Tmc : উপনির্বাচনের আগে আজ কি জোড়াফুল জট কাটবে? কমিশনে ভাগ্যপরীক্ষা মমতা-ঋতব্রতর
কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন জোড়া উপনির্বাচনের আবহেই তুঙ্গে উঠেছে জোড়াফুল শিবিরের অন্দরের রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং 'জোড়াফুল' প্রতীকের প্রকৃত মালিকানা কার ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? এই প্রশ্নে দুই শিবিরের টানাটানির জল গড়িয়েছে দিল্লির নির্বাচন সদন পর্যন্ত। ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র পেশের শেষ দিন। ঠিক সেই দিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের চূড়ান্ত বক্তব্য ও নথিপত্র পেশ করার সময়সীমা শেষ হচ্ছে কালীঘাট শিবিরের। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই কি শেষ পর্যন্ত কাটবে জোড়াফুলের প্রতীক জট?দিল্লির দরবারে জোড়া টানাটানি ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর। দিল্লির নির্বাচন সদনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই ভিন্ন শিবির। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গেই পৃথকভাবে বৈঠক করে কমিশন। কালীঘাট শিবিরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ প্রতিনিধি দল।বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠায় কমিশন। চিঠিতে জানানো হয়, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথিপত্র এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মমতার যদি আর কিছু জানানোর থাকে, তবে তা ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টের মধ্যে কমিশনকে লিখিতভাবে পাঠাতে হবে। জমা দেওয়া সমস্ত নথির কপি ঋতব্রতদের পাঠাতে বলা হয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, তবে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় নির্বাচন সদনে ফের শুনানির আয়োজন করা হতে পারে। তার পরেই জোড়াফুল প্রতীকের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে কমিশন।ঋতব্রতদের জমা দেওয়া নথি ও ডেরেকের পাল্টা তোপ কমিশন সূত্রে খবর, ঋতব্রত শিবির নিজেদের দাবির সপক্ষে একগুচ্ছ নথি জমা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:১১ সেপ্টেম্বর ঋতব্রতের লেখা চিঠি ও ১২ সেপ্টেম্বরের ইমেল।আলিপুর আদালতের ৭ জুলাই, ৩ অগস্ট এবং ৬ অগস্টের নির্দেশের কপি।৫ জুনের একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, যার শিরোনাম ছিল— ‘তৃণমূলকে ঢেলে সাজলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’।১২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সচিবকে লেখা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের চিঠি।তবে শনিবারের বৈঠকের পরেই নতুন করে তৎপরতা শুরু করে কালীঘাট শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে দলের রাজ্যসভার সংসদীয় দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন। ডেরেকের অভিযোগ, ঋতব্রত শিবির ঠিক কী নথিপত্র জমা দিয়েছে, তার স্পষ্ট তথ্য কালীঘাট শিবিরকে জানায়নি কমিশন। এমনকি কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তৃণমূলের মূল সংবিধানের সর্বশেষ আপডেট রাখা হয়নি। ডেরেক চিঠিতে দাবি করেন, দলের বর্তমান সংবিধান মেনে আগামী ২০২৭ সালের আগে চেয়ারপার্সন নির্বাচন হওয়ার কথা নয়। ফলে আইনত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের একচ্ছত্র চেয়ারপার্সন। ঋতব্রতদের তোলা অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের অভিযোগও আইনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।উপনির্বাচন ও 'স্থিতাবস্থা'র অংক আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় উপনির্বাচনে কারা ‘জোড়াফুল’ চিহ্নে লড়বেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।তবে এই ইস্যুতে একেবারেই ব্যাকফুটে যেতে নারাজ কালীঘাট শিবির। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, "কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ বা স্থগিতাদেশ দেয়নি। আমাদের ১৬ ও ১৭ তারিখ হাজির হতে বলেছে। ফলে ‘স্থিতাবস্থা’ (Status Quo) বজায় থাকছে। আমাদের প্রার্থীরা দলের নিজস্ব প্রতীক নিয়েই উপনির্বাচনে লড়বেন।" কালীঘাট শিবিরের অন্দরের যুক্তি, যেহেতু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাই দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে প্রতীক বরাদ্দ করেছিলেন, তাই উপনির্বাচনেও সেই অধিকার তাঁর হাতেই থাকা উচিত।প্রতীক কি ‘ফ্রিজ’ হওয়ার পথে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য অন্য অঙ্ক দেখছেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দুই তরফের অজস্র আইনি নথি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বেশ কঠিন। সে ক্ষেত্রে কমিশন যদি কোনো অন্তর্বর্তী সমাধানে না আসতে পারে, তবে কি উপনির্বাচনের জন্য ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম আপাতত স্থগিত বা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হবে? তেমনটা হলে দুই শিবিরকেই নতুন ও পৃথক প্রতীক নিয়ে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের নির্বাচনী ময়দানে নামতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, দিল্লির নির্বাচন সদনে আজকের দিনের গতিপ্রকৃতির দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।হিডেন স্টোরিজ নিউজ