Hidden Stories (বাংলা)

অনুদান ১ লক্ষ! অষ্টমীর দিন বন্ধ মদের দোকান, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম শারদোৎসব। নতুন রাজ্য সরকারের পরিচালনায় কী ভাবে পালিত হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব, পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন কিংবা কার্নিভাল নিয়েই বা কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চরম জল্পনা চলছিল বিভিন্ন মহলে। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে রাজ্যজুড়ে থাকা পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মেগা প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠকে বসে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহাঅষ্টমীর পবিত্রতা রক্ষা থেকে শুরু করে ক্লাবগুলির আর্থিক অনুদান— বৈঠক থেকে একগুচ্ছ নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। যার মধ্যে অন্যতম বড় ঘোষণা হলো, দুর্গাপুজোর মহাঅষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধরনের মদের দোকান ও বার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।মহাঅষ্টমীতে বন্ধ মদের দোকান ও বার উৎসবের আবহ বজায় রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো সমন্বয় বৈঠক থেকে তিনি সাফ জানান, মহাঅষ্টমীর দিন রাজ্যের কোথাও কোনও মদের দোকান খোলা যাবে না। শুধু মদের দোকানই নয়, ওই দিন রেস্তোরাঁ কিংবা হোটেল সংলগ্ন সমস্ত ধরনের বার ও পানশালাতেও মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। অষ্টমীর পুজো, অঞ্জলি ও উৎসবের মূল পরিবেশের পবিত্রতা বজায় রাখতেই রাজ্য সরকারের এই কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।১ লক্ষ টাকা অনুদান ও বিনামূল্যে বিদ্যুৎ অর্থনৈতিক দিক থেকে ছোট ও মাঝারি ক্লাবগুলির পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এ বছর সরকারের তরফ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুজো মণ্ডপের বিদ্যুৎ খরচেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে; পুজো কমিটিগুলির থেকে কোনও বিদ্যুতের টাকা নেওয়া হবে না। তবে অনুদান বণ্টন নিয়ে নিজের নীতি স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আগে এক কর্মসূচিতে বলেছিলাম, যাদের ছোট বাজেট, তাদের দেব। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। তাই সক্ষম বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে বলব, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য নেবেন না। যাদের এই টাকাটা না হলে পুজো করা সম্ভব নয়, তাদের জন্যই সরকার এই ১ লক্ষ টাকা দেবে।’’মহালয়ার আগে নয় উদ্বোধন, হচ্ছে না কার্নিভাল পুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা ও নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাতৃপক্ষের সূচনা অর্থাৎ মহালয়ার আগে কোনও পুজো মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা যাবে না। মহালয়ার পরই সমস্ত পুজো সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্য খোলা যাবে। পাশাপাশি, বিগত সরকারের আমলের মতো রেড রোডে সাড়ম্বরে ‘দুর্গাপুজো কার্নিভাল’-এর আয়োজন এ বছর আর হচ্ছে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে পুজো কমিটিগুলির শিল্প ভাবনাকে উৎসাহিত করতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ‘শারদ সম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠান যথারীতি আয়োজন করা হবে।রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর প্রথম দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সুনির্দিষ্ট রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়েছে বহু ছোট ও মাঝারি পুজো কমিটি।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

অনুদান ১ লক্ষ! অষ্টমীর দিন বন্ধ মদের দোকান, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর