন তদন্তকারীরা। বৈকুণ্ঠনাথের ব্যাঙ্কের লকার খুলতেই উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো প্রায় ২ কোটি টাকার কড়কড়ে নোট। এ ছাড়াও তাঁর বিভিন্ন বাড়ি ও অফিস থেকে নগদ আরও প্রায় তিন লক্ষ টাকা, প্রচুর সোনার গয়না এবং একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছেন ভিজিল্যান্সের আধিকারিকেরা।টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এই দুর্নীতিগ্রস্ত ইঞ্জিনিয়ারের রিয়েল এস্টেট সম্পত্তির খতিয়ান দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুঁদে অফিসাররা। জাজপুরের চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, ধর্মশালা থেকে শুরু করে বারিপদা ও কন্ধমলে একযোগে চলা অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৫টি বিশালাকার বহুতলের হদিস মিলেছে। এর মধ্যে খোদ ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারেই রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুটের একটি চারতলা বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদোপম বাড়ি। এখানেই শেষ নয়, তদন্তকারীরা বৈকুণ্ঠনাথের মোট ১৩টি বহুমূল্য জমির দলিল উদ্ধার করেছেন, যার মধ্যে ৭টি জমি রয়েছে খোদ ভুবনেশ্বরের প্রাইম লোকেশনে এবং বাকিগুলি ছড়ানো রয়েছে জাজপুর ও বারিপদায়। এই বিপুল সম্পত্তি আক্ষরিক অর্থেই হিমশৈলের চূড়ামাত্র বলে মনে করছে ভিজিল্যান্স দফতর। আর কোথায় কোথায় বেনামে এই ইঞ্জিনিয়ারের সম্পত্তি লুকানো রয়েছে, তা জানতে বৈকুণ্ঠনাথকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার