হলদিয়া: দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শিল্পহীনতার অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে বঙ্গে ফুটল বাণিজ্যের নতুন সূর্য। বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের জমানার ব্যর্থতা ও নীতিহীনতার জেরে রাজ্য থেকে যখন একের পর এক শিল্প মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, ঠিক তখনই পালাবদলের পর রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিল্পায়নের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হল।
চতুর্থীর পবিত্র লগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে ফিরল সুদিন। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দেশের বৃহত্তম ফেনল এবং অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বার্তা দিলেন, বাংলা আর ভাতার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকবে না, বরং আত্মনির্ভর ভারতের প্রকৃত শরিক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
বুধবার সকালে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে হলদিয়া পেট্রোকেমিকেলস লিমিটেডের সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা ‘অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মেগা প্ল্যান্টের উদ্বোধন করা হয়। চতুর্থীর এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবনীত নারায়ণ, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন মজুমদার, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সহ বিশিষ্টজনেরা।
উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ শানান পূর্বের সরকারের দিকে। তিনি বলেন, “রাজ্যটা বড্ড ভাতানির্ভর হয়ে পড়েছিল। সেই অনুশোচনা এবং খরা কাটিয়ে আজ আমরা আত্মনির্ভরতার পথে পা রাখলাম। বিদেশ থেকে ফেনল বা অ্যাসিটোন আমদানির দিন শেষ, আজকের এই প্ল্যান্ট চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে তা সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে এল।”
হলদিয়ার এই মেগা প্রকল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৪০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, হলদিয়াকে ফের দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও কর্মসংস্থানের হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আরও একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, হলদিয়ায় খুব শীঘ্রই ৯৮ একর জমির ওপর পেপসির একটি বিশাল নরম পানীয়র উৎপাদন ইউনিট তৈরি হবে। পাশাপাশি, ৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্র প্রস্তুতকারী কারখানা। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিকের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে একটি ৫০ শয্যার ‘ট্রমা কেয়ার এবং বার্ন ইউনিট’ চালুর কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, বাংলার প্রতিটি কোণায় শিল্পায়নের জোয়ার আনতে মুকেশ আম্বানি থেকে গৌতম আদানিদের মতো শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যেই রিলায়েন্স গোষ্ঠীর তরফে হরিণঘাটায় ‘ক্যাম্পা কোলা’ প্ল্যান্ট গড়ার কাজ চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী ২৮ অক্টোবর বুধবার তার শিলান্যাস করা হবে।
অন্যদিকে নিউটাউনে আদানিদের হাসপাতাল তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। অতীতে শিল্পের নামে রাজনৈতিক বঞ্চনা আর ধৃতরাষ্ট্রের নীতির কারণে যে বাংলাকে অবক্ষয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল, পালাবদলের পর নতুন সরকারের এই মেগা বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের জোয়ার প্রমাণ করে দিল— বাংলার হারানো শিল্প গৌরব ফিরে আসার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন