নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনকে বিভক্ত হতে না দিয়ে আরও বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপ দিতে এবার কোমর বাঁধল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার দিল্লির ৫ নম্বর সুনহরি বাগ রোডের বাসভবনে বিরোধীদের ইন্ডি জোটের (INDIA Bloc) শীর্ষনেতা, বিরোধী সাংসদ, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের নিয়ে এক হাই-প্রোফাইল চা-চক্রের আয়োজন করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
উদ্দেশ্য, জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী এই আন্দোলনকে কেবল নির্দিষ্ট কোনও একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘জনআন্দোলন’-এর চেহারা দেওয়া এবং কেন্দ্রকে সব দিক থেকে কোণঠাসা করার সুনির্দিষ্ট কৌশল নির্ধারণ করা।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ পোস্ট করে রাহুল গান্ধী সাফ জানান, "আজকে ইন্ডি জোটের নেতৃবৃন্দ, বিরোধী সাংসদ, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আমি চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার এই গণসংগ্রামে আমরা সবাই একসূত্রে বাঁধা। সমস্ত প্রতিবাদ এখন একটাই মঞ্চে এসে মিশেছে।"
বৈঠক শেষে শীর্ষ নেতৃত্বকে সাথে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে এক প্রতিবাদ মিছিলেও অংশ নেন রাহুল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সপা প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি কার্যকারী সভাপতি তেজস্বী যাদব, সিপিআই-এর ডি রাজা, সিপিএম-এর এম এ বেবি এবং এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা এক জনস্বার্থ পিটিশনে রাহুলদের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর সমস্ত সিদ্ধান্ত পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে এবং ফর্ম-৬ সংক্রান্ত যে পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে রদ করে একটি স্বাধীন অডিট টিম গঠন করতে হবে।
বৈঠকে যোগ দিয়ে এনসিপি নেতা সুপ্রিয়া সুলে তোপ দেগে বলেন, "সংবিধান ও আম্বেদকরের দেওয়া অধিকার চরম বিপন্ন। তাই দিল্লি থেকে গ্রাম স্তর পর্যন্ত এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।" অন্য দিকে, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের সরাসরি তোপ, "প্রধানমন্ত্রী মোদী, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমার একত্রে মিলে ভোট চুরির পরিকল্পনা করছেন। সিবিআই, ইডি-র মতো কমিশনকেও হাইজ্যাক করা হয়েছে।"
বিরোধীরা যখন রাহুলের চা-চক্রে জ্ঞানেশ-বিরোধী ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই আন্দোলনকে ভিন্ন মোড় দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিজেপি। কংগ্রেসের মণিপুরি সাংসদ অঙ্গোমচা বিমল আকোইজামের জেএনইউ (JNU) থেকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাকে সামনে রেখে দিল্লিতে কংগ্রেস সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।
সব মিলিয়ে, দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের পারদ এখন চরম সীমায়।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন