Agnimitra Paul: সমালোচনার ঝড়েও অনড় অগ্নিমিত্রা, ফ্লাইওভারের নীচে খেলার মাঠ তৈরির নতুন মেগা নকশা পুরমন্ত্রীর
কলকাতা: রাস্তায় 'রামধনু' রঙের পরত এবং চিংড়িহাটার দুর্ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের তীক্ষ্ণ আক্রমণের মুখে পড়লেও সৌন্দর্যায়নের সংকল্প থেকে এক ইঞ্চিও পিছু হঠছেন না পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। উল্টে বিরোধীদের খোঁচা উপেক্ষা করেই শহরের উড়ালপুল বা ফ্লাইওভারগুলির নীচের অব্যবহৃত ফাঁকা জায়গাগুলিকে নতুন রূপ দেওয়ার বড় ঘোষণার কথা জানালেন তিনি। পঞ্চমীর সকালে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ব্রিজের নীচের অংশে নেট দিয়ে ঘিরে ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ব্যস্ত শহরের তরুণ-তরুণীরা কাজের শেষে একটু বিনোদনের সুযোগ পান।সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও ফ্লাইওভার রঙ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, রং করার জেরে সড়ক পিছল হয়ে চিংড়িহাটা সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বাইক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে জনগণের করের টাকা অপচয় করা হচ্ছে।বিরোধীদের তোলা সমস্ত অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, রাস্তার এই রঙ সম্পূর্ণ 'অ্যান্টি-স্কিড' অর্থাৎ পিছলে যাওয়ার মতো নয়। চিংড়িহাটার দুর্ঘটনা রঙের জন্য হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসন সব রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সঙ্গে করের টাকা নষ্টের অভিযোগ খারিজ করে মন্ত্রী বলেন, "এই রঙ করার কাজে জনসাধারণের কোনও টাকা খরচ করা হয়নি। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার সিএসআর (CSR) ফান্ড থেকে এই সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে।" বিরোধীদের কটাক্ষ করে অগ্নিমিত্রার সংযোজন, "যাঁরা ৩৪ বছর আর ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে কোনও কাজ করেননি, তাঁদের কথায় কান দেব না। কিন্তু সাধারণ জনগণ কিছু বললে তা নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখব।"উড়ালপুলের নিচের ফাঁকা জায়গা কীভাবে সাজানো হবে, তার একটা রূপরেখাও তুলে ধরেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের নীচে যেমন নিয়মিত দাবা খেলা হয়, ঠিক সেই পথেই শহর জুড়ে নতুন ভাবনা বাস্তবায়িত করা হবে:খেলার উন্মুক্ত পরিসর: ফ্লাইওভারের নীচের চওড়া ফাঁকা জায়গায় নেট টাঙিয়ে টেবিল টেনিস, ক্যারাম এবং অন্যান্য ইনডোর খেলার পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।কর্মজীবীদের বিনোদন: অফিসের পর যুবক-যুবতীরা যাতে ব্রিজের নীচে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, তার ব্যবস্থা থাকবে।সিএসআর ফান্ডে অর্থায়ন: এই সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বিজনেস চেম্বারগুলিকে তাদের সিএসআর ফান্ড দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।তবে নতুন কিছু করতে গেলে রাজনৈতিক চক্রান্ত আর বিরোধীদের সমালোচনার আশঙ্কার কথাও গোপন করেননি মন্ত্রী। তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, "শহর সাজানোর প্রচুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু নতুন কিছু করতে গেলেই ভয় লাগে। চারিদিকে হাহাকার শুরু করে দেওয়া হয়।" তা সত্ত্বেও তিলোত্তমাকে সাজানোর প্রক্রিয়া যে থেমে থাকবে না, তা তাঁর কথায় পরিষ্কার।