Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

স্কুলের ‘সিক রুমে’ খাটের তলায় কোটি কোটি টাকা, সঙ্গে কন্ডোমের প্যাকেট! মধ্যরাতে কাঁচরাপাড়ায় যা ঘটল দেখলে চোখ কপালে উঠবে

স্কুলের ‘সিক রুমে’ খাটের তলায় কোটি কোটি টাকা, সঙ্গে কন্ডোমের প্যাকেট! মধ্যরাতে কাঁচরাপাড়ায় যা ঘটল দেখলে চোখ কপালে উঠবে
১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকার সন্ধান কাঁচরাপাড়ায় স্কুলে। ছবি-সংগৃহীত

কাঁচরাপাড়া: শিক্ষার আঙিনায় এ কোন পাপের সাম্রাজ্য! গভীর রাতে যখন গোটা শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার এক নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে আচমকাই হানা দিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর সেই রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযানে যা সামনে এল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে তদন্তকারীদেরও। স্কুলের অসুস্থ পড়ুয়াদের বিশ্রামের জায়গা অর্থাৎ ‘সিক রুম’-এর আলমারি খুলতেই বেরিয়ে এল থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অপারেশন চলে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে পর্যন্ত। একের পর এক আলমারি এবং গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝরাতেই নিয়ে আসতে হয় একের পর এক টাকা গোনার মেশিন। প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি মেশিন এনে ভোর সাড়ে ৪টে পর্যন্ত চলে বিরতিহীন টাকা গোনার কাজ।

টাকার পাহাড় উদ্ধার হতেই যখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, ঠিক তখনই সিক রুমের একই আলমারি থেকে উদ্ধার হয় কন্ডোমের প্যাকেট। স্কুলের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের আপত্তিকর সামগ্রী কীভাবে এল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সব স্তরেই উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন। কিছু দিন আগেই কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের কার্যালয় থেকে উই-ধরা সুটকেস ভর্তি টাকা, অস্ত্র এবং গর্ভনিরোধক উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, কাঁচরাপাড়ার এই ঘটনা যেন হুবহু একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্কুলের পঠনপাঠনের আড়ালে অন্য কোনও অনৈতিক চক্র বা মধুচক্র সচল ছিল কি না, তা নিয়ে জোরালো সন্দেহ দানা বাঁধছে।

এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির একটি ‘ডেটা ব্যাঙ্ক’ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন বীজপুরের নতুন বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। সেই কাজের সূত্র ধরেই বিধায়কের প্রতিনিধিরা এই স্কুলের চরম অনিয়মের খবর পান এবং রাতেই সেখানে সশরীরে হাজির হন বিধায়ক। এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। তিনি সরাসরি এই ঘটনাকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই কোটি কোটি টাকা স্কুলের নিজস্ব আয় নয়, বরং ইডি ও সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কমল অধিকারী, সুবোধ অধিকারী এবং পার্থ ভৌমিকের কালো টাকা এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই স্কুলের পরিচালন সমিতির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমলের নাম জড়িয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে, যদিও অভিযুক্তদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।

অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ এক লহমায় উড়িয়ে দিয়েছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশচন্দ্র পাল। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থ আসলে এপ্রিল মাস থেকে জমে থাকা পড়ুয়াদের ভরতির ফি, যা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে অ্যাকাউন্টস সেকশনের এই টাকা কেন ব্যাঙ্কে না রেখে সিক রুমে লুকানো ছিল, কিংবা আলমারির ভেতর গর্ভনিরোধকের প্যাকেট কীভাবে এল, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বয়ানে চরম অসঙ্গতি মেলায় ইতিমধ্যেই বীজপুর থানার পুলিশ স্কুলের ক্যাশিয়ার অভীক নাথ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন ঘোষকে আটক করেছে। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার উৎস ঠিক কোথায় এবং এর পেছনে আর কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : CrimeNews HiddenStoriesNews cashrecovery KanchraparaSchoolScandal BengalEducationScam

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


স্কুলের ‘সিক রুমে’ খাটের তলায় কোটি কোটি টাকা, সঙ্গে কন্ডোমের প্যাকেট! মধ্যরাতে কাঁচরাপাড়ায় যা ঘটল দেখলে চোখ কপালে উঠবে

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image
কাঁচরাপাড়া: শিক্ষার আঙিনায় এ কোন পাপের সাম্রাজ্য! গভীর রাতে যখন গোটা শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার এক নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে আচমকাই হানা দিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর সেই রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি অভিযানে যা সামনে এল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে তদন্তকারীদেরও। স্কুলের অসুস্থ পড়ুয়াদের বিশ্রামের জায়গা অর্থাৎ ‘সিক রুম’-এর আলমারি খুলতেই বেরিয়ে এল থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। বুধবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই অপারেশন চলে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে পর্যন্ত। একের পর এক আলমারি এবং গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝরাতেই নিয়ে আসতে হয় একের পর এক টাকা গোনার মেশিন। প্রথমে দুটি এবং পরে আরও একটি মেশিন এনে ভোর সাড়ে ৪টে পর্যন্ত চলে বিরতিহীন টাকা গোনার কাজ।টাকার পাহাড় উদ্ধার হতেই যখন তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, ঠিক তখনই সিক রুমের একই আলমারি থেকে উদ্ধার হয় কন্ডোমের প্যাকেট। স্কুলের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের আপত্তিকর সামগ্রী কীভাবে এল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল, সব স্তরেই উঠছে নৈতিকতার প্রশ্ন। কিছু দিন আগেই কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের কার্যালয় থেকে উই-ধরা সুটকেস ভর্তি টাকা, অস্ত্র এবং গর্ভনিরোধক উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, কাঁচরাপাড়ার এই ঘটনা যেন হুবহু একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্কুলের পঠনপাঠনের আড়ালে অন্য কোনও অনৈতিক চক্র বা মধুচক্র সচল ছিল কি না, তা নিয়ে জোরালো সন্দেহ দানা বাঁধছে।এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির একটি ‘ডেটা ব্যাঙ্ক’ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন বীজপুরের নতুন বিধায়ক সুদীপ্ত দাস। সেই কাজের সূত্র ধরেই বিধায়কের প্রতিনিধিরা এই স্কুলের চরম অনিয়মের খবর পান এবং রাতেই সেখানে সশরীরে হাজির হন বিধায়ক। এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়ক। তিনি সরাসরি এই ঘটনাকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, এই কোটি কোটি টাকা স্কুলের নিজস্ব আয় নয়, বরং ইডি ও সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা কমল অধিকারী, সুবোধ অধিকারী এবং পার্থ ভৌমিকের কালো টাকা এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই স্কুলের পরিচালন সমিতির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমলের নাম জড়িয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে, যদিও অভিযুক্তদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ এক লহমায় উড়িয়ে দিয়েছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশচন্দ্র পাল। তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল অর্থ আসলে এপ্রিল মাস থেকে জমে থাকা পড়ুয়াদের ভরতির ফি, যা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে অ্যাকাউন্টস সেকশনের এই টাকা কেন ব্যাঙ্কে না রেখে সিক রুমে লুকানো ছিল, কিংবা আলমারির ভেতর গর্ভনিরোধকের প্যাকেট কীভাবে এল, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বয়ানে চরম অসঙ্গতি মেলায় ইতিমধ্যেই বীজপুর থানার পুলিশ স্কুলের ক্যাশিয়ার অভীক নাথ এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন ঘোষকে আটক করেছে। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার উৎস ঠিক কোথায় এবং এর পেছনে আর কোন কোন রাঘববোয়াল জড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার