Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Kolkata Police Commissioner: রঙের দায়ে চাপানো ভুল! চিংড়িঘাটায় জোড়া বাইক দুর্ঘটনায় 'রিল' বানানোর জল্পনা পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
Kolkata Police Commissioner: রঙের দায়ে চাপানো ভুল! চিংড়িঘাটায় জোড়া বাইক দুর্ঘটনায় 'রিল' বানানোর জল্পনা পুলিশের
লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে নগরপাল। নিজস্ব ছবি

কলকাতা: উড়ালপুলে চাকা পিছলে জোড়া বাইক দুর্ঘটনা কি আদৌ রাস্তার 'রামধনু' রঙের কারণে, নাকি এর নেপথ্যে কাজ করছিল চলন্ত বাইকে ভিডিও বা 'রিল' বানানোর ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা? 

পুজোর মুখে শহর সাজাতে গিয়ে তৈরি হওয়া বহুল চর্চিত 'রামধনু রাস্তা' বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। বৃহস্পতিবার লালবাজারে 'বন্ধু কলকাতা' কর্মসূচির সূচনালগ্নে নগরপাল সাফ জানিয়ে দিলেন, রাস্তায় করা রঙ সম্পূর্ণ 'অ্যান্টি-স্কিড' অর্থাৎ পিছলরোধী। ফলে রঙের জন্যই বাইক পিছলে গিয়েছে, এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। বাইক চালকেরা রিল বানাতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুজোর মুখে শহরজুড়ে সৌন্দর্যায়নের অঙ্গ হিসেবে গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা উড়ালপুলসহ একাধিক জায়গায় রঙিন প্রলেপ দেওয়া হয়। কিন্তু গত বুধবার হালকা বৃষ্টি হতেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের তীব্র বাঁকে পর পর দুটি বাইক উল্টে যাওয়ার রোমহর্ষক দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই অবৈজ্ঞানিক রঙের ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া আক্রমণ শানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, "অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং যদি তুলতেই হয়, ছেলেমানুষি করে লাগালেন কেন?"

তীব্র বিতর্কের মাঝে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছিলেন যে ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনে অ্যান্টি-স্কিড পেইন্টই ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই একই যুক্তিতে সিলমোহর দিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। 

তিনি বলেন, "ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেই জানা গিয়েছে যে এতে অ্যান্টি-স্কিড উপাদান রয়েছে। তা ছাড়া বৃষ্টিতে সাধারণ রাস্তার জয়েন্ট বা স্টিল প্লেটে বাইক পিছলে যাওয়া স্বাভাবিক। বাইক চালক চালনার সময় রিল বানানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও আমরা শুনতে পেয়েছি, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।"

তবে বিতর্ক এড়াতে ও মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে লালবাজার ইতিমধ্যেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

  • গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিডব্রেকার ও 'ক্যাটস আই': উড়ালপুলের তীক্ষ্ণ বাঁকে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য 'গো স্লো' বোর্ড, স্পিডব্রেকার এবং পথ অমসৃণ রাখতে 'ক্যাটস আই' বসানো হয়েছে।

  • বৃষ্টি হলে বাইক চলাচলে রাশ: সিপি অজয় নন্দা জানিয়েছেন, যেহেতু চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে মারাত্মক বাঁক রয়েছে, তাই বর্ষণ চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে বাইক যাতায়াত সাময়িক ভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হতে পারে।

  • গড়িয়াহাটে নিয়ম শিথিল: তবে গড়িয়াহাট উড়ালপুল সম্পূর্ণ সোজা হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির সময় বাইক চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না।

অন্য দিকে, ক্ষোভের মুখে পড়ে বিতর্কিত কিছু জায়গা থেকে রং তুলে ফেলার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। সার্বিক প্রশাসনিক তৎপরতায় স্পষ্ট, বিতর্কের ঝড়ে নগরপালের যুক্তি যা-ই হোক না কেন, পুজোর আবহে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে লালবাজার।

বিষয় : #KolkataPolice #ChingrighataAccident #CPKolkata #AjayNanda #KolkataTraffic #AgnimitraPaul #HiddenStoriesNews #BreakingNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


Kolkata Police Commissioner: রঙের দায়ে চাপানো ভুল! চিংড়িঘাটায় জোড়া বাইক দুর্ঘটনায় 'রিল' বানানোর জল্পনা পুলিশের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: উড়ালপুলে চাকা পিছলে জোড়া বাইক দুর্ঘটনা কি আদৌ রাস্তার 'রামধনু' রঙের কারণে, নাকি এর নেপথ্যে কাজ করছিল চলন্ত বাইকে ভিডিও বা 'রিল' বানানোর ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা? পুজোর মুখে শহর সাজাতে গিয়ে তৈরি হওয়া বহুল চর্চিত 'রামধনু রাস্তা' বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। বৃহস্পতিবার লালবাজারে 'বন্ধু কলকাতা' কর্মসূচির সূচনালগ্নে নগরপাল সাফ জানিয়ে দিলেন, রাস্তায় করা রঙ সম্পূর্ণ 'অ্যান্টি-স্কিড' অর্থাৎ পিছলরোধী। ফলে রঙের জন্যই বাইক পিছলে গিয়েছে, এমন কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। বাইক চালকেরা রিল বানাতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।পুজোর মুখে শহরজুড়ে সৌন্দর্যায়নের অঙ্গ হিসেবে গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা উড়ালপুলসহ একাধিক জায়গায় রঙিন প্রলেপ দেওয়া হয়। কিন্তু গত বুধবার হালকা বৃষ্টি হতেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের তীব্র বাঁকে পর পর দুটি বাইক উল্টে যাওয়ার রোমহর্ষক দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই অবৈজ্ঞানিক রঙের ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হন নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া আক্রমণ শানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, "অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং যদি তুলতেই হয়, ছেলেমানুষি করে লাগালেন কেন?"তীব্র বিতর্কের মাঝে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছিলেন যে ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনে অ্যান্টি-স্কিড পেইন্টই ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই একই যুক্তিতে সিলমোহর দিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। তিনি বলেন, "ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেই জানা গিয়েছে যে এতে অ্যান্টি-স্কিড উপাদান রয়েছে। তা ছাড়া বৃষ্টিতে সাধারণ রাস্তার জয়েন্ট বা স্টিল প্লেটে বাইক পিছলে যাওয়া স্বাভাবিক। বাইক চালক চালনার সময় রিল বানানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও আমরা শুনতে পেয়েছি, যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।"তবে বিতর্ক এড়াতে ও মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে লালবাজার ইতিমধ্যেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিডব্রেকার ও 'ক্যাটস আই': উড়ালপুলের তীক্ষ্ণ বাঁকে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য 'গো স্লো' বোর্ড, স্পিডব্রেকার এবং পথ অমসৃণ রাখতে 'ক্যাটস আই' বসানো হয়েছে।বৃষ্টি হলে বাইক চলাচলে রাশ: সিপি অজয় নন্দা জানিয়েছেন, যেহেতু চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে মারাত্মক বাঁক রয়েছে, তাই বর্ষণ চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে বাইক যাতায়াত সাময়িক ভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হতে পারে।গড়িয়াহাটে নিয়ম শিথিল: তবে গড়িয়াহাট উড়ালপুল সম্পূর্ণ সোজা হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির সময় বাইক চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না।অন্য দিকে, ক্ষোভের মুখে পড়ে বিতর্কিত কিছু জায়গা থেকে রং তুলে ফেলার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। সার্বিক প্রশাসনিক তৎপরতায় স্পষ্ট, বিতর্কের ঝড়ে নগরপালের যুক্তি যা-ই হোক না কেন, পুজোর আবহে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে লালবাজার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত