Gyanesh Kumar: খোলা চিঠিতে জ্ঞানেশকে চাপ ৪২ প্রাক্তন বিচারপতির, প্রতিবাদের হ্যাটট্রিক বিরোধীদের!
নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সরব বিরোধী দলগুলি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পর পর তিন দিন দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত করে রেখেছেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা। ঠিক এই চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই কমিশনের পক্ষে সওয়াল করে ময়দানে নামলেন দেশের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি। এক খোলা চিঠিতে তাঁরা অভিযোগ করেছেন, বিনা প্রমাণের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কালিমালিপ্ত করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রাক্তন বিচারপতিদের এমন দ্বিমুখী অবস্থানের জেরে কার্যত তীব্র চাপে পড়ে গিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।গত কয়েক দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আন্দোলন জোরদার করেছে বিরোধী 'ইন্ডি' জোট। মঙ্গল ও বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও সিইসি-র ইস্তফার দাবিতে দিল্লির রাস্তায় নামেন বিরোধী সাংসদরা। মঙ্গলবার সংসদের মকর দ্বার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরুর পর বুধবার যন্তরমন্তরে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ জানান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্যান্য মহিলা সাংসদরা। বৃহস্পতিবার কনট প্লেসে মধ্যাহ্নভোজ সেরে বাসে চেপে রাজঘাটের দিকে রওনা দেন রাহুল গান্ধীরা। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকালে শুরু হয় তুমুল ধস্তাধস্তি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিচারপতিরাও। অন্যদিকে, সূত্রের খবর, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী শুক্রবার বিরোধীদের একটি ১০ জনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি, যে প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।ঠিক এই জটিল সময়ে ৪২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সই করা খোলা চিঠিটি নতুন করে তোলপাড় শুরু করেছে রাজধানী রাজনীতিতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত, বিচারপতি পঙ্কজ মিত্তলদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “যখন ব্যালটের গুরুত্ব হারায়, তখন রাজপথ প্রাধান্য পায়। অরাজকতা ও উগ্রপন্থা শুরু হয় একটি বানানো বয়ানের মধ্য দিয়ে।” কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম না করে চিঠিতে খোঁচা দিয়ে বলা হয়েছে, যাঁরা পাঁচ দশক ধরে দেশ শাসন করেছেন, তাঁরাই হেরে যাওয়ার পর ইভিএম এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। সাংবাদিক বৈঠকে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ করা হলেও আদালতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে না।তবে বিচারাঙ্গনও যে এই ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত, তাও স্পষ্ট। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিন্টন ফালি নরিমান গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, দেশে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার চরম ঝুঁকির মুখে এবং নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করছে তা উদ্বেগজনক। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞাও মন্তব্য করেন, লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে কোনও প্রক্রিয়া সংবিধানের পরিপন্থী।ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ পড়া, কমিশনের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ এবং বিরোধীদের একটানা দিল্লির রাজপথ অচল করে দেওয়ার দাবির মাঝে ৪২ জন বিচারপতির এই চিঠি রাজনৈতিক বিতর্ক আরও উসকে দিল। একদিকে রাজপথে বিরোধীদের ধরণা, অন্যদিকে আইনি প্রজ্ঞার এই তীব্র বাদানুবাদ। সব মিলিয়ে নজিরবিহীন চাপে খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর দফতর।