PM Narendra Modi: রাজনীতির জলঘোলা উড়িয়ে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি ও বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির ক্ষমতায়নেই পাখির চোখ মোদীর
নয়াদিল্লি: দেশের রাজনৈতিক আবহে চলা যাবতীয় প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করে একচুলও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে নারাজ তিনি। বরং বিশ্বমঞ্চে ভারতের নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন তুলে ধরে বিরোধীদের যাবতীয় বিতর্ক এক লহমায় হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, সংস্কার ভারতের ক্ষেত্রে কোনও বাধ্যবাধকতা নয়, বরং তা দেশের নিজস্ব সংকল্প। ভারতের অগ্রগতি কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে নয়, বরং বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ও বিশ্বের কল্যাণের জন্যই।আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অভাবনীয় বৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিপাডি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ ছুঁয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের (আইএমএফ) পূর্বাভাসকেও স্পর্শ করেছে। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় যথেষ্ট মজবুত। মহামারী পরবর্তী যুদ্ধবিগ্রহ ও বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার মাঝে ভারতই যে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভরসার মূল চালিকাশক্তি, মোদীর কথায় তা নতুন করে ফুটে উঠল।বিশ্বমঞ্চে ভারতের ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোদী ঐতিহ্য ও বিজ্ঞানের সুসমন্বয়ের বার্তা দেন। জানান, ভারতের শাসনব্যবস্থা ‘ক্ষমতায়নের শক্তি’ দর্শনে পরিচালিত। সস্তা মোবাইল ডেটার দরুন ছোট শহরের ছাত্রটি যেমন শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে, তেমনই কোউইন (CoWIN)-এর মতো ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA)-এর মাধ্যমে ভারত নিজের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা সারা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কারণ ভারত বিশ্বাস করে, অন্যের উন্নতিতে সাহায্য করার নামই নিজের অগ্রগতি।গণতন্ত্রের জননী হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ বৈচিত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতে আজ ১০০-রও বেশি ভাষা, ৮০ হাজার নিবন্ধিত সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল ও শক্তি সম্পদকে যখন চাপের অস্ত্র করা হচ্ছে, তখন ভারতের এই অবিচল গণতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত ভিতই বিশ্বকে স্থিতিশীলতার নিশ্চিত আশ্বাস দিচ্ছে। রাজনৈতিক কোলাহল পেছনে ফেলে ভারতের এই আন্তর্জাতিক উত্থানকেই এখন মূল হাতিয়ার করছেন প্রধানমন্ত্রী।