বাঙালির পাতে মৌরলা মাছ উঠলেই জমে যায় দুপুরের খাওয়াদাওয়া। সর্ষে দিয়ে ঝালঝাল চচ্চড়ি হোক কিংবা কড়কড়ে ভাজা বাঙালির পাতে এই ছোট্ট মাছের আলাদা কদর রয়েছে। কিন্তু খেতে ভালো লাগলেও, বাজার থেকে কিনে এনে তা পরিষ্কার করতে বসলেই শুরু হয় বড় ঝামেলা। মৌরলা আকারে খুবই ছোট, আবার শরীরও নরম। তাই বঁটি বা ছুরি দিয়ে কাটতে গেলেই সহজে থেঁতলে যেতে পারে। আর পেটের অংশের ময়লা মাছের গায়ে লেগে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। একসঙ্গে অনেকটা মৌরলা পরিষ্কার করতে হলে কয়েকটি সহজ কৌশল কাজে লাগাতে পারেন।
১. নখ বা ছোট কাঁচিই যথেষ্ট
মৌরলার পাখনা ও কানকো ছাড়াতে সবসময় ধারালো ছুরি দরকার হয় না। বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর নখ দিয়ে পাখনা এবং কানকো চেপে টানলেই অনেকটা সহজে উঠে আসে। হাতে করতে অস্বস্তি হলে ছোট কাঁচি ব্যবহার করতে পারেন।
২. পেট পরিষ্কার করুন
কানকো ছাড়ানোর পর পেটের দিকে আঙুল দিয়ে খুব হালকা চাপ দিন। ঠিকমতো করলে ভেতরের নাড়িভুঁড়ি ও ময়লা বেরিয়ে আসবে। বেশি জোরে চাপ দিলে মাছ থেঁতলে যেতে পারে, তাই ধীরে করাই ভালো।
৩. কাজে লাগান নারকেলের মালা
মৌরলার আঁশ তোলার জন্য শুকনো নারকেলের শক্ত মালা কাজে লাগানো যায়। মাছগুলো একটি ছিদ্রযুক্ত ঝুড়িতে নিয়ে জলের নীচে রাখুন। এ বার মালার শক্ত অংশ দিয়ে মাছের গায়ে খুব হালকা করে গোল করে ঘষুন। আঁশগুলো আলগা হয়ে বেরিয়ে আসবে, মাছও অক্ষত থাকবে।
৪. প্লাস্টিকের জালি বা গ্লাসের ব্যবহার
বাড়িতে থাকা মোটা জালের প্লাস্টিকের ঝুড়ির খসখসে অংশ দিয়েও মাছ আলতো করে ঘষে আঁশ তোলা যায়। চাইলে স্টিলের চামচ বা কাচের গ্লাস লেজ থেকে মাথার দিকে হালকা হাতে চালিয়েও আঁশ ছাড়াতে পারেন। ছোট মাছ হওয়ায় চাপটা অবশ্যই কম রাখতে হবে।
৫. শেষে ঠিকভাবে ধুয়ে নিন
মৌরলা পরিষ্কার করার পর একবারে বেশি জল না দিয়ে কয়েক দফায় ধুয়ে নিন। এ ভাবে চার-পাঁচ বার জল বদলালে ময়লা অনেকটাই সরে যায়। আঁশটে গন্ধ বা মাছের পিছল ভাব কমাতে সামান্য নুন ও পাতিলেবুর রস মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে তারপর পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে পারেন। এরপর রান্নার জন্য তৈরি হয়ে যাবে মৌরলা মাছ।
বিষয় : Kitchen Tips

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন