Hidden Stories (বাংলা)

"জেল থেকে বেরিয়ে ওই ‘সুগার ডেডি’কেও খুন করব!"

গুয়াহাটি: "জেল থেকে সাজা খেটে বেরিয়ে আসি, তারপর ওই ‘সুগার ডেডি’কেও শেষ করব!"মাথায় হেলমেট, হাতে হাতকড়া, অথচ মুখে অনুশোচনার লেশমাত্র নেই। উল্টে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে এমন হাড়হিম করা হুমকি দিল স্ত্রীকে খুন করে কাটা মাথা ফ্রিজে পুরে রাখা অভিযুক্ত স্বামী। অসমের তরুণী স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামী রামানুজ গোস্বামীকে।  মঙ্গলবার আদালতে যাওয়ার পথে এভাবেই নিজের পরবর্তী 'টার্গেট'-এর কথা জানিয়ে দিল রামানুজ। আর তার এই চাঞ্চল্যকর বয়ানের পর থেকেই পুরো ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে নতুন মোড়। কে এই রহস্যময় ‘সুগার ডেডি’? তবে কি পরকীয়া বা কোনও গোপন আর্থিক সম্পর্কের জেরে হিংসার বসেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তের জাল গুটিয়ে আনছে পুলিশ।ঘটনার নৃশংসতায় কেঁপে উঠেছে গোটা গুয়াহাটি। গত ৬ সেপ্টেম্বর ফ্ল্যাট থেকে বিকট দুর্গন্ধ বেরোতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। নবদম্পতিকে গত দু’দিন ধরে এলাকাতে দেখা না যাওয়া এবং তাঁদের দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে রক্তে ভেসে যাচ্ছে ২৫ বছরের রিয়া তালুকদারের পচন ধরা ক্ষতবিক্ষত দেহ। লাশের হাতের আঙুলগুলোও কেটে দেওয়া হয়েছিল আংশিকভাবে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল, দেহের ওপর ঘাড়ের অংশটিতে মাথা ছিল না! পুলিশ পুরো ঘরজুড়ে তল্লাশি চালাতে চালাতে রান্নাঘরের রেফ্রিজারেটর খুলতেই আঁতকে ওঠে। একটি পলিথিনের প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা ছিল রিয়ার সেই বিচ্ছিন্ন কাটা মুণ্ডুটি।মাত্র কয়েক মাস আগেই রামানুজ ও রিয়ার বিয়ে হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক ছিল স্বামী রামানুজ। গত শুক্রবারের পর তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। অবশেষে পুলিশের লাগাতার তল্লাশির মুখে রবিবার গভীর রাতে নিজে থেকেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করলে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বচসার জেরে কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। তারপর অতি ঠান্ডা মাথায় ধড় থেকে মাথা আলাদা করে তা ফ্রিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখে, যাতে বাইরে দুর্গন্ধ না ছড়ায়।মঙ্গলবার ধৃত রামানুজকে ফের আদালতে তোলার সময়, সাংবাদিকরা যখন তাকে ঘিরে ধরে খুনের কারণ জানতে চান, তখনই নিজের ভয়ঙ্কর রূপ দেখায়। মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে গিয়ে সে চিৎকার করে বলে, "আমার কোনও অনুশোচনা নেই, ক্ষমা চাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না! জেল থেকে বেরোলেই ওই সুগার ডেডিকে শেষ করে দেব।" কে এই 'সুগার ডেডি'? সাংবাদিকরা বারবার সেই ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে সে।তদন্তকারীদের মতে, রামানুজের এই বয়ান তদন্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিশা। সে কি স্ত্রীর কোনও বয়স্ক প্রেমিক বা প্রভাবশালী সাহায্যকারীর উপস্থিতি সহ্য করতে না পেরে ঈর্ষার বশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো জটিল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের খেলা? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, "আমরা ধৃতকে লাগাতার জেরা করে খুনের সঠিক মোটিভ এবং ঘটনাক্রম পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে রামানুজের বলা ওই রহস্যময় ব্যক্তির পরিচয় উদ্ধারের কাজ চলছে।" আপাতত গুয়াহাটির এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড এবং ফ্রিজ থেকে কাটা মুণ্ডু উদ্ধারের ঘটনা পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতজুড়ে এক চরম আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ