Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Nepal Flood: বিকট শব্দে কাঁপল হিমালয়! নেপালের বুড়ি গণ্ডকীতে ভয়াবহ হড়পা বান, নিশ্চিহ্ন গ্রাম-সেতু, নিখোঁজ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
Nepal Flood: বিকট শব্দে কাঁপল হিমালয়! নেপালের বুড়ি গণ্ডকীতে ভয়াবহ হড়পা বান, নিশ্চিহ্ন গ্রাম-সেতু, নিখোঁজ ৪
নেপালের বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বান। ছবি-সংগৃহীত

কাঠমান্ডু: আতঙ্ক আর অন্ধকারের বুক চিরে ভোরে ভেসে এল এক ‘বিকট শব্দ’। মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে উঠল পাহাড়ি নদী। বুঝে ওঠার আগেই জলের খরস্রোতা নদী ভাসিয়ে নিয়ে গেল বসতবাড়ি, হোটেল থেকে শুরু করে একের পর এক সেতু। গত অগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দিয়ে ফের বিধ্বংসী হড়পা বানের কবলে পড়ল নেপাল। উত্তর নেপালের গোর্খা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীতে রবিবার ভোরে নেমে আসে এই প্রলয়ঙ্করি জলচ্ছ্বাস। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর।


স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ গোর্খা জেলার চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভা সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎই নদীতে জলের তোড় বাড়তে শুরু করে। ঘুমন্ত বাসিন্দারা হঠাৎ এক বিকট গর্জন শুনতে পান। বিপদ বুঝে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ফেলে রেখেই উঁচু এলাকার দিকে ছুটতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকার একাধিক বসতবাড়ি। যোগাযোগের মূল মাধ্যম দুটি ঝুলন্ত সেতুও তোড়ের মুখে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।


দুর্যোগের আকস্মিকতায় কার্যত স্তম্ভিত এলাকার মানুষ। অন্ধকার আর আতঙ্কের মধ্যে কেবল চারপাশের ধ্বংসলীলার শব্দ পাচ্ছিলেন তারা। ভোরের আলো ফুটতেই চোখে পড়ে তছনছ হয়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ জনপদ। এর পরেই জানা যায়, অন্তত চারজন গ্রামবাসীর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের খোঁজে স্থানীয় মানুষ তল্লাশি শুরু করলেও এখনও তাঁদের কোনও হদিস মেলেনি।


আচমকা এই বান আসার কারণ নিয়ে অবশ্য দ্বিমত রয়েছে। গোর্খার মুখ্য জেলা আধিকারিক ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র জানান, সিউরিবাসের উপরে ভয়াবহ ভূমিধস নেমেছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শনিবার রাতে ধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়। রবিবার ভোরে জলের প্রচণ্ড চাপে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ফেটে গিয়েই নিচে নামে মারাত্মক হড়পা বান। ঘটনার পর নদী সংলগ্ন গোর্খা, ধাদিং ও চিতোয়ান জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।


পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপাল প্রশাসন। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে ও ত্রাণ পৌঁছাতে সেনার একাধিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। অগস্ট মাসের ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকোনোর আগেই বুড়ি গণ্ডকীর এই তাণ্ডবে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে হিমালয়ের কোলে।

বিষয় : FlashFloods HimalayanCrisis nepl disaster nepalflash burigandhaki

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


Nepal Flood: বিকট শব্দে কাঁপল হিমালয়! নেপালের বুড়ি গণ্ডকীতে ভয়াবহ হড়পা বান, নিশ্চিহ্ন গ্রাম-সেতু, নিখোঁজ ৪

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কাঠমান্ডু: আতঙ্ক আর অন্ধকারের বুক চিরে ভোরে ভেসে এল এক ‘বিকট শব্দ’। মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে উঠল পাহাড়ি নদী। বুঝে ওঠার আগেই জলের খরস্রোতা নদী ভাসিয়ে নিয়ে গেল বসতবাড়ি, হোটেল থেকে শুরু করে একের পর এক সেতু। গত অগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দিয়ে ফের বিধ্বংসী হড়পা বানের কবলে পড়ল নেপাল। উত্তর নেপালের গোর্খা জেলার বুড়ি গণ্ডকী নদীতে রবিবার ভোরে নেমে আসে এই প্রলয়ঙ্করি জলচ্ছ্বাস। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর।স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ গোর্খা জেলার চুমুব্রি গ্রামীণ পুরসভা সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎই নদীতে জলের তোড় বাড়তে শুরু করে। ঘুমন্ত বাসিন্দারা হঠাৎ এক বিকট গর্জন শুনতে পান। বিপদ বুঝে প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ফেলে রেখেই উঁচু এলাকার দিকে ছুটতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে যায় সল্লেরি, পাইয়ুকা এবং জগৎ এলাকার একাধিক বসতবাড়ি। যোগাযোগের মূল মাধ্যম দুটি ঝুলন্ত সেতুও তোড়ের মুখে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।দুর্যোগের আকস্মিকতায় কার্যত স্তম্ভিত এলাকার মানুষ। অন্ধকার আর আতঙ্কের মধ্যে কেবল চারপাশের ধ্বংসলীলার শব্দ পাচ্ছিলেন তারা। ভোরের আলো ফুটতেই চোখে পড়ে তছনছ হয়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ জনপদ। এর পরেই জানা যায়, অন্তত চারজন গ্রামবাসীর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের খোঁজে স্থানীয় মানুষ তল্লাশি শুরু করলেও এখনও তাঁদের কোনও হদিস মেলেনি।আচমকা এই বান আসার কারণ নিয়ে অবশ্য দ্বিমত রয়েছে। গোর্খার মুখ্য জেলা আধিকারিক ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র জানান, সিউরিবাসের উপরে ভয়াবহ ভূমিধস নেমেছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শনিবার রাতে ধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়। রবিবার ভোরে জলের প্রচণ্ড চাপে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ফেটে গিয়েই নিচে নামে মারাত্মক হড়পা বান। ঘটনার পর নদী সংলগ্ন গোর্খা, ধাদিং ও চিতোয়ান জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপাল প্রশাসন। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে ও ত্রাণ পৌঁছাতে সেনার একাধিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। অগস্ট মাসের ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকোনোর আগেই বুড়ি গণ্ডকীর এই তাণ্ডবে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে হিমালয়ের কোলে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত