Hidden Stories (বাংলা)

Abhishek Banerjee: ‘এত ভয় কেন, ক্ষমতা থাকলে লড়ুন!’ শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটের বিতর্কিত বিলবোর্ড কাণ্ডে শেক্সপিয়র সরণি থানায় দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা শেষে বাইরে বেরিয়েই রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চুকিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি বা জনসমর্থন যদি না-ই থাকে, তবে দল ভাঙানো, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা এবং একের পর এক নেতাকে জেলে পুরেও মুখ্যমন্ত্রীর রাতের ঘুম উড়েছে কেন? এই হুঙ্কারেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাতের পারদ আরও চড়তে চলেছে।বুধবার সকাল ১১টায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিতে প্রবেশ করেছিলেন অভিষেক। সেখান থেকে বেরিয়ে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। জেরা চলাকালীন তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলে দাবি করলেও, যেভাবে রাষ্ট্রশক্তি ও পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, তার তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূল নেতা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে অভিষেক কটাক্ষের সুরে বলেন, “তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে গিয়ে জ্ঞানেশ নিজেই ফ্রিজ হয়ে যাবেন। জ্ঞানেশ কুমার হলেন বিজেপির ‘প্রাণভোমরা’। তাঁকে বাঁচাতেই মরিয়া নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহরা, কারণ জ্ঞানেশ ফাঁসলে বিজেপির একটা নেতাও বাঁচবে না।” এছাড়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা মনোজ আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্তের প্রসঙ্গ টেনেও একহাত নেন তিনি।বিলবোর্ড ভাঙার আইনি বৈধতা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক জানান, কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন অনুযায়ী কোনও ডিমোলিশন বা বিলবোর্ড খোলার আগে নোটিস দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাঁর সংস্থাকে কোনো আইনি নোটিস দেওয়া হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, সেদিন শুধু ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের হোর্ডিং বা বিলবোর্ডই কেন টার্গেট করা হলো? দিল্লি ও বাংলার শাসকদলকে এক বন্ধনীতে ফেলে তিনি বলেন, “সারদা-নারদা চোরেরা সিবিআই নোটিস পেতেই বিজেপিতে গিয়ে পালিয়েছিল। আজ রাষ্ট্রশক্তিকে অপব্যবহার করে জবরদস্তি বাংলা দখল করা হয়েছে, তাই এই সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ অবৈধ।”পাশাপাশি, দিল্লিতে সিজেপি (CJP) নেতাদের গ্রেফতারি এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার তীব্র নিন্দা করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “নিজের দেশে কি তেরঙা পতাকা দেখানোর অধিকারও আমার নেই? ব্রিটিশ আমলে যা হতো, বিজেপির জমানায় ঠিক তাই ঘটছে।” সব মিলিয়ে, থানা থেকে বেরিয়ে অভিষেকের এই ঝাঁঝালো আক্রমণ বুঝিয়ে দিল যে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের রাজনৈতিক লড়াইয়েও বিন্দুমাত্র পিছু হঠতে নারাজ ঘাসফুল শিবির।

Abhishek Banerjee: ‘এত ভয় কেন, ক্ষমতা থাকলে লড়ুন!’ শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেকের