মোগল ইতিহাস নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে খাবারের প্রসঙ্গ টেনে বিপাকে প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা লেখিকা টুইঙ্কল খন্না। তাঁর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। টুইঙ্কলের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নেটপ্রভাবী সীমা খের। পাল্টা পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইতিহাসের একটি হিংসাত্মক অধ্যায়কে বোঝাতে খাবারের উদাহরণ টানা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
টুইঙ্কল আসলে ব্যঙ্গাত্মক সুরেই লেখেন, “যাঁরা ইতিহাসের বই থেকে মোগলদের মুছে ফেলতে চান, তাঁদের প্রথমে দুপুরের খাবারে বদল আনতে হবে। কোফতা, কোর্মা, কাবাব - এ সব খাওয়া ছেড়ে দিন। মোগলাই পনির খেয়ে তো সেটা হবে না। একই সঙ্গে দুটো কাজ করতে পারবেন না।” তবে বিষয়টি মোটেই মজার বলে মনে হয়নি সীমা খেরের। টুইঙ্কলকে উদ্দেশ্য করে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সীমা লেখেন, “নৃশংস ইতিহাসের সঙ্গে খাবারের তুলনা করা বা দু’টিকে এক করে দেখা মজারও নয়, যুক্তিসঙ্গতও নয়।” এর পরেই টুইঙ্কলের স্বামী অক্ষয় কুমারের ছবি ‘কেশরী’-র প্রসঙ্গ টেনে আনেন সীমা। ২০১৯ সালের এই ছবি সারাগঢ়ীর যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি।
সেই প্রসঙ্গেই সীমা লেখেন, “সারাগঢ়ীর যুদ্ধের উপর তৈরি হয়েছিল ‘কেশরী’। ঠিক এই কারণেই এমন গল্প নিয়ে ছবি তৈরি করার প্রয়োজন হয়েছিল, কারণ আমাদের স্কুলের বইয়ে এই ধরনের ঘটনা প্রায় পড়ানোই হয়নি। আর হ্যাঁ, আপনার স্বামী এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এমনকি, বলা হয়, ছবিটি দেখে আপনি কেঁদেছিলেন এবং একে দুর্দান্ত ছবি বলেছিলেন। তা হলে সেই ছবি আপনাকে ওই সময়ের হিংসার কথা মনে করিয়ে দিলেও পরের দিন থেকে আপনি কি মুরগির নানা পদ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন?” শুধু ‘কেশরী’-র প্রসঙ্গই নয়, ইতিহাসের সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক টানার যুক্তি নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন সীমা। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঐতিহাসিক ঘটনার ভয়াবহতা স্বীকার করা এবং সেই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত খাবার খাওয়া কোনওভাবেই দুটিকে এক করে দেখা যায় না।
বিষয় : Bollywood Twinkle Khanna

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন