ঢাকা: রাত পোহালেই (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে সম্পন্ন হবে 'জুলাই সনদ' নিয়ে গণভোট। এই মেগা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বিশ্বের ২১টি দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। তবে, এই দীর্ঘ তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি ভারতের কোনও প্রতিনিধি না থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং জানিয়েছে, মোট ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন ৮০ জন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ২৪০ জন। এছাড়াও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রয়েছেন ৫১ জন।
তালিকায় দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান (৮), চিন (৩), শ্রীলঙ্কা (১১), রাশিয়া (২), তুরস্ক (১৩), জাপান (৪) এবং মালয়েশিয়ার (৬) মতো দেশগুলির প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। অথচ, এই তালিকায় ভারত এবং আমেরিকার নাম নেই। এছাড়া, নির্বাচন কভার করতে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন ৩৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক।
ভারত কেন কোনও প্রতিনিধি পাঠাল না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে তিনটি প্রধান জল্পনা উঠে আসছে। যথা -
১. নিরাপত্তা ও ভারত-বিরোধী হাওয়া: বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে তীব্র ভারতবিরোধী প্রচার এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত প্রতিনিধি পাঠাতে অনাগ্রহী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. কূটনৈতিক শৈত্য: ইউনূস সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির বর্তমান সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ নয়। ভারতের অনুপস্থিতি সেই শীতল সম্পর্কেরই প্রতিফলন হতে পারে।
৩. গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের মতে, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক বা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়ে নয়াদিল্লির মনে সংশয় রয়েছে। কোনও প্রতিনিধি না পাঠিয়ে ভারত পরোক্ষভাবে সেই বার্তাই দিতে চেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, ভারত ও আমেরিকা না থাকলেও বেশ কিছু প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নির্বাচনে নজর রাখছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL), ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI), ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) ও ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস।
বিষয় : Bangladesh Election Election Observer

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন