Gurugram Accident: বাইকার সিয়াকে ২ কিমি তাড়া! গুরুগ্রামের ঘটনায় হাড়হিম তথ্য পুলিশের
নয়াদিল্লি: মদ্যপ অবস্থায় পাব থেকে ফেরা। রাস্তায় এক তরুণীকে অশালীন কটূক্তি এবং তার প্রতিবাদ করায় প্রায় দুই কিলোমিটার গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে বাইককে সজোরে ধাক্কা! গুরুগ্রামের গল্ফ কোর্স রোডে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক হিট-অ্যান্ড-রান মামলায় সামনে এলো মূল অভিযুক্ত কল্যাণ বৈঁসলা এবং তার সঙ্গী লবণীশের হাড়হিম করা কীর্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া মারাত্মক অ্যাকশন ক্যামেরার ভিডিও এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এই বর্বরোচিত ঘটনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।এসআইটি সূত্রের খবর, ৩৩ বছর বয়সী জিম মালিক কল্যাণ বৈঁসলা এবং তার তুতো ভাই লবণীশ (৩৪) গত রবিবার রাতে অন্য দুই বন্ধুর সঙ্গে একটি ক্লাবে মদ্যপান ও পার্টি করে ফিরছিল। গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৩ মেট্রো স্টেশনের কাছে তাদের মারুতি সুজুকি সিয়াজ গাড়িটির সঙ্গে মুখোমুখি হয় জনপ্রিয় নারী বাইকার শিবানী চৌহান ওরফে সিয়ার এপ্রিলিয়া আরএস ৪৫৭ সুপারবাইক। গাড়ি থেকে সিয়াকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করে লবণীশ। সিয়া গাড়িটিকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে চালাতে বললে বচসা বাড়ে। এর পরেই লবণীশের প্ররোচনায় রাগের মাথায় বাইকটিকে ধাওয়া করতে শুরু করে চালকের আসনে থাকা কল্যাণ।খালি রাস্তায় প্রায় ২ কিলোমিটার ধাওয়া করার পর, সিয়ার বাইকের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে কল্যাণ। গতি সামলাতে না পেরে পিচ রাস্তায় আছড়ে পড়ে কয়েক মিটার ঘসে যান সিয়া। ভাগ্যক্রমে হেলমেট ও সুরক্ষাকবচ থাকায় বড়সড় প্রাণহানি থেকে তিনি রক্ষা পান। তবে সিয়ার অ্যাকশন ক্যামেরায় বন্দি হওয়া সেই ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ঘটনার পর রাজস্থানের দৌসা পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। মঙ্গলবার সেখান থেকেই কল্যাণ ও লবণীশকে গ্রেফতার করে হরিয়ানা পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রস্রাব করার অজুহাতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে কল্যাণ। তবে পড়ে গিয়ে চোট পাওয়ায় তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুগ্রামের ডিসিপি (ইস্ট) সন্দীপ কুমার জানিয়েছেন, “অভিযুক্তদের স্পষ্টভাবে মারার উদ্দেশ্যই ছিল। খুনের চেষ্টার ধারাতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।”ইতিমধ্যেই কল্যাণের রক্ত ও মূত্রের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, সে মদ্যপ ছিল কি না তা নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি গাড়িতে থাকা অন্য দুই আরোহীকেও নোটিশ পাঠিয়েছে এসআইটি। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর আক্রান্ত বাইকার সিয়া সাফ জানিয়েছেন, “কেবল গ্রেফতারিতে আমি সন্তুষ্ট নই। এদের কঠোর শাস্তি না হলে দেশে নারী সুরক্ষার পরিস্থিতি বদলাবে না। গাড়িতে থাকা চারজনেরই সমান শাস্তি হওয়া উচিত।”