নয়াদিল্লি: দেশের আইনি ও রাজনৈতিক আঙিনায় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। বিরোধীদের প্রায় যে কোনও আইনি সংকট মোচনে বা হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক মামলায় যিনি সব সময় থাকেন প্রথম সারিতে, সেই প্রবীন আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বলের মুখেই এবার শোনা গেল বেনজির হতাশার সুর। দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিব্বল বললেন, “বারবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে গিয়ে আমি ক্লান্ত। জানি না আদৌ কোনও লাভ হবে কি না।”
ঘটনার নেপথ্যে শনিবার দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র পরিকল্পিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশের নজিরবিহীন বাধাদান। একের পর এক শীর্ষ নেতাকে আটক ও রাজধানী কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন কপিল সিব্বল। সরকারের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে সোচ্চার হয়ে বর্ষীয়ান এই আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, দেশের নাগরিকরা যদি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি পেশ বা বিক্ষোভ জানাতে চান, তবে তাতে প্রশাসনের সমস্যা কোথায়? সিব্বলের দাবি, যে আইনি ধারায় সিজেপি নেতাদের গ্রেফতার ও দমন করা হয়েছে, তার কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিই নেই।
সাংবাদিক বৈঠকেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিরোধীরা এই ইস্যুতে আবার শীর্ষ আদালতের কাছে যাবেন কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই মারাত্মক ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ পায় প্রবীণ এই আইনজীবীর গলায়। আসলে ভোটার তালিকা থেকে ঢালাও নাম বাদ পড়া এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে একাধিক আর্জি পেশ করেছিলেন কপিল সিব্বল। কিন্তু তথ্যপ্রমাণের অভাবে কিংবা আইনি জটিলতায় আদালত সেই আর্জি শোনেনি বা স্বস্তি দেয়নি।
পরপর ধাক্কা খেয়েই সম্ভবত এতটা ক্ষুব্ধ সিব্বল। যদিও নিজের এই বিতর্কিত মন্তব্যের পর কিছুটা পিছু হটে সাফাইয়ের সুরেই তিনি জানান, এই বক্তব্য একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। প্রধান বিচারপতির ভূমিকা বা আদালতের সার্বিক মনোভাব নিয়ে তাঁর অসন্তোষ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিব্বল স্পষ্ট করে দেন যে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিষয় নয়। একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁরা সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্যই আদালতে সওয়াল করেন।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন