BJP West Bengal: নবান্ন থেকে জেলা, নিচুতলার কর্মীদের ‘বেপরোয়া’ আচরণে অস্বস্তি বাড়ছে বঙ্গ বিজেপিতে
কলকাতা: নবান্ন থেকে শুরু করে মুরলিধর সেন লেন। রাজ্য রাজনীতির এখন চর্চার কেন্দ্রে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিতর্কিত ভূমিকা। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ভোজবাজির ভুয়া পরিচয় দিয়ে নবান্নে অনুপ্রবেশ ও প্রতারণার অভিযোগ। অন্যদিকে তৃণমূল স্টাইলে তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের দাপট। বঙ্গ বিজেপির নিচুতলার নেতাদের এই লাগামহীন বেপরোয়া আচরণ ও দুর্নীতির বহরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নবান্নের পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি সংগঠনেও শুদ্ধিকরণের কড়া বার্তা জারি করল পদ্ম শিবির।ঘটনার সূত্রপাত নবান্নে। নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সদস্য দাবি করে রাজ্য পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের ঘরে সোজা হাজির হন আকাঙ্খা বিদ্যার্থী নামের এক যুবতী। সঙ্গে আসানসোলের এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার দুই আত্মীয়। উদ্দেশ্য, কোচবিহারের মাথাভাঙায় তাঁদের একটি স্কুল তৈরিতে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় কিছু বিজেপি নেতৃত্ব, সেই 'সমস্যা' মেটাতে হবে! যদিও কথা চলাকালীনই সন্দেহ হওয়ায় খোঁজ নেন মন্ত্রী। জানা যায়, ভূয়ো পরিচয় দিয়ে ঢুকেছিলেন আকাঙ্খা। শিবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় আকাঙ্খাকে।শুক্রবার ট্রানজিট রিমান্ডে হাওড়ায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিজেকে ভারতীয় জন সংঘের সাবেক সাংসদ রাম স্বরূপ বিদ্যার্থীর নাতনি ও সংঘের কর্মী বলে দাবি করেছেন আকাঙ্খা। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতাদের বাধায় স্থানীয় ইসু মেটাতেই তিনি পিএমও-র নাম ভাঁড়িয়েছিলেন। পুলিশ বর্তমানে এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সঙ্গে আসা দুই ব্যক্তিকেও খুঁজছে। তবে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের তোলাবাজি ও দাদাগিরির কারণেই যে এভাবে পিএমও-র ভুয়ো পরিচয় নিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টার ঘটনা ঘটল, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।অন্যদিকে, নিচুতলার এই লাগামহীন আচরণ ও 'তৃণমূলীকরণ' রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। নীতিন নবীনের কড়া বার্তার পরই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে হিসাব চেয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত ৪ মে-র পর থেকে দলীয় কর্মসূচির খরচ কোথায় কত হয়েছে, এবং সেই আয়ের উৎস কী, তার লিখিত হিসাব জমা দিতে হবে মণ্ডল ও জেলা সভাপতিদের।বিজেপির রাজ্য পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের স্পষ্ট নির্দেশ, প্রশিক্ষণ শিবির বা সভা-সমাবেশ যাই হোক না কেন, খরচের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব জেলা ইনচার্জ হয়ে রাজ্য কমিটির কাছে পাঠাতে হবে। আয়ের উৎস ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট, তৃণমূলের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতায় এসে দলের ভেতরেই 'সিন্ডিকেট রাজ' বা পচা শামুকে পা কাটার সুযোগ কোনও ভাবেই দেওয়া হবে না।