Mamata Banerjee: দিল্লিতে মমতা, মোদীর ‘পুতুল’ জ্ঞানেশ, অভিযোগ খাড়গের, ইস্তফা চায় কংগ্রেস
নয়াদিল্লি: রাজধানীর রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন থমথমে। বুধবারে দিল্লিতে বসতে চলেছে জাতীয় স্তরের বিরোধী শক্তি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের হাই-ভোল্টেজ মেগা বৈঠক। আর সেই বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজধানী দিল্লিতে পা রেখেছেন। ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিতর্ককে আরও একধাপ উসকে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সিইসি-কে মোদী সরকারের “হাতের পুতুল” আখ্যা দিয়ে তাঁর অবিলম্বে অপসারণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নৈতিক ইস্তফার দাবিতে সরব হলেন তিনি। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) মঞ্চ থেকে তোলা খাড়গের এই রণহুঙ্কার বুধের বিরোধী বৈঠকে প্রতিধ্বনিত হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে। যেখানে দাবি করা হয়, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধ। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রায় ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এখন খাদের কিনারায়।কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং চার রাজ্য কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে খাড়গে অভিযোগ করেন, “দশ বছর আগে যে প্রধানমন্ত্রী ‘নোটবন্দি’ করে ভারতের অর্থনীতি ভেঙে চুরমার করেছিলেন, আজ দশ বছর পর তিনি পরিকল্পিত ‘ভোটবন্দি’র চক্রান্ত করে আমাদের বলিষ্ঠ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছেন। গরিব, দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির একমাত্র শক্তি ভোট দেওয়ার অধিকার, তা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমার সম্পূর্ণভাবে শাসকদলের হয়ে কাজ করছেন এবং তাঁর নিজের সহকর্মীরাই তাঁর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাই তাঁর পদে থাকার কোনও নৈতিক অধিকার নেই।”নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং ভোটাধিকার সুরক্ষায় খাড়গে মূলত ৫ দফা দাবি পেশ করেছেন। এক, ভোটার তালিকায় সমস্ত বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংক্রান্ত তথ্য অবিলম্বে জনসমক্ষে আনতে হবে। দুই. যাদের নাম ছাঁটাই হয়েছে, তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে এবং আপিল করার সুযোগ দিতে হবে। তিন. রাজনৈতিক দলগুলোকে সহজ বিন্যাসে এবং সঠিক সময়ে ভোটার তালিকার ডেটা সরবরাহ করতে হবে। চার. ভোটার তালিকায় বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনায় স্বাধীন ও সময়সীমা নির্দিষ্ট করে তদন্ত করতে হবে। পাঁচ. সার্বিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শতভাগ স্বচ্ছ ও সন্দেহাতীত করতে হবে।যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, খসড়া স্তরে আলোচনার এই মতভেদকে বিরোধ বা অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ হিসেবে দেখা ভুল, কমিশন সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেয়। কিন্তু বিরোধী শিবির এই ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যে আগেই ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খাড়গে বলেন, “এটা স্রেফ কোনও ভোটের হার-জিতের লড়াই নয়, সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষার জাতীয় লড়াই।”বুধবার দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য শীর্ষ বিরোধী নেতাদের উপস্থিতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে এই 'ভোটবন্দি' ও সিইসি-র ইস্তফার দাবিই যে বিরোধীদের মূল হাতিয়ার হতে চলেছে, তা কংগ্রেস সভাপতির এই আগ্রাসী পদক্ষেপে একপ্রকার স্পষ্ট।