Kolkata Police Puja Guide: এই পুজোয় কী চ্যালেঞ্জ কলকাতা পুলিশের? লাখ লাখ বাড়তি গাড়ির বহর ও ভিড় সামলাতে নামছে হাজার হাজার বাহিনী
কলকাতা: দেবীপক্ষের সূচনায় তিলোত্তমা যখন আলোর রোশনাইয়ে সেজে ওঠার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই লালবাজারের অলিন্দে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন? উৎসবের দিনগুলোতে লাখ লাখ ভিড় আর রেকর্ডসংখ্যক নতুন গাড়ির চাপ সামলে শহরকে সচল রাখা সম্ভব হবে তো? শারদোৎসবে শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যানজটমুক্ত কলকাতা উপহার দেওয়াকে পাখির চোখ করে মঙ্গলবার বিশেষ উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশ। লালবাজারে ট্র্যাফিক নির্দেশিকা ও বিশেষ পুজো গাইড ম্যাপ প্রকাশ করলেন কলকাতা পুলিশের নগরপাল অজয় নন্দ। শহরের ২৪৭টি বড় পুজোর নিখুঁত ম্যাপের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য চালু করা হচ্ছে ডিজিটাল গাইড ও বিশেষ হেল্পলাইন। এমনকি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া রোধে শিশুদের জন্য 'চাইল্ড আইডেন্টিটি ব্যাজ'-এরও উদ্বোধন করা হয়।তবে উৎসবের দিনগুলোতে আসল লড়াই যে নিরাপত্তার সঙ্গে যান নিয়ন্ত্রণের, তা একপ্রকার স্পষ্ট নগরপালের কথাতেই। গত তিন বছরে কলকাতার রাস্তায় প্রায় ছ’লক্ষ নতুন গাড়ি নেমেছে। ফলে মা ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে নিউ টাউন সংযোগকারী প্রধান ধমনীগুলিতে যানজট তৈরি হওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কা। সেই আশঙ্কার মোকাবিলায় পুরো শক্তি ঝাঁপিয়ে দিচ্ছে লালবাজার। নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক সামলাতে প্রায় ১২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ২১ হাজার হোমগার্ড রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আপৎকালীন চিকিৎসার জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে ১৪টি সুসজ্জিত অ্যাম্বুল্যান্স।যানজট ও দুর্ঘটনা সামলাতে এবার নেওয়া হয়েছে একাধিক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে না থাকে, তার জন্য প্রতি ৫০০ মিটার অন্তর ক্রেন প্রস্তুত রাখা হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিভাইডার পুনর্গঠনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা থাকছে কন্ট্রোল রুম থেকে। প্রয়োজনমতো ট্র্যাফিক ডাইভার্সন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, দ্রুত দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং দর্শনার্থীদের সহায়তা—এই চার স্তম্ভের ওপর ভর করেই এবার কোমর বাঁধছে লালবাজার। তবে শহরবাসীর প্রশ্ন, এই নিশ্ছিদ্র আয়োজন কি পারবে পুজোর দিনগুলোতে তিলোত্তমাকে যানজটমুক্ত রাখতে? উত্তর মিলবে শারদোৎসবের দিনগুলোতেই।