Hidden Stories (বাংলা)

আট বছর পর বারাসতে 'বড় ম্যাচ'! ডার্বি ঘিরে শহর জুড়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা

বারাসত: দীর্ঘ আট বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের বারাসতের মাটিতে ফিরছে মহারণ। সোমবার কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের মেগা ম্যাচে বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রধান। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই ঐতিহ্যবাহী বারাসত স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতা ডার্বি। ময়দানের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে বারাসত শহরজুড়ে এখন তীব্র উন্মাদনা ও ফুটবলের উৎসবমুখর মেজাজ। তবে এই বাড়তি উত্তেজনার পারদ মেপে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দিক থেকে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে নারাজ বারাসত জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।রবিবার বারাসত বিদ্যাসাগর স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বসেন পুলিশ সুপার জে.মার্সি-সহ জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ম্যাচের সুরক্ষায় মোট ৬ জন অ্যাডিশনাল এসপি পদমর্যাদার শীর্ষ আধিকারিকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে মোতায়েন রাখা হচ্ছে প্রায় ১১০০ পুলিশকর্মী। ভিড় ও উত্তেজনার মাত্রা সামাল দিতে প্রয়োজনে বারাসত পুলিশ জেলার বাইরে থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী আনা হচ্ছে।মাঠে আসা দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে বিশেষ নীল নকশা। স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শকদের পার হতে হবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী (Three-Tier Security)। সোমবার বিকেল ৫টায় বাঁশি বাজলেও, দুপুর ৩টে থেকেই কার্যকর হয়ে যাবে এই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান, উভয় দলের সমর্থকদের ঝামেলা এড়াতে করা হয়েছে পৃথক প্রবেশপথ এবং আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।প্রথম স্তরের নিরাপত্তায় টিকিটের বৈধতা পরীক্ষা করে দর্শকদের নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে পাঠানো হবে। দ্বিতীয় স্তরে মেটাল ডিটেক্টর ও শারীরিক তল্লাশির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে ব্যাগ ও সঙ্গে থাকা সামগ্রী। শেষ স্তরে আইএফএ বা আয়োজকদের তরফে টিকিটের কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করার পর মিলবে স্টেডিয়ামে ঢোকার চূড়ান্ত ছাড়পত্র।অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিয়মকানুন করা হয়েছে অত্যন্ত কড়া। মাঠে পানীয় জলের বোতল, ছাতা, কয়েন কিংবা কোনো ধরনের ধারালো বা নিষিদ্ধ সামগ্রী নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দর্শকেরা সঙ্গে কেবল মোবাইল ফোন নিয়েই ঢুকতে পারবেন। গ্যালারিতে যাতে দর্শকেরা কষ্ট না পান, তার জন্য স্টেডিয়ামের ভিতরেই প্রচুর পানীয় জলের বন্দোবস্ত রাখছে পুলিশ ও আয়োজকরা। স্টেডিয়ামের চারপাশে সমর্থকদের কোনো অনভিপ্রেত জমায়েত করতে দেওয়া হবে না।শুধু স্টেডিয়াম চত্বরই নয়, স্তব্ধ হতে পারে যানজটও। সে কথা মাথায় রেখে সোমবার দুপুর ৩টের পর থেকে বারাসত শহরের অভ্যন্তরে পণ্যবাহী গাড়ি বা গুডস ভেহিকল চলাচলে বিশেষ বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে। স্টেডিয়ামের ঠিক বিপরীত দিকে থাকা একটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরেই এই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনো বড়সড় অঘটন বা জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিকল্প পরিকল্পনাসমূহ। সাধারণ দর্শকদের জন্য ৪টি প্রধান গেট খোলা রাখা হলেও আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত আরও ২টি গেট সংরক্ষিত থাকছে। যেকোনো রকমের শারীরিক অসুস্থতায় দ্রুত পরিষেবা দিতে প্রস্তুত থাকছে অ্যাম্বুল্যান্স ও বিশেষ মেডিক্যাল টিম। মোট কথা, আট বছর পর বারাসতের বুকে বড় ম্যাচের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রস্তুত প্রশাসন।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

আট বছর পর বারাসতে 'বড় ম্যাচ'! ডার্বি ঘিরে শহর জুড়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা