অশোকনগর: ক্ষমতার দাপট আর গুন্ডামি যে চিরকাল চলে না, তার আরও এক জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই যে সমস্ত দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম বড় সাফল্য মিলল সোমবার। অশোকনগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং এলাকার মূর্তিমান ত্রাস প্রবীর মজুমদার ওরফে গুপীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিপদ বুঝে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকার পর, দিনকয়েক আগে এলাকায় পা রাখতেই ওত পেতে থাকা পুলিশবাহিনী তাঁকে পাকড়াও করে। একটি পুরনো শ্লীলতাহানি, মারধর ও হুমকির মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও গুপীর বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল গোটা অশোকনগর জুড়ে।
রাজনীতিতে গুপীর হাতেখড়ি হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। একসময় গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য অশোকনগরেরই একটি কলেজের ক্যান্টিন চালাতেন তিনি। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসতেই জার্সি বদল করে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখান গুপী। তবে তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘোরে নারায়ণ গোস্বামী অশোকনগরের বিধায়ক হওয়ার পর। বিধায়কের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর কার্যত উল্কার গতিতে উত্থান হয় গুপীর, পেয়ে যান হাবড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের পদ। এই বিপুল ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় দেদার তোলাবাজি, জমি দখল ও সিন্ডিকেট রাজ শুরু করেন তিনি। তাঁর ভয়ে তটস্থ থাকতেন এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও।
গত বছর এপ্রিল মাসে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল অশোকনগর। সেই ঘটনাতেও মূল খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এই গুপী। অভিযোগ ওঠে, নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে টাকার বিনিময়ে নির্যাতিতার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। তাতে রাজি না হওয়ায় নাবালিকার অসহায় মাকে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগও ওঠে গুপী ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। তৎকালীন শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ তখন তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পায়নি। ফলে বহাল তবিয়তেই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এই বাহুবলী নেতা।
সস্ত্রীক ফেঁসে গেলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন
চলতি বছরে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই নিজের ভবিষ্যৎ আন্দাজ করতে পেরে এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন গুপী। কিন্তু দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সোমবার গোপনে বাড়ি ফিরতেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দেয় পুলিশ। পুরনো সেই শ্লীলতাহানির মামলাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে গুপীকে এবং মঙ্গলবারই তাঁকে আদালতে তোলা হবে। গুপীর গ্রেপ্তারের খবর চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়তেই অশোকনগরের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বয়ে গিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু গুপী একা নন, বিগত জমানায় অশোকনগর চত্বরকে নরক বানিয়ে রাখা নারায়ণ গোস্বামী ঘনিষ্ঠ আরও বেশ কয়েকজন চুনোপুঁটি ও রাঘববোয়াল এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরও অবিলম্বে গারদের ওপারে পাঠানোর দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষজন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন