Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

India China Ladakh row 2026: ব্রিকস মঞ্চের সৌজন্য কি শুধুই লোকদেখানো? অরুণাচলের পর এবার লাদাখ নিয়ে ফাঁস চিনের চালবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
India China Ladakh row 2026: ব্রিকস মঞ্চের সৌজন্য কি শুধুই লোকদেখানো? অরুণাচলের পর এবার লাদাখ নিয়ে ফাঁস চিনের চালবাজি
লাদাখ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ভারত-চিন সম্পর্কে। ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাত মেলানো বা কূটনৈতিক সৌজন্যের বার্তা কি তবে শুধুই আন্তর্জাতিক মঞ্চের লোকদেখানো নাটক? 

অরুণাচল প্রদেশের ওপর চিনের নজরদারির পর এবার লাদাখকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে নিজেদের চেনা আক্রমণাত্মক রূপ ও চাঞ্চল্যকর চালবাজি সামনে আনল বেজিং। মঙ্গলবার চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারত একতরফা ও বেআইনিভাবে তৈরি করা ‘লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’কে বেজিং কখনওই স্বীকৃতি দেয়নি এবং দেবেও না।

সম্প্রতি 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া' প্রকাশিত সরকারি মানচিত্রে লাদাখের গোগরা ও হট স্প্রিংসের মতো ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা, পর্বতশৃঙ্গ ও জলাশয়ের নতুন নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছে চিন। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ওই এলাকাগুলি ইতিহাসজুড়েই চিনের অংশ ছিল এবং ভারতের এই নামকরণের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শিনজিয়াং প্রদেশের অধীনে হেয়ান ও হেকাং নামে দুটি নতুন প্রদেশ তৈরি করে লাদাখের অংশকে নিজেদের বলে দাবি করেছিল বেজিং। তার জবাবেই ২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮টি কৌশলগত স্থানের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে দিল্লি।

কিন্তু চিনের এই সাম্প্রতিক চরম সুরেলা বিরোধিতায় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে বেজিংয়ের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আখেরে ভারতের বিদেশনীতি কী পেল?

চিনের এই একতরফা এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও একচুল জমি ছাড়তে নারাজ। মঙ্গলবার চিনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া বার্তা দিয়ে সাফ জানান, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি এক প্রতিষ্ঠিত সত্য।

চিন যতই অস্বীকার বা প্রতিবাদ করুক না কেন, এই ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সত্যের কোনো পরিবর্তন ঘটানো যাবে না।” ভারতের স্পষ্ট যুক্তি, নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ডের প্রশাসনিক পরিচয় ও মানচিত্র তৈরি করার অধিকার সম্পূর্ণভাবে দিল্লির এক্তিয়ারভুক্ত, সেখানে অন্য কারো আপত্তির কোনো স্থান নেই।

২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার শহিদ হওয়ার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে ফাটল ধরেছিল, আংশিক সেনা প্রত্যাহারের পরও তা জোড়া লাগেনি। বরং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, 'পাকিস্তান-চিন যৌথ সীমান্ত কমিশন'কে ভারত যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল, ঠিক সেভাবেই চিনের আগ্রাসনের জবাবে ভারতের এই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল। তবে চিনের এই লাগাতার অনড় মনোভাব প্রমাণ করছে, কূটনৈতিক স্তরে হাত মেলানো হলেও বাস্তবে সীমান্তে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের ছক থেকে এক চুলও সরেনি বেজিং।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #IndiaChinaTension #LadakhRow #MEAIndia #RandhirJaiswal #BRICS #MaoNing #LineOfActualControl #IndiaChinaBorder #NewDelhiNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


India China Ladakh row 2026: ব্রিকস মঞ্চের সৌজন্য কি শুধুই লোকদেখানো? অরুণাচলের পর এবার লাদাখ নিয়ে ফাঁস চিনের চালবাজি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাত মেলানো বা কূটনৈতিক সৌজন্যের বার্তা কি তবে শুধুই আন্তর্জাতিক মঞ্চের লোকদেখানো নাটক? অরুণাচল প্রদেশের ওপর চিনের নজরদারির পর এবার লাদাখকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে নিজেদের চেনা আক্রমণাত্মক রূপ ও চাঞ্চল্যকর চালবাজি সামনে আনল বেজিং। মঙ্গলবার চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারত একতরফা ও বেআইনিভাবে তৈরি করা ‘লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’কে বেজিং কখনওই স্বীকৃতি দেয়নি এবং দেবেও না।সম্প্রতি 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া' প্রকাশিত সরকারি মানচিত্রে লাদাখের গোগরা ও হট স্প্রিংসের মতো ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা, পর্বতশৃঙ্গ ও জলাশয়ের নতুন নামকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছে চিন। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, ওই এলাকাগুলি ইতিহাসজুড়েই চিনের অংশ ছিল এবং ভারতের এই নামকরণের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শিনজিয়াং প্রদেশের অধীনে হেয়ান ও হেকাং নামে দুটি নতুন প্রদেশ তৈরি করে লাদাখের অংশকে নিজেদের বলে দাবি করেছিল বেজিং। তার জবাবেই ২ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮টি কৌশলগত স্থানের নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে দিল্লি। কিন্তু চিনের এই সাম্প্রতিক চরম সুরেলা বিরোধিতায় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে বেজিংয়ের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আখেরে ভারতের বিদেশনীতি কী পেল?চিনের এই একতরফা এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও একচুল জমি ছাড়তে নারাজ। মঙ্গলবার চিনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া বার্তা দিয়ে সাফ জানান, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি এক প্রতিষ্ঠিত সত্য। চিন যতই অস্বীকার বা প্রতিবাদ করুক না কেন, এই ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সত্যের কোনো পরিবর্তন ঘটানো যাবে না।” ভারতের স্পষ্ট যুক্তি, নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ডের প্রশাসনিক পরিচয় ও মানচিত্র তৈরি করার অধিকার সম্পূর্ণভাবে দিল্লির এক্তিয়ারভুক্ত, সেখানে অন্য কারো আপত্তির কোনো স্থান নেই।২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার শহিদ হওয়ার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে ফাটল ধরেছিল, আংশিক সেনা প্রত্যাহারের পরও তা জোড়া লাগেনি। বরং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, 'পাকিস্তান-চিন যৌথ সীমান্ত কমিশন'কে ভারত যেভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল, ঠিক সেভাবেই চিনের আগ্রাসনের জবাবে ভারতের এই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল। তবে চিনের এই লাগাতার অনড় মনোভাব প্রমাণ করছে, কূটনৈতিক স্তরে হাত মেলানো হলেও বাস্তবে সীমান্তে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের ছক থেকে এক চুলও সরেনি বেজিং।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত