Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Durga Pujo 2026: কলকাতার পুজোয় একঘেয়েমি? এ বার ঘুরে আসুন বড়ি কোঠির ঐতিহাসিক প্রাসাদে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Durga Pujo 2026: কলকাতার পুজোয় একঘেয়েমি? এ বার ঘুরে আসুন বড়ি কোঠির ঐতিহাসিক প্রাসাদে!
ফাইল ছবি

কলকাতা: কলকাতার থিমের মণ্ডপ আর উপচে পড়া ভিড় থেকে একটু বিরতি নিতে চান? তা হলে এ বার পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন মুর্শিদাবাদের বড়ি কোঠি থেকে। ভাগীরথীর তীরে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে দুর্গাপুজোর আবহের সঙ্গে মিশে রয়েছে বাংলার পুরনো দিনের ইতিহাস, বনেদিয়ানা আর ঐতিহ্য। ১৭০০-র দশকের শেষ দিকে তৈরি বড়ি কোঠি আজও ধরে রেখেছে তার আভিজাত্য। তবে এই প্রাসাদের আকর্ষণ শুধু পুরনো স্থাপত্যে নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বণিক পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ইতিহাস। 

বড়ি কোঠির ইতিহাস জানতে গেলে ফিরে তাকাতে হবে শেহেরওয়ালি সম্প্রদায়ের দিকে। রাজস্থানের বাসিন্দা দুধোরিয়া পরিবার জগৎশেঠের আহ্বানে মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জে এসেছিল। জৈন ধর্মাবলম্বী এই বণিক সম্প্রদায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নিজেদের খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের সংস্কৃতিতে বিশেষ ছাপ ফেলেছিল। পরিবারের প্রবীণ সদস্য রাই বাহাদুর বুধ সিং দুধোরিয়ার বাড়ি হিসেবেই উনিশ শতকের শেষ দিকে ‘বড়ি কোঠি’ নামটি পরিচিতি পায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর ধরে সংস্কারের মাধ্যমে প্রাসাদটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়। বর্তমানে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী হোটেল। 

দুর্গাপুজোর সময় বড়ি কোঠির আকর্ষণ তার পারিবারিক ঐতিহ্য ও উৎসবের পরিবেশে। প্রাসাদটির কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দুর্গাপুজোয় অংশ নেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই ছবি বড়ি কোঠির বিশেষ পরিচয়। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য রয়েছে বাউল ও ফকিরি গানের আসর, ঐতিহ্যবাহী পথ ধরে ঘোরার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নানা সুযোগ। তবে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান, ভোগ কিংবা অতিথিদের পুজোয় অংশগ্রহণের নির্দিষ্ট সূচি এখনও নিশ্চিত নয়। তাই যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। 

এখানে গেলে শুধু পুজো নয়, ঘুরে দেখতে পারেন আজিমগঞ্জের পুরনো বাড়িঘর, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং ভাগীরথীর তীর। চাইলে বড়ি কোঠির বিশেষ অভিজ্ঞতার তালিকা থেকে নৌকাবিহার, ঐতিহ্য ভ্রমণ কিংবা স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার পরিকল্পনাও করতে পারেন। কলকাতা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার পথ—তাই পুজোর ছুটিতে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর নিরিবিলি পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে বড়ি কোঠি হতে পারে অন্যরকম গন্তব্য।

বিষয় : kolkatadurgapujo barikothihistory bengali heritage

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


Durga Pujo 2026: কলকাতার পুজোয় একঘেয়েমি? এ বার ঘুরে আসুন বড়ি কোঠির ঐতিহাসিক প্রাসাদে!

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: কলকাতার থিমের মণ্ডপ আর উপচে পড়া ভিড় থেকে একটু বিরতি নিতে চান? তা হলে এ বার পুজোর ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন মুর্শিদাবাদের বড়ি কোঠি থেকে। ভাগীরথীর তীরে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে দুর্গাপুজোর আবহের সঙ্গে মিশে রয়েছে বাংলার পুরনো দিনের ইতিহাস, বনেদিয়ানা আর ঐতিহ্য। ১৭০০-র দশকের শেষ দিকে তৈরি বড়ি কোঠি আজও ধরে রেখেছে তার আভিজাত্য। তবে এই প্রাসাদের আকর্ষণ শুধু পুরনো স্থাপত্যে নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বণিক পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ইতিহাস। বড়ি কোঠির ইতিহাস জানতে গেলে ফিরে তাকাতে হবে শেহেরওয়ালি সম্প্রদায়ের দিকে। রাজস্থানের বাসিন্দা দুধোরিয়া পরিবার জগৎশেঠের আহ্বানে মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জে এসেছিল। জৈন ধর্মাবলম্বী এই বণিক সম্প্রদায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নিজেদের খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের সংস্কৃতিতে বিশেষ ছাপ ফেলেছিল। পরিবারের প্রবীণ সদস্য রাই বাহাদুর বুধ সিং দুধোরিয়ার বাড়ি হিসেবেই উনিশ শতকের শেষ দিকে ‘বড়ি কোঠি’ নামটি পরিচিতি পায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর ধরে সংস্কারের মাধ্যমে প্রাসাদটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়। বর্তমানে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী হোটেল। দুর্গাপুজোর সময় বড়ি কোঠির আকর্ষণ তার পারিবারিক ঐতিহ্য ও উৎসবের পরিবেশে। প্রাসাদটির কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দুর্গাপুজোয় অংশ নেন। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই ছবি বড়ি কোঠির বিশেষ পরিচয়। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য রয়েছে বাউল ও ফকিরি গানের আসর, ঐতিহ্যবাহী পথ ধরে ঘোরার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নানা সুযোগ। তবে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজো উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান, ভোগ কিংবা অতিথিদের পুজোয় অংশগ্রহণের নির্দিষ্ট সূচি এখনও নিশ্চিত নয়। তাই যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। এখানে গেলে শুধু পুজো নয়, ঘুরে দেখতে পারেন আজিমগঞ্জের পুরনো বাড়িঘর, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং ভাগীরথীর তীর। চাইলে বড়ি কোঠির বিশেষ অভিজ্ঞতার তালিকা থেকে নৌকাবিহার, ঐতিহ্য ভ্রমণ কিংবা স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার পরিকল্পনাও করতে পারেন। কলকাতা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার পথ—তাই পুজোর ছুটিতে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর নিরিবিলি পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে বড়ি কোঠি হতে পারে অন্যরকম গন্তব্য।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত