Paragat Singh: অলিম্পিয়ান পরগতের অদম্য জেদেই কি ২০২৭-এ পদ্ম-ঝড় ও আপকে বধ করতে চাইছে কংগ্রেস?
চণ্ডীগড়: সতীর্থদের পাশ কাটিয়ে সোজা প্রতিপক্ষের জালে বল ঠেলে দেওয়ার অভ্যাস তাঁর বহু পুরোন। অলিম্পিকের ময়দানে ভারতীয় হকি দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সেই নির্ভীক অধিনায়ক পরগত সিংকেই এবার পঞ্জাব জয়ের নতুন 'ক্যাপ্টেন' হিসেবে বেছে নিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং পদত্যাগ করার পরই পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (পিসিসি) নতুন সভাপতি পদে বসানো হলো জলন্ধরের বিধায়ক পরগতকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, ২০২৭ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে, বিজেপি-অকালি দল জোটের রাজনৈতিক ছক ও ক্ষমতাসীন আপের মোকাবিলায় অলিম্পিয়ান পরগতের এই 'বিদ্রোহী' ও স্পষ্টবাদী চরিত্রকেই মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে হাত শিবির।হকির টার্ফ থেকে রাজনীতির পিচ, পরগত সিংয়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল শক্তিশালী নেতাদের বিরুদ্ধে সোজা ব্যাটে লড়াই করা। দল কিংবা ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে সত্য বলতে তিনি পিছপা হননি কখনও। ২০১৬ সালে শিরোমণি অকালি দলে থাকাকালীন সুখবীর সিং বাদল ও প্রকাশ সিং বাদলের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির চিঠি লিখে দল ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর ২০২০ সালে নিজের দলের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের দিকেও আঙুল তুলতে দ্বিধা করেননি তিনি। মাদক কাণ্ড, বালি খাদান ও ধর্মগ্রন্থ অবমাননার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে বারবার নিজস্ব সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন এই প্রাক্তন হকি তারকা।পরগতের এই নির্ভীক ও আপসহীন ভাবমূর্তিই এখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের প্রধান চালিকাশক্তি। পঞ্জাবের বর্তমান রাজনীতিতে যখন আম আদমি পার্টির (আপ) বিরুদ্ধে আমজনতার ক্ষোভ বাড়ছে, পাশাপাশি অমৃতপাল সিংয়ের 'ওয়ারিস পঞ্জাব দে'-র মতো কট্টরপন্থী শক্তি ও সম্ভাব্য বিজেপি-অকালি জোট নিজেদের জমি শক্ত করার চেষ্টায় মরিয়া, ঠিক সেই মুহূর্তে পরগত সিংয়ের মতো একজন অলিম্পিয়ান, অর্জুন ও পদ্মশ্রী প্রাপক স্বচ্ছ চেহারার নেতার হাত ধরে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে দল। বিশেষ করে পন্থিক ও শিখ ভোটব্যাঙ্কে তাঁর দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা কংগ্রেসকে এক বাড়তি সুবিধা দেবে।অবশ্য পদপ্রাপ্তির পর পরগত সিংয়ের সামনে চ্যালেঞ্জটাও কিন্তু নেহাত কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে কোন্দলে জর্জরিত পঞ্জাব কংগ্রেসকে এক ছাতার তলায় আনা এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করাই হবে তাঁর প্রথম বড় পরীক্ষা। এর পাশাপাশি আপ সরকারের ব্যর্থতাকে রাজ্য বিধানসভায় তুলে ধরা এবং বিজেপির আগ্রাসী প্রচারকে রুখে দিয়ে ২০২৭-এর নির্বাচনে দলকে জয়ের সরণিতে ফেরানোই এখন অলিম্পিয়ান পরগতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। hockey টার্ফের কঠিন পরিস্থিতি থেকে জয় ছিনিয়ে আনার যে ইতিহাস তাঁর রয়েছে, রাজনীতির ময়দানে তা কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর পুরো দেশের।