Hidden Stories (বাংলা)

Sumit Roy: যা করেছেন অভিষেকের নির্দেশে, জেরায় বিস্ফোরক দাবি সুমিতের!

কলকাতা: শালবনি খাস জমি দুর্নীতি মামলায় চরম মোড়। দীর্ঘ টানা জেরায় ভেঙে পড়ে সিআইডি (CID) আধিকারিকদের কাছে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। সূত্রের খবর, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৮০ ধারায় দেওয়া গোপন জবানবন্দিতে সুমিত স্বীকার করেছেন, শালবনিতে সরকারি জমি জাল নথির সাহায্যে বিক্রির নেপথ্যে তিনি যা যা পদক্ষেপ করেছেন, তা সবই খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশে। খোদ কালীঘাটের বাড়ি থেকে সুমিতের গ্রেফতারি এবং তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর শালবনি জমি কেলেঙ্কারিতে এবার সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন উঠে গেল।তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শালবনি এলাকায় বিপুল পরিমাণ খাস সরকারি জমি ভুয়ো কাগজপত্র ও নথি তৈরি করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই দুর্নীতি চক্রে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা প্রথমে গ্রেপ্তার করেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। সুজয়কে দফায় দফায় জেরা করে সুমিত রায়ের নাম প্রথম জানতে পারেন তদন্তকারীরা। এরপরই চাঞ্চল্যকর গতি পায় তদন্ত। মেদিনীপুর আদালতে সিআইডির পেশ করা প্রাথমিক চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভুয়ো জমি কারবারের কাটমানি ও দুর্নীতির টাকা সুজয় হাজরার হাত ধরে সরাসরি পৌঁছাত সুমিতের অফিসে।তদন্তে সিআইডি মূলত তিনটি বড় হাতিয়ারকে সামনে রেখে এগোচ্ছে, প্রথমত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা দেহরক্ষীর বয়ান। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্ত সুজয় হাজরার গাড়ির চালকের চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি। এবং তৃতীয়ত, ধৃত সুমিত রায়ের মোবাইল ফোন থেকে বাজেয়াপ্ত করা ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ। চালকের দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে, কী ভাবে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ নির্দিষ্ট আস্তানায় পৌঁছে দেওয়া হতো। কিন্তু এত কোটি কোটি টাকার মূল উৎস এবং এর অন্তিম সুবিধাভোগী কে, তা জানতেই সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।আদালত চত্বরে রাজ্যের সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব জানান, সিআইডি হেফাজতে থাকাকালীন সুমিত রায়কে জেরা করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাঁর সমস্ত বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি আইন মেনে রেকর্ড করা হয়েছে। সরকারি আইনজীবীর কথায়, “অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, শালবনি জমি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত অন্যান্য ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে সুমিতকে জেরা করা হয়েছে, যা থেকে বহু বিস্ফোরক ক্লু মিলেছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ আদালতের কাছে পেশ করা হয়েছে।” আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিনের জোরালো সওয়াল করলেও বিচারক তা খারিজ করে দেন এবং ধৃত সুমিত রায়কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও ৫ দিনের জন্য সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।আপ্তসহায়কের এই বিস্ফোরক জবানবন্দির পর রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিআইডি কি এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠাবে? নাকি আইনি পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপে এগোবেন গোয়েন্দারা? এই প্রশ্নকে ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Sumit Roy: যা করেছেন অভিষেকের নির্দেশে, জেরায় বিস্ফোরক দাবি সুমিতের!